আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের পঞ্চম পাঠের প্রথম অধ্যায়, ‘ভাঙার গান’ -এর কিছু অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি
সঠিক উত্তর নির্বাচন করো
কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম হয়-
- 1885 খ্রিস্টাব্দের 24 মে
- 1889 খ্রিস্টাব্দের 23 মে
- 1899 খ্রিস্টাব্দের 24 মে
- 1890 খ্রিস্টাব্দের 22 জুন
উত্তর – 3. 1899 খ্রিস্টাব্দের 24 মে
কাজী নজরুল ইসলাম সুপরিচিত –
- ‘বিশ্বকবি’ রূপে
- ‘দুঃখের কবি’ রূপে
- ‘কিশোর কবি’ রূপে
- ‘বিদ্রোহী কবি’ রূপে
উত্তর – 4. ‘বিদ্রোহী কবি’ রূপে
কবি নজরুল কোন্ দেশের জাতীয় কবিরূপে সম্মানিত? –
- ভারত
- বাংলাদেশ
- মায়ানমার
- ভুটান
উত্তর – 2. বাংলাদেশ
বাংলা সাহিত্যজগতে যে কবি প্রথম সাহিত্যকীর্তির জন্য কারাদণ্ড ভোগ করেন তিনি হলেন –
- সুকান্ত ভট্টাচার্য
- প্রেমেন্দ্র মিত্র
- মুকুন্দ চক্রবর্তী
- কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর – 3. কাজী নজরুল ইসলাম
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম মুদ্রিত কবিতা কোনটি? –
- মুক্তি
- সাম্যবাদী
- বিদ্রোহী
- হিন্দু মুসলমান
উত্তর – 1. মুক্তি
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ হল –
- অগ্নিবীণা
- ঝিঙে ফুল
- বিষের বাঁশি
- দোলন চাঁপা
উত্তর – 1. অগ্নিবীণা
কাজী নজরুল ইসলাম কোন্ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন? –
- ভারতী
- ধূমকেতু
- প্রগতি
- পরিচয়
উত্তর – 2. ধূমকেতু
‘ভাঙার গান’ কবিতাটির রচয়িতা –
- কাজী নজরুল ইসলাম
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
উত্তর – 1. কাজী নজরুল ইসলাম
‘ভাঙার গান’ কবিতাটির রচনাকাল –
- 1924 খ্রিস্টাব্দ
- 1925 খ্রিস্টাব্দ
- 1926 খ্রিস্টাব্দ
- 1922 খ্রিস্টাব্দ
উত্তর – 4. 1922 খ্রিস্টাব্দ
‘ভাঙার গান’ কবিতাটি প্রকাশিত হয় যে পত্রিকায় তা হল –
- প্রদীপ
- লাঙল
- বাংলার কথা
- প্রবাসী
উত্তর – 3. বাংলার কথা
‘ভাঙার গান’ কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশকাল –
- 1924 খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাস
- 1924 খ্রিস্টাব্দের জুন মাস
- 1923 খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাস
- 1923 খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাস
উত্তর – 1. 1924 খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাস
‘ভাঙার গান’ কবিতাটি কোন্ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া? –
- ভাঙার গান
- অগ্নিবীণা
- সাম্যবাদী
- সর্বহারা
উত্তর – 1. ভাঙার গান
‘ভাঙার গান’ কাব্যগ্রন্থটি বাজেয়াপ্ত হয় –
- 1924 খ্রিস্টাব্দের 11 নভেম্বর
- 1925 খ্রিস্টাব্দের 25 নভেম্বর
- 1926 খ্রিস্টাব্দের 26 নভেম্বর
- 1923 খ্রিস্টাব্দের 11 নভেম্বর
উত্তর – 1. 1924 খ্রিস্টাব্দের 11 নভেম্বর
‘ভাঙার গান’ গ্রন্থটি কবি উৎসর্গ করেন –
- মেদিনীপুরবাসীর উদ্দেশে
- ভারতবাসীর উদ্দেশে
- বঙ্গবাসীর উদ্দেশে
- কলকাতাবাসীর উদ্দেশে
উত্তর – 1. মেদিনীপুরবাসীর উদ্দেশে
যে নেতার বন্দিদশায় নজরুল রচনা করেন ‘ভাঙার গান’ তিনি হলেন –
- অরবিন্দ ঘোষ
- ক্ষুদিরাম বসু
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
- প্রফুল্ল চাকী
উত্তর – 3. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
‘ভাঙার গান’ গানটি মানুষের কাছে জনপ্রিয় কি নামে? –
- জাগরণের গান
- ভাঙার গান
- বিদ্রোহের গান
- আশার গান
উত্তর – 2. ভাঙার গান
‘ভাঙার গান’ গানটি যে চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত তা হল –
- জীবনপুরের পথিক
- দেওয়া-নেওয়া
- জীবন থেকে নেওয়া
- মেঘে ঢাকা তারা
উত্তর – 3. জীবন থেকে নেওয়া
‘কারা’ বলতে বোঝায় –
- মহাফেজখানা
- বৈঠকখানা
- জেলখানা
- ডাক্তারখানা
উত্তর – 3. জেলখানা
‘কারার ওই লৌহ-কপাট’ – ‘লৌহ-কপাট’ বলতে বোঝানো হয়েছে-
- লোহার শিকল
- লোহার দরজা
- লোহার জানলা
- লোহার সিন্দুক
উত্তর – 2. লোহার দরজা
‘কারার ওই লৌহ-কপাট’ – কী করতে হবে? –
- নতুন করে গড়তে হবে
- যত্ন করতে হবে
- ভেঙে লোপাট করতে হবে
- দেখতে হবে
উত্তর – 3. ভেঙে লোপাট করতে হবে
শিকল-পুজোর পাষাণবেদিতে জমাট বেঁধে আছে –
- অশ্রু
- রক্ত
- আনন্দ
- স্মৃতি
উত্তর – 2. রক্ত
শিকল-পুজোর বেদি কেমন? –
- সোনার
- রুপোর
- পাষাণ
- তামার
উত্তর – 3. পাষাণ
“রক্তজমাট। ___ -পূজোর পাষাণ-বেদী!” –
- ঈশ্বর
- দেশপ্রেমিক
- শিকল
- তরবারি
উত্তর – 3. শিকল
“ওরে ও ___ ঈশান”! শূন্যস্থানে হবে –
- বালক
- তরুণ
- বৃদ্ধ
- শিশু
উত্তর – 2. তরুণ
কবিতায় কী বাজাতে বলা হচ্ছে? –
- প্রলয় ঢাক
- প্রলয় বিষাণ
- প্রলয় বাঁশি
- প্রলয় শঙ্খ
উত্তর – 2. প্রলয় বিষাণ
‘বিষাণ’ – শব্দটির অর্থ হল –
- সানাই
- ঢাক
- শিঙা
- বেহালা
উত্তর – 3. শিঙা
‘ধ্বংস-নিশান’ – ‘নিশান’ শব্দের অর্থ –
- পতাকা
- নৌকা
- রথ
- চিহ্ন
উত্তর – 1. পতাকা
ধ্বংস নিশান কোথায় উড়বে? –
- প্রাচীর ভেদ করে
- অট্টালিকা ভেদ করে
- যজ্ঞভূমি ভেদ করে
- পাষাণবেদি ভেদ করে
উত্তর – 1. প্রাচীর ভেদ করে
‘উড়ুক প্রাচী’র প্রাচীর ভেদি’ – এখানে “প্রাচী’র” কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? –
- প্রাকার অর্থে
- পৃথিবীর পূর্বাঞ্চল তথা ভারতবর্ষ অর্থে
- বিদেশ তথা পাশ্চাত্য অর্থে
- পূর্বোক্ত কোনোটিই নয়
উত্তর – 2. পৃথিবীর পূর্বাঞ্চল তথা ভারতবর্ষ অর্থে
কীসের ‘বাজনা’ বাজাবে? –
- গাজনের
- পুজোর
- রথযাত্রার
- বোধনের
উত্তর – 1. গাজনের
কবিতাটিতে বাঙালির যে আঞ্চলিক উৎসবের কথা আছে তা হল –
- গাজন
- রাস
- বিবির মেলা
- রথযাত্রা
উত্তর – 1. গাজন
‘গাজন’ যে মাসে অনুষ্ঠিত হয় সেটি হল –
- চৈত্র
- শ্রাবণ
- ভাদ্র
- মাঘ
উত্তর – 1. চৈত্র
‘কে দেয় সাজা’ – ‘সাজা’ দেবে কাকে? –
- মুক্ত স্বাধীন সত্যকে
- মুক্ত স্বাধীন বিপ্লবীকে
- মুক্ত স্বাধীন মিথ্যাকে
- মুক্ত স্বাধীন ভারতীয়কে
উত্তর – 1. মুক্ত স্বাধীন সত্যকে
‘হা হা হা পায় যে হাসি’ – হাসি পায় কেন? –
- বিপ্লবী পরবে ফাঁসি
- শয়তান পরবে ফাঁসি
- ভগবান পরবে ফাঁসি
- ডাকাতেরা পরবে ফাঁসি
উত্তর – 3. ভগবান পরবে ফাঁসি
কার ফাঁসির কথা শুনে কবির হাসি পায়? –
- মানুষ
- ভগবান
- শয়তান
- ভূত
উত্তর – 2. ভগবান
‘___/শিখায় এ হীন তথ্য কে রে?’ – শূন্যস্থান পূরণ করো। –
- সর্বনাশী
- বিধ্বংসী
- ভয়ংকর
- মঙ্গলময়
উত্তর – 1. সর্বনাশী
‘সর্বনাশী শিখায় …’ – কী শিক্ষা দেয়? –
- ভুল তথ্য
- হীন তথ্য
- সঠিক তথ্য
- অর্থহীন তথ্য
উত্তর – 2. হীন তথ্য
কবিতায় যে দেবতার নাম উল্লেখ আছে তিনি হলেন? –
- ব্রহ্মা
- পাগলা ভোলা
- বনবিবি
- দক্ষিণ রায়
উত্তর – 2. পাগলা ভোলা
‘পাগলা ভোলা’ – কে কী দিতে বলা হয়েছে? –
- প্রলয় ঠেলা
- প্রলয় দোলা
- প্রলয় নাচন
- প্রলয় বাধা
উত্তর – 2. প্রলয় দোলা
‘গারদগুলো’ – কে কী করবে?
- জোরসে-ধরে হ্যাঁচকা টান দেবে
- খুলে ফেলবে
- বন্ধ করবে
- ভেঙে ফেলবে
উত্তর – 1. জোরসে-ধরে হ্যাঁচকা টান দেবে
‘মার হাঁক’ – কেমন হাঁক?
- জোরালো
- ভয়ংকর
- হৈদরী
- মৃদু
উত্তর – 3. হৈদরী
‘হৈদরী হাঁক’ হল –
- উচ্চৈঃস্বরে ডাকা
- নীচুস্বরে ডাকা
- গানের সুরে ডাকা
- কান্নার সুরে ডাকা
উত্তর – 1. উচ্চৈঃস্বরে ডাকা
‘মৃত্যুকে ডাক’ – কোন্ দিকে ডাকবে? –
- জীবন পানে
- সমুখপানে
- ঊর্ধ্বপানে
- আকাশপানে
উত্তর – 1. জীবন পানে
‘নাচে ওই ___/কাটাবি কাল বসে কি?’ –
- পাগলা ভোলা
- কাল-বোশেখি
- তরুণ ঈশান
- সর্বনাশী শিখা
উত্তর – 2. কাল-বোশেখি
‘দেরে দেখি …’ – কী দিতে বলা হচ্ছে? –
- আগুন জ্বালিয়ে
- নষ্ট করে
- ভীম কারার ভিত্তি নাড়িয়ে
- ধ্বংস করে
উত্তর – 3. ভীম কারার ভিত্তি নাড়িয়ে
“দেরে দেখি/ভীম কারার ওই ভিত্তি নাড়ি!” – ‘ভীম’ কথার অর্থ হল –
- ভয়ংকর
- সুন্দর
- স্বার্থপর
- শক্তিশালী
উত্তর – 1. ভয়ংকর
তালা কীভাবে ভাঙতে বলা হচ্ছে? –
- হাতুড়ি দিয়ে
- শাবল দিয়ে
- লাথি মেরে
- বন্দুক দিয়ে
উত্তর – 3. লাথি মেরে
কবি কোথায় আগুন জ্বালাতে বলেছেন? –
- মন্দিরে
- মসজিদে
- অস্ত্রাগারে
- বন্দিশালায়
উত্তর – 4. বন্দিশালায়
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
‘ভাঙার গান’ কবিতার কবির নাম লেখো।
‘ভাঙার গান’ কবিতার কবির নাম হল কাজী নজরুল ইসলাম।
‘ভাঙার গান’ কবিতাটি প্রথম কী নামে প্রকাশিত হয়েছিল?
‘ভাঙার গান’ কবিতাটি প্রথম ‘ভাঙার গান’ নামেই প্রকাশিত হয়েছিল।
‘ভাঙার গান’ কবিতাটি কখন কবি লেখেন?
অসহযোগ আন্দোলন চলাকালীন 1921 খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী বাসন্তীদেবীর অনুরোধে ‘বাংলার কথা’ পত্রিকার জন্য কাজী নজরুল ইসলাম ‘ভাঙার গান’ কবিতাটি লেখেন।
‘কারার ওই লৌহ-কপাট’ – কোন্ ‘কারা’র কথা বলা হচ্ছে?
আলোচ্য কবিতায় ‘কারা’ বলতে ইংরেজদের কারাগারের কথা বলা হয়েছে।
‘কারার ওই লৌহ-কপাট’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
কাজী নজরুল ইসলাম ‘ভাঙার গান’ কবিতায় ভারতীয় বীর বিপ্লবীদের বন্দি করার উদ্দেশে অত্যাচারী ইংরেজ সরকার নির্মিত জেলখানার লোহার আগলকে ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ বলেছেন।
‘ভেঙে ফেল, কররে লোপাট’ – ‘লোপাট’ শব্দটির অর্থ কী?
সংস্কৃত লোপ + বাংলা আট = লোপাট; যার অর্থ ‘নিশ্চিহ্ন’ বা ‘একেবারে উড়িয়ে দেওয়া’।
‘ভেঙে ফেল, কররে লোপাট’ – কাদের প্রতি কার এই নির্দেশ?
ইংরেজদের কারাগারে বন্দি ভারতীয় বিপ্লবীদের উদ্দেশে বিদ্রোহী কবি নজরুল ‘ভাঙার গান’ কবিতায় এই নির্দেশ দিয়েছেন।
‘ভেঙে ফেল, কররে লোপাট’ – কী ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়েছে?
কবি নজরুল তাঁর ‘ভাঙার গান’ কবিতায় বন্দি বিপ্লবীদের কারাগারের লোহার দরজা ভাঙতে নির্দেশ দিয়েছেন।
‘শিকল-পুজোর পাষাণ-বেদী’-তে কাদের রক্ত জমাট হয়ে আছে?
‘ভাঙার গান’ কবিতায় নজরুল বলেছেন যে, শিকলপুজোর পাষাণবেদিতে ব্রিটিশ সরকারের দ্বারা অত্যাচারিত ভারতের বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের রক্ত জমাট হয়ে আছে।
‘রক্ত-জমাট/শিকল-পুজোর পাষাণ-বেদী’ – এখানে ‘পাষাণ-বেদী’ কথার অর্থ কী?
‘ভাঙার গান’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম পরাধীন ভারতবর্ষে ইংরেজদের কারাগারে বন্দি বীর বিপ্লবীদের রক্তে জমাট বেদিকে ‘পাষাণ বেদী’ বলেছেন। ইংরেজদের বন্দিশালাই আসলে এখানে ‘পাষাণ-বেদী’।
“ওরে ও তরুণ ঈশান!” – ‘ঈশান’ কথার অর্থ লেখো।
বিদ্রোহী কবি নজরুলের ‘ভাঙার গান’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশে উল্লিখিত ‘ঈশান’ কথাটির অর্থ মহেশ্বর বা শিব।
‘বাজা তোর প্রলয়-বিষাণ’ – কার বা কাদের উদ্দেশে কবির এই উক্তি
‘ভাঙার গান’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম পরাধীন ভারতবর্ষের মহাদেবসম শক্তিশালী বিপ্লবীদের ‘তরুণ ঈশান’ অভিধায় অভিহিত করে তাদের ‘প্রলয়-বিষাণ’ বাজাতে বলেছেন। সেই ‘তরুণ ঈশান’দের ‘প্রলয়-বিষাণ’ বাজাতে বলেছেন।
‘বাজা তোর প্রলয়-বিষাণ’ – ‘প্রলয়-বিষাণ’ কী?
‘বিষাণ’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ পশুর শিং দিয়ে তৈরি শিঙা। ‘ভাঙার গান’ কবিতায় নজরুল মহাদেবের সেই শিঙার কথা বলেছেন, যা পৃথিবীতে প্রলয় সৃষ্টি করতে পারে।
‘ধ্বংস নিশান, উড়ুক …’ – ধ্বংস নিশান কোথায় উড়বে?
‘ভাঙার গান’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম চেয়েছেন ‘তরুণ ঈশান’ রা ‘প্রলয়-বিষাণ’ বাজিয়ে ‘ধ্বংস নিশান’ উড়িয়ে দেবে “প্রাচী’র প্রাচীর”ভেদ করে। প্রাচী অর্থে পৃথিবীর পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ ভারতবর্ষের পরাধীনতার প্রাচীর ভেদ করে ‘তরুণ ঈশান’রা ধ্বংসের ধ্বজা উড়িয়ে দেবে।
‘ধ্বংস নিশান,/উড়ুক প্রাচী’র প্রাচীর ভেদি।’ – ‘প্রাচী’র প্রাচীর’ কী?
প্রাচী অর্থে পৃথিবীর পূর্বাঞ্চলকে বোঝানো হয়। ‘ভাঙার গান’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম ‘প্রাচী’ অর্থে পৃথিবীর পূর্বে অবস্থিত পরাধীন ভারতবর্ষকে বুঝিয়েছেন। আর ‘প্রাচীর’ শব্দের অর্থ প্রাকার বা পাঁচিল। আলোচ্য কবিতায় কবি ‘প্রাচী’র প্রাচীর’ অর্থাৎ ভারতবর্ষের পরাধীনতার বাতাবরণ ভেদ করে ধ্বংস নিশান ওড়াতে ‘তরুণ-ঈশান’দের আহ্বান জানিয়েছেন।
‘ধ্বংস-নিশান,/উড়ুক …’ – ‘নিশান’ কথাটির অর্থ লেখো।
কবি নজরুল বিরচিত ‘ভাঙার গান’ কবিতায় ‘নিশান’ শব্দটির অর্থ হল – পতাকা, ধ্বজা ইত্যাদি।
“গাজনের বাজনা বাজা!” – ‘গাজন’ কী জাতীয় উৎসব?
‘গাজন’ হল একজাতীয় লোকউৎসব, যা চৈত্র মাসের শেষে দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়।
“গাজনের বাজনা বাজা!” – ‘গাজনের বাজনা’ কী?
চৈত্রমাসের শেষে মহাদেবের আরাধনাকে কেন্দ্র করে যে লোকউৎসব অনুষ্ঠিত হয়, তাই গাজন। আর তাতে যে ঢাকের বোল তোলা হয়, তাকেই বলা হয়েছে ‘গাজনের বাজনা’।
‘হা হা হা পায় যে হাসি,’ – কবির হাসি পায় কেন?
‘ভাঙার গান’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম পরাধীন ভারতের বীর বিপ্লবী তরুণদের মধ্যে দেবাদিদেব মহাদেবের প্রলয়ংকররূপ প্রত্যক্ষ করেছেন। ভগবানকে ফাঁসি দেওয়া যেমন হাস্যকর, সর্বনাশা ভাবনা, তেমনি তরুণ বিপ্লবীদের ফাঁসি দিয়ে স্বাধীনতার লড়াইকে থামানোর বৃথা চেষ্টা দেখে কবির হাসি পেয়েছে।
‘ভগবান পরবে ফাঁসি?’ – এই তথ্যকে কবি হীন বলেছেন কেন?
‘ভাঙার গান’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম পরাধীন ভারতের বীর বিপ্লবী তরুণদের দেবাদিদের মহাদেবের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন – ভগবানকে ফাঁসি দেওয়া যেমন হাস্যকর, সর্বনাশা ভাবনা, তেমনি ‘তরুণ ঈশান’দের ফাঁসি দিয়ে ভারতের স্বাধীনতার লড়াইকে থামানোর চেষ্টাও বৃথা। তাই এই তথ্যকে কবি হীন বলেছেন।
‘এ হীন তথ্য কে রে?’ – ‘হীন তথ্যটি’ কী?
বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের ‘ভাঙার গান’ কবিতায় উল্লিখিত ‘হীন তথ্যটি’ হল ‘ভগবান পরবে ফাঁসি’।
‘ওরে ও পাগলা ভোলা’ – ‘পাগলা ভোলা’ কে?
কবি নজরুল ইসলামের ‘ভাঙার গান’ কবিতার উদ্ধৃতাংশে ‘পাগলা ভোলা’ বলতে দেবাদিদেব মহাদেবকে বোঝানো হয়েছে।
‘ওরে ও পাগলা ভোলা’ – ‘ভোলা’কে পাগলা বলা হয়েছে কেন?
ভোলানাথ অর্থাৎ শিব ছাইভস্ম মেখে শ্মশান-মশানে ঘুরে বেড়ায়, পাগলের মতো বেশধারণ করে অন্নপূর্ণার দ্বারে ভিক্ষা প্রার্থনা করে, তাই তাকে ‘পাগলা ভোলা’ বলা হয়েছে।
‘দেরে দে …’ – কী দেওয়ার কথা বলা হয়েছে?
কাজী নজরুল ইসলাম ‘ভাঙার গান’ কবিতায় পরাধীন ভারতবর্ষের বীর বিপ্লবী তরুণদের ‘পাগলা ভোলা’ অর্থাৎ মহাদেবের সঙ্গে তুলনা করে ইংরেজ সরকার নির্মিত লৌহকারাগারের গারদগুলোকে জোর হেঁচকা টান মেরে প্রলয় দোলায় দুলিয়ে দিতে বলেছেন।
‘দে রে দে প্রলয়-দোলা’ – ‘প্রলয়-দোলা’র অর্থ কী?
‘প্রলয়’ বলতে প্রকৃষ্টরূপে লয় বা ধ্বংসকে বোঝানো হয়েছে। সুতরাং ‘ভাঙার গান’ কবিতায় ‘প্রলয়-দোলা’র অর্থ মরণদোলায় অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা।
‘গারদগুলা/জোরসে-ধরে হেঁচকা টানে!’ – ‘গারদ’ কী জাতীয় শব্দ?
‘গারদ’ একটি বিদেশি শব্দ। ইংরেজি ‘guard’ শব্দ থেকে এর উৎপত্তি।
‘গারদগুলা/জোরসে-ধরে হেঁচকা টানে।’ – ‘গারদ’ শব্দের অর্থ কী?
‘গারদ’ শব্দের অর্থ হল প্রহরী, কয়েদখানা, জেলখানা ইত্যাদি।
‘মার হাঁক’ – কে, কেমন হাঁক মারবে?
কবি নজরুল অগ্রদূতকে বলেছেন ‘হৈদরী হাঁক’ মারতে অর্থাৎ তেজোদৃপ্ত স্বরে গর্জন করতে।
‘মার হাঁক হৈদরী হাঁক,’ – কাদের উদ্দেশে কার এই উক্তি?
‘ভাঙার গান’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম বীর বিপ্লবী তরুণ প্রজন্মকে ‘হৈদরী হাঁক’ দিয়ে পরাধীন ভারতবাসীকে উজ্জীবিত করতে বলেছেন।
‘কাঁধে নে দুন্দুভি ঢাক,’ – ‘দুন্দুভি ঢাক’ কী?
‘ভাঙার গান’ কবিতায় ‘দুন্দুভি ঢাক’ বলতে রণবাদ্যকে বোঝানো হয়েছে, যা কাঁধে নিয়ে হৈদরী হাঁক দিয়ে তরুণ অগ্রদূত মৃত্যুকে জীবন পানে ডাকবে।
‘ডাক ওরে ডাক …’ – কে, কাকে ডাকবে?
বিদ্রোহী কবি নজরুলের ‘ভাঙার গান’ কবিতায় নবীন অগ্রদূত হৈদরী হাঁক দিয়ে, কাঁধে দুন্দুভি ঢাক নিয়ে মৃত্যুকে ডাকবে জীবনপানে।
‘মৃত্যুকে ডাক’ – মৃত্যুকে কোথায় ডাকা হচ্ছে?
বিদ্রোহী কবি নজরুল ‘ভাঙার গান’ কবিতায় তরুণ অগ্রদূতকে বিপ্লবমন্ত্রে দীক্ষিত করে মৃত্যুকে জীবনপানে ডাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
‘মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে!’ – ‘জীবন পানে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
কাজী নজরুল ইসলাম ‘ভাঙার গান’ কবিতায় পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়ার জন্য ‘তরুণ ঈশান’দের প্রলয়ংকর মূর্তিতে মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে জীবনের মহৎ উদ্দেশ্য সাধন করতে বলেছেন।
‘নাচে ওই কাল-বোশেখি,’ – ‘কাল-বোশেখি’ কী?
‘কাল-বোশেখি’ গ্রীষ্মকালের একটি ঝড়ের নাম হলেও ‘ভাঙার গান’ কবিতায় প্রলয়ংকর মহাদেবকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
‘কাটাবি কাল বসে কি?’ – কোন্ কালের কথা এখানে বলা হয়েছে?
‘কাল’ কথার অর্থ সময়। কবি নজরুলের ‘ভাঙার গান’ কবিতায় ভারতবর্ষের পরাধীনতার সময়কালের ইঙ্গিত করা হয়েছে।
‘দেরে দেখি …’ – কবি কী দেখবেন?
কবি নজরুল ‘ভাঙার গান’ কবিতায় দেখতে চান তরুণ তুর্কি নবীন অগ্রদূত সময় না কাটিয়ে যেন ইংরেজদের ভীম কারার ভিত্তি নাড়িয়ে দেন।
‘ভীম কারার ওই ভিত্তি নাড়ি!’ – অর্থ লেখো।
‘ভাঙার গান’ কবিতায় অগ্রদূতের প্রতি কবির নির্দেশ, অগ্রদূত যেন অত্যাচারী ইংরেজদের ভয়ংকর কারাগারের ভিত্তিভূমি লোপাট করে দেয়।
‘লাথি মার, ভাঙরে তালা!’ – কোন্ তালার কথা এখানে বলা হয়েছে?
‘ভাঙার গান’ কবিতায় অত্যাচারী ইংরেজদের ভীম কারাগারের তালাকে লাথি মেরে ভাঙার কথা বলেছেন কবি নজরুল।
‘যত সব বন্দি-শালায়-/আগুন জ্বালা,’ – কোন্ বন্দিশালার কথা বলা হয়েছে?
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের ‘ভাঙার গান’ কবিতায় ভারতবর্ষে ইংরেজদের কারাগারে যেসব ভারতীয় বিপ্লবীরা বন্দি, সেইসব বন্দিশালার কথা বলা হয়েছে।
‘যত সব বন্দি-শালায়-/আগুন জ্বালা,’ – বন্দিশালায় কারা আগুন লাগাবে?
‘ভাঙার গান’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম ‘তরুণ ঈশান’দের প্রলয়ংকর মূর্তিতে আবির্ভূত হয়ে ভারতবর্ষে স্থিত ইংরেজদের বন্দিশালায় আগুন লাগানোর কথা বলেছেন।
‘আগুন জ্বালা, ফেল উপাড়ি!’ – কী উপড়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে?
কবি নজরুল আলোচ্য কবিতায় অগ্রদূতকে কারাগারের লোহার দরজা লোপাট করে, লাথি দিয়ে তালা ভেঙে কারাগারের ভিত্তি উপড়ে ফেলার কথা বলেছেন।
‘আগুন জ্বালা, ফেল উপাড়ি!’ – কোথায় আগুন জ্বালাবে?
কবি নজরুল বন্দি বিপ্লবীদের ইংরেজদের কারাগারে আগুন জ্বালানোর কথা বলেছেন ‘ভাঙার গান’ কবিতায়।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের পঞ্চম পাঠের প্রথম অধ্যায়, ‘ভাঙার গান’ -এর কিছু অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নোত্তরগুলো নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে এসেছে। যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।
মন্তব্য করুন