এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘শিকল-পরার গান’-এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

‘শিকল-পরার গান’ কবিতায় ইংরেজ শাসনের যে দিকটির প্রকাশ ঘটেছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম একজন জাতীয়তাবাদী কবি। তাঁর কাব্যে বিদেশি সরকারের শাসন-শোষণের দিকটি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। তিনি দেখেছেন শাসকের অত্যাচারী মনোভাবের প্রকাশ; দেশশাসনের নামে কীভাবে ভারতবাসীকে লৌহকারাগারে বদ্ধ করে রাখছে ইংরেজ সরকার, তা সামনে থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি—সে কথাই কবি সোচ্চারে ঘোষণা করেছেন ‘শিকল-পরার গান’ কবিতায়।
ব্রিটিশ সরকার এ দেশের বুকে ত্রাসের শাসন কায়েম করেছে; তারা ভাবছে ভয় দেখিয়েই বুঝি দেশের মানুষের মনকে জয় করতে পারবে। কারাগারের লৌহপ্রাচীরের গণ্ডিতে আবদ্ধ রেখে তারা বিপ্লবীদের সকল প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করতে চাইছে। যেন বিশ্বগ্রাসী ক্ষুধা নিয়ে ভারতবাসীকে শোষণ করছে ইংরেজ সরকার; বিধাতার দেওয়া শক্তিকেও হ্রাস করতে চাইছে তারা। কবি তাই বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন—
“তোমরা বন্ধ ঘরের বন্ধনীতে করছ বিশ্ব গ্রাস, আর ত্রাস দেখিয়েই করবে ভাবছ বিধির শক্তি হ্রাস।”
যেসব দেশসেবক মুক্তিমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে দেশকে বিদেশি শাসনের কবল থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ছে, তাদের শিকল পরিয়ে কারাকক্ষে বদ্ধ করে রাখা হচ্ছে, নয়তো ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয়দের সকল প্রকার স্বাধীনতাকে ধূলুণ্ঠিত করা হয়েছে।
এমনই এক নিষ্ঠুর শাসন কায়েম করেছে ইংরেজ সরকার ভারতের বুকে—’শিকল-পরার গান’ কবিতায় কবি নজরুল ইসলাম সেই দিকটিই প্রকাশ করেছেন।
‘শিকল-পরার গান’ কবিতায় কবি নজরুলের দেশপ্রেম কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে, আলোচনা করো।
কবি নজরুল ইসলাম হলেন মুক্তিকামী কবি। ইংরেজ শাসনের হাত থেকে দেশমাতাকে মুক্ত করার বাসনা তিনি মনে মনে পোষণ করতেন। তাই তাঁর বিভিন্ন কবিতায় বিদেশি সরকারের শাসননীতির প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশিত হয়েছে। শাসকের নির্লজ্জ অত্যাচার নীরবে মেনে নিতে পারেননি তিনি। তাই প্রতিবাদ হিসেবে আপন সাহিত্যকে হাতিয়ার করেছিলেন কবি নজরুল। এমনই একটি বিদ্রোহাত্মক কবিতা হলো ‘শিকল-পরার গান’।
ইংরেজ শাসনে ভারতবাসীকে সহ্য করতে হয়েছে তীব্র নিপীড়ন ও লাঞ্ছনা। দেশসেবকগণ হয়েছেন লৌহশৃঙ্খলে আবদ্ধ; লৌহকারায় তাঁদের বন্দি করে রাখা হয়েছে। তবে কবি জানেন যে, ইংরেজের ওই কারাগারে আর বেশিদিন বন্দি রাখা যাবে না ভারতীয়দের। তাই ব্রিটিশ সরকারকে সতর্ক করে দিতে কবি বলেছেন—
“তোদের বন্ধ কারায় আসা মোদের বন্দী হতে নয়, ওরে ক্ষয় করতে আসা মোদের সবার বাঁধন-ভয়।”
কবি আশা করেন ভারতীয়গণ সকল ভয়কে জয় করে দেশমাতার শৃঙ্খলমোচনে ব্রতী হবেন। ইংরেজের ত্রাসের শাসন তাঁরা দীর্ঘদিন মেনে নেবেন না। ফাঁসির মঞ্চে জীবনের জয়গান রচনা করবেন স্বাধীনতা-সংগ্রামীগণ। কবি মনে করেন অত্যাচারী ইংরেজ শাসকদের এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করার জন্য দেশবাসী প্রয়োজনে আপন অস্থি দিয়েই বজ্রানল প্রজ্বলিত করবে।
এভাবে আলোচ্য কবিতায় ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের বিদ্রোহ ও সংগ্রামের দিকটি যেমন তুলে ধরেছেন কবি নজরুল, তেমনই দেশমাতার প্রতি তাঁর হৃদয়ের দরদ বা প্রীতির কথাও তিনি ব্যক্ত করেছেন। ইংরেজ শাসনের প্রতি তাঁর ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমেই বোঝা যায় যে, তাঁর দেশপ্রেম ছিল গভীর ও নিখাদ।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘শিকল-পরার গান’-এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন