এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর অন্তর্গত ‘রেচন’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ টীকা নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

ধাতব কেলাস সম্পর্কে টীকা লেখো।
সংজ্ঞা – কিছু কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড ও পাতার কোশে অজৈব রেচনবস্তু কেলাস আকারে সঞ্চিত হয়, এদের ধাতব কেলাস বলে।
প্রকারভেদ – প্রধানত তিনপ্রকার। যথা –
- র্যাফাইড,
- সিস্টোলিথ ও
- সিলিকা।
র্যাফাইড – বিশেষ কিছু উদ্ভিদের কাণ্ডে ও পত্রবৃন্তের কোশে ক্যালশিয়াম অক্সালেট দ্বারা গঠিত অদ্রবণীয় কেলাসাকার রেচন পদার্থ সরু ও লম্বা ছুঁচের বান্ডিলের মতো জমা থাকে, একে র্যাফাইড বলে। প্রধানত দু-রকম –
- অ্যাসিকিউলার র্যাফাইড,
- স্ফির্যাফাইড।

সিস্টোলিথ – কিছু কিছু উদ্ভিদের পাতার লিথোসিস্ট কোশে ক্যালশিয়াম কার্বনেটের কেলাস আঙুরের গুচ্ছের মতো ঝুলন্ত অবস্থায় সঞ্চিত থাকে, তাকে সিস্টোলিথ বলে।

সিলিকা – কিছু কিছু উদ্ভিদের ত্বকে কিংবা পাতার কিনারায় সিলিকার কেলাস জমা থাকে।
অবস্থান – বট, রবার প্রভৃতি উদ্ভিদে সিস্টোলিথ; কচু, ওল, কচুরিপানা প্রভৃতি উদ্ভিদে র্যাফাইড এবং ঘাসপাতার কিনারায় সিলিকা সঞ্চিত থাকে।
ম্যালপিজিয়ান নালিকা সম্পর্কে টীকা লেখো।
ম্যালপিজিয়ান নালিকা হল পতঙ্গ শ্রেণির প্রাণীদের (আরশোলা, প্রজাপতি) রেচন অঙ্গ।
গঠন – আরশোলার দেহের পৌষ্টিকতন্ত্রের পশ্চাৎ দিকে ইলিয়াম ও মেসেন্টেরনের সংযোগস্থলে কিছু সরু সুতোর মতো নালিকাকার গঠন গুচ্ছের আকারে দেখা যায়, এদের ম্যালপিজিয়ান নালিকা বলে। প্রতিটি গুচ্ছ প্রায় 12 – 15টি নালিকা নিয়ে গঠিত। নালিকাগুলি হিমোলিম্ফে ভেসে থাকে এবং এদের গায়ে ফ্যাটবডি লেগে থাকে। নালিকাগুলিতে উপস্থিত মাইক্রোভিলি রেচনে সাহায্য করে।

কাজ – পতঙ্গের দেহে উৎপন্ন রেচন পদার্থ হিমোসিলে জমা হয়। নালিকাগুলি হিমোসিল থেকে রেচন পদার্থ গ্রহণ করে এবং প্রয়োজনীয় আয়ন, জলের পুনঃশোষণ ঘটিয়ে রেচন পদার্থকে পশ্চাৎ পৌষ্টিকনালিতে প্রেরণ করে। তারপর পৌষ্টিকনালির থেকে ওই রেচন পদার্থ নির্গত হয়।
ফ্লেমকোশ বা শিখা কোশ (Flame cell) সম্পর্কে টীকা লেখো।
সংজ্ঞা – প্ল্যানেরিয়া, ফিতাকৃমি প্রভৃতি প্রাণীর শিখার মতো ফ্ল্যাজেলাযুক্ত রেচন কোশকে ফ্লেমকোশ বা শিখাকোশ বলে।
ফ্লেমকোশের মধ্যে একটি নিউক্লিয়াস অবস্থান করে। নিউক্লিয়াসের স্থানটি ফানেল আকৃতি বিশিষ্ট হয়। কোশের যে স্থান থেকে ফ্ল্যাজেলার সৃষ্টি হয় ওই স্থানে শিখার মতো আকৃতিবিশিষ্ট গঠন দেখা যায়। এই কোশের ফানেল আকৃতির অংশটি টিউব সেলের (tube cell) সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই কোশের ভিতরে কিছু মাইক্রোভিলি দেখা যায়, যা প্রয়োজনীয় আয়নের পুনঃশোষণে সাহায্য করে।
ফ্লেমকোশের রেচনে ভূমিকা –
- ফ্লেমকোশগুলি রেচননালির মাধ্যমে দেহপ্রাচীরের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং রেচনছিদ্র পথে দেহের বাইরে উন্মুক্ত হয়।
- দেহে উৎপন্ন রেচন পদার্থ ফ্লেমকোশ দ্বারা শোষিত হয়ে রেচন নালির মাধ্যমে বাহিত হয়ে রেচনছিদ্র পথে দেহের বাইরে নির্গত হয়।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর অন্তর্গত ‘রেচন’ অংশের টীকা নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন