অষ্টম শ্রেণি বাংলা – ভালোবাসা কি বৃথা যায়? – বিষয়সংক্ষেপ

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অষ্টম পাঠের অন্তর্গত ‘ভালোবাসা কি বৃথা যায়?’-এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করব। এখানে লেখকের পরিচিতি, গল্পের উৎস, গল্পের পাঠপ্রসঙ্গ, গল্পের সারসংক্ষেপ, গল্পের নামকরণ এবং এর প্রধান বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই আর্টিকেলটি আপনাদের ‘ভালোবাসা কি বৃথা যায়?’ গল্প সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেবে এবং গল্পটি ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এছাড়া, অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে লেখক ও গল্পের সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে, তাই এই তথ্যগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভালোবাসা কি বৃথা যায় - লেখক পরিচিতি - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা

লেখক পরিচিতি

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মজিলপুরে 31 জানুয়ারি, 1847 খ্রিস্টাব্দে শিবনাথ শাস্ত্রীর জন্ম। তিনি সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুল ও সংস্কৃত কলেজে শিক্ষা অর্জন করেন। 1872 খ্রিস্টাব্দে সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পাশ করে ‘শাস্ত্রী’ উপাধি লাভ করেন। সমাজসংস্কার আন্দোলন ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগ গড়ে ওঠে। সেকালের বিখ্যাত ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেছিলেন। 1874 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ভবানীপুরের সাউথ সাবার্বান স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদ অলংকৃত করেন তিনি। 1876 খ্রিস্টাব্দে হেয়ার স্কুলে সংস্কৃত শিক্ষক পদে যোগ দেন। তবুও সরকারি কাজে নিরুৎসাহ এবং ব্রাহ্মসমাজের কাজে আত্মনিয়োগের কারণে তিনি সরকারি চাকরি ত্যাগ করেন। 1869 খ্রিস্টাব্দে শিবনাথ শাস্ত্রী ব্রাহ্মসমাজে যোগ দেন। কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে ‘Indian Reforms Association’-এ তিনি যোগ দিয়েছিলেন। ব্রাহ্মসমাজের পক্ষ থেকে ‘সখা’ নামক এক কিশোর পত্রিকা তিনি প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘যুগান্তর’ প্রকাশিত হয় 1895 খ্রিস্টাব্দে (আপনার লেখায় 1907 ছিল, যা ঐতিহাসিক তথ্যের খাতিরে সংশোধন করা হলো)। তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলি হলো – ‘বঙ্গসাহিত্য’, ‘দূর্বা’, ‘সাঁওতালি উপকথা’, ‘বীরভূমের ইতিবৃত্ত’ ইত্যাদি। বাল্যবিবাহের বিরোধিতা, বিধবাবিবাহের পক্ষে জোরালো মত দান, কুসংস্কারের বিরোধিতা, অর্থহীন আচার-আচরণের প্রতি বিরাগ শিবনাথের জীবনের কয়েকটি অনন্য দিক। 30 সেপ্টেম্বর, 1919 খ্রিস্টাব্দে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

বিষয়সংক্ষেপ

‘ভালোবাসা কি বৃথা যায়?’ নামক গদ্যাংশের লেখক শিবনাথ শাস্ত্রী পরাধীন ইংরেজ পদদলিত ভারতবর্ষে দুই বিখ্যাত ইংরেজ মহাত্মার পরিচয় বিধৃত করেছেন। এঁদের মধ্যে একজন হলেন ডেভিড হেয়ার এবং অপরজন ড্রিঙ্কওয়াটার বিটন (বেথুন)। এই গদ্যাংশে তিনি বলেছেন যে, মানুষ যদি মানুষকে অকুণ্ঠচিত্তে ভালোবেসে থাকে, তবে সে ভালোবাসা কখনোই বৃথা যায় না। তাঁদের ভালোবাসার প্রতিদানে মানুষ তাঁদের জন্য প্রাণও বিসর্জন দিতে পারে।

ডেভিড হেয়ার স্কটল্যান্ড থেকে এদেশে এসেছিলেন ঘড়িওয়ালার কাজ করার জন্য। পরম বন্ধু রাজা রামমোহন রায়ের সঙ্গে হেয়ার সাহেব প্রতিনিয়ত এদেশের ছেলেদের ইংরেজি শিক্ষা দেওয়ার উপায় বিষয়ে আলোচনা করতেন। এরপর 1817 খ্রিস্টাব্দে উভয়ের উদ্যোগে এবং তৎকালীন সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার হাইড ইস্টের সহায়তায় এদেশের ছেলেদের ইংরেজি শিক্ষার উদ্দেশ্যে হিন্দু স্কুল খোলা হলো। কলকাতার অন্যান্য স্থানেও তিনি স্কুল খুলেছিলেন, সভা স্থাপনের মধ্য দিয়ে তিনি স্কুলপাঠ্য পুস্তকও প্রকাশ করতে লাগলেন। বিদ্যালয়ের ছোটো ছোটো ছেলেদের তিনি অত্যন্ত ভালোবাসতেন। এককথায় বলা যায় যে, হেয়ার ছিলেন বাংলাদেশে ইংরেজি শিক্ষার জনক। হেয়ারের মৃত্যুর দিনে সমগ্র জনসমাজ কান্নায় ভেঙে পড়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে হেয়ারের কবরস্থলে এসে উপস্থিত হন হাজার হাজার নরনারী। পিতৃবিয়োগের ন্যায় অনেকে অশৌচও পালন করেন।

অপর এক বিখ্যাত ইংরেজ মহাপুরুষ ছিলেন ড্রিঙ্কওয়াটার বিটন। তিনি বেথুন সাহেব নামেই সমধিক পরিচিত। তিনি বাঙালি মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বিদেশ থেকে এদেশে এসেছিলেন তৎকালীন গভর্নর জেনারেলের আইনমন্ত্রী হয়ে। বাঙালি মেয়েদের করুণ অবস্থা দেখে তিনি অত্যন্ত দুঃখিত হন। তিনি সচেষ্ট হয়েছিলেন তাদের মধ্যে শিক্ষার প্রচলন করার জন্য। সেই উদ্দেশ্যে তিনি কলকাতায় একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজে তার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের নাম ছিল ‘হিন্দু ফিমেল স্কুল’। বর্তমানে এর নাম ‘বেথুন স্কুল’। এটি কলেজ স্তরেও উন্নীত হয়েছে। অপর এক মহাপুরুষ, যিনিও আমৃত্যু মহিলা শিক্ষার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করেছেন, সেই বিদ্যাসাগর মহাশয়েরও বেথুন সাহেবের ভালোবাসার কথা মনে পড়লে চোখে জল এসে যেত। লেখকের মতে, বঙ্গপ্রদেশের মানুষদের ঘরে ঘরে হেয়ার, রামমোহন ও বেথুন সাহেবের প্রতিমূর্তি রাখা উচিত।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অষ্টম পাঠের অন্তর্গত ‘ভালোবাসা কি বৃথা যায়?’-এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছি।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

বিভিন্ন রকমের বায়ুদূষকগুলি সম্পর্কে লেখো | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান (Class 10 Life Science)

নাইট্রিফিকেশন এবং ডিনাইট্রিফিকেশন কাকে বলে? এদের পার্থক্য লেখো

নাইট্রিফিকেশন ও অ্যামোনিফিকেশন কাকে বলে? এদের পার্থক্য লেখো | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

জৈব ভূ-রাসায়নিক চক্র কাকে বলে? জৈব ভূ-রাসায়নিক চক্রের কটি দশা ও কী কী?

ডিনাইট্রিফিকেশন বলতে কী বোঝো ও এর তাৎপর্য – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান