অষ্টম শ্রেণি বাংলা – সুভা – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘সুভা’-এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

সুভা - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা - রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

‘প্রকৃতি যেন তাহার ভাষার অভাব পূরণ করিয়া দেয়’—মানুষের ভাষার অভাব কীভাবে প্রকৃতি পূরণ করতে পারে, তা আলোচনা করো।

প্রকৃতির বিবিধ শব্দ, বিচিত্র গতি বোবার ভাষার মতোই। প্রকৃতি নিজে কথা বলতে পারে না। কিন্তু প্রকৃতির সব ইঙ্গিত, ভঙ্গি, সংগীত, এমনকি দীর্ঘনিশ্বাসও মানুষের ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।

সুভার সঙ্গে মনুষ্যেতর প্রাণীর বন্ধুত্ব কেমন ছিল তা লেখো।

সুভার যে অল্প কিছু বন্ধু ছিল, তারা প্রায় সবাই মনুষ্যেতর প্রাণী—সর্বশী ও পাঙ্গুলি নামে দুটি গাই, একটি বিড়ালশাবক এবং একটি ছাগল। গাভী দুটি সুভার পায়ের আওয়াজ বুঝত। সুভার আদর, ভর্ৎসনা, মিনতি—সবই তারা বুঝতে পারত। সুভা দুই হাত দিয়ে সর্বশীর গলা জড়িয়ে তার কানের কাছে গাল ঘষত যখন, তখন পাঙ্গুলি স্নেহের দৃষ্টিতে তাকে দেখত আর গা চেটে দিত। বাড়িতে যদি সুভাকে কেউ কঠিন কথা বলত, সুভা এই গাই দুটির কাছে চলে আসত। তারা সুভার মর্মবেদনা যেন বুঝতে পেরে, তার বাহুতে শিং ঘষে ঘষে তাকে নির্বাক ব্যাকুলতার সঙ্গে সান্ত্বনা দিত। বিড়ালশিশুটি সুভার কোলে নিঃসংকোচে যখন সুখনিদ্রার ব্যবস্থা করত, সুভা তার গলায় ও পিঠে হাত বুলিয়ে ঘুমোতে সহায়তা করত।

শুক্লা দ্বাদশীর রাত্রিতে সুভার মনের অবস্থা কেমন ছিল? তার মনের অবস্থা এরকম হওয়ার কারণ কী?

শুক্লা দ্বাদশীর রাতে সুভা শয়নগৃহ থেকে বাইরে এসে তার চিরপরিচিত নদীর তীরে কচি ঘাসের উপর শুয়ে আকুল হয়ে যেন ধরণীকে জড়িয়ে ধরে বলতে চেয়েছিল, প্রকাণ্ড মূক মানবমাতা যেন তাকে যেতে না দেন। দুই বাহু দিয়ে যেন তাকে ধরে রাখেন। সুভার ইচ্ছা ছিল না তার গ্রাম, মনুষ্যেতর বন্ধুদের ছেড়ে যেতে। সে কথা বলতে পারে না, তাই নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশে সে মানিয়ে নিতে পারবে উল্লেখযোগ্যভাবে। তাই সে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।

গল্পের একেবারে শেষ বাক্যটি গল্পের ক্ষেত্রে কতখানি প্রয়োজন, আলোচনা করো।

‘সুভা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভাগ্যবিড়ম্বিতা এক পল্লিকিশোরীর করুণ জীবনচিত্র তুলে ধরেছেন। এ গল্পে সুভার মূক জীবনের যন্ত্রণা ও বিড়ম্বনার কথা বলতে গিয়ে লেখক সমকালীন নিষ্ঠুর, অমানবিক সমাজের ছবিও প্রকাশ করেছেন। গল্পের শেষ বাক্যটি সেই সমাজের যান্ত্রিক, অমানবিক পুরুষতন্ত্রের পরিচায়ক। তাই সুভাকে মানবিক মর্যাদা না দিয়ে, তার প্রাণের ভাষা না বুঝে, তার হৃদয়ার্তি অনুভব না করে, তার দ্বিতীয় বিবাহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সঙ্গতভাবেই সে নারীকে তুল্যমূল্য যাচাই করা তার হীন, নীচ মানসিকতারই প্রকাশ। পাশাপাশি বাপের বাড়ির মতো শ্বশুরবাড়িতেও অবহেলিত সুভার জীবন সতীন আগমনে আরও বিপন্ন, বিভীষিকাময় হয়ে ওঠার ইঙ্গিতও এ বাক্যে প্রচ্ছন্ন।

মানুষ ও মনুষ্যেতর প্রাণীর বন্ধুত্ব নিয়ে আরও দু-একটি গল্পের নাম লেখো এবং ‘সুভা’ গল্পটির সঙ্গে তুলনা করো।

প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ‘আদরিণী’ ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মহেশ’ নামক ছোটোগল্পে মানুষ ও মনুষ্যেতর প্রাণীর বন্ধুত্ব চিত্রিত হয়েছে। এছাড়াও তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালাপাহাড়’ও এ জাতীয় গল্প। উপরের 3টি গল্পে মনুষ্যেতর প্রাণীর সঙ্গে বন্ধুত্ব, স্নেহ, ভালোবাসার কথা থাকলেও, ‘সুভা’ গল্পের প্রধান চরিত্র সুভা নিজে। মনুষ্যেতর চরিত্রের প্রাধান্য এই গল্পে নেই; অথচ উপরের 3টি গল্পেই মনুষ্যেতর চরিত্রই প্রাধান্য পেয়েছে। সুভা মনুষ্যেতর প্রাণীগুলিকে ভালোবেসে তার কষ্টের প্রকাশ করেছে শুধু ভাব বিনিময়ের মধ্য দিয়ে।

সুভা গল্পে সুভা চরিত্রটি বিষয়ে আলোচনা করো।

চণ্ডীপুর গ্রামের বাণীকণ্ঠের 3 মেয়ের কনিষ্ঠাটির নাম সুভাষিণী। সংক্ষেপে সুভা বলে ডাকে সবাই। সুভা মূক বা বোবা। সে কথা না বলতে পারলেও তার অনুভব শক্তি ছিল প্রখর। তাই তার ওষ্ঠাধর ভাবের আভাসমাত্রেই কচি কিশলয়ের মতো কেঁপে উঠত। সুভার সুদীর্ঘ পল্লববিশিষ্ট বড়ো বড়ো দুটি কালো চোখ ছিল। সুভার মন আপনিই তার ওপর ছায়া ফেলে ভাব বুঝিয়ে দিত। সাধারণ ছেলেমেয়েরা তার সঙ্গে খেলা করতে চাইত না, তাই তার বন্ধু ছিল তাদের গোয়ালের দুটি গাভী—সর্বশী ও পাঙ্গুলি, আর একটি ছাগল ও একটি বিড়ালছানা। মানুষদের মধ্যে সুভার একটি সঙ্গী ছিল, গোঁসাইদের নিষ্কর্মা ছোটো ছেলে প্রতাপ। সুভা তেঁতুলতলায় বসে বসে দেখত প্রতাপের মাছ ধরা আর ইচ্ছা করত প্রতাপকে কোনো একটা বিশেষ সাহায্য করতে। নিজে প্রতাপের জন্য একটা করে পান সেজে এনে দিত। মনে মনে ঈশ্বরের কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত প্রতাপের সামনে আশ্চর্য কাণ্ড ঘটানোর জন্য।

সুভা গল্পে প্রতাপ চরিত্রটি বিষয়ে আলোচনা করো।

গোঁসাইদের ছোটো ছেলে প্রতাপ নিতান্তই অকর্মণ্য। সে যে কাজকর্ম করে সংসারের উন্নতি করবে, সে আশা তার বাবা-মা ত্যাগ করেছেন। প্রতাপের প্রধান শখ ছিল ছিপ ফেলে মাছ ধরা। বিকেলে নদীর ধারে তাকে প্রায়ই এই কাজে নিযুক্ত দেখা যেত। এই উপলক্ষেই সুভার সঙ্গে তার প্রায়ই দেখা হত। বাক্যহীনা এই সঙ্গীটিকে প্রতাপ মর্যাদা দিত। সুভাকে সে ‘সু’ বলে ডাকত। সুভার বিবাহের ঠিক হলে সে সুভাকে বলেছিল— ‘কী রে, সু, তোর নাকি বর পাওয়া গেছে, তুই বিয়ে করতে যাচ্ছিস? দেখিস, আমাদের ভুলিস নে।’ এই কথা সুভাকে মনে মনে বেদনার্ত করলেও প্রতাপ তা বোঝেনি। যদিও সুভা তাকে খুব আপন মনে করত।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘সুভা’-এর কিছু ‘রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

মেঘ ও বৃষ্টি - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – মেঘ ও বৃষ্টি (পঞ্চম অধ্যায়) – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

মেঘ ও বৃষ্টি - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – মেঘ ও বৃষ্টি (পঞ্চম অধ্যায়) – টীকা

মেঘ ও বৃষ্টি - অষ্টম শ্রেণি ভূগোল - সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – মেঘ ও বৃষ্টি (পঞ্চম অধ্যায়) – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – মেঘ ও বৃষ্টি (পঞ্চম অধ্যায়) – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – মেঘ ও বৃষ্টি (পঞ্চম অধ্যায়) – টীকা

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – মেঘ ও বৃষ্টি (পঞ্চম অধ্যায়) – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ভূগোল – মেঘ ও বৃষ্টি (পঞ্চম অধ্যায়) – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

অষ্টম শ্রেণির ভূগোল – চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর