এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ফেরির তৈরি কৃষ্ণবস্তু বলতে কী বোঝো?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “ফেরির তৈরি কৃষ্ণবস্তু বলতে কী বোঝো?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় “তাপের ঘটনাসমূহ“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

ফেরির তৈরি কৃষ্ণবস্তু বলতে কী বোঝো?
বিজ্ঞানীদের মতে যে-কোনো সূক্ষ্ম ছিদ্রযুক্ত ফাঁপা প্রকোষ্ঠ যার ভিতরের দেয়াল কালো রং করা, তাই কৃষ্ণবস্তুর মতো আচরণ করে। এই ধারণা থেকে বিজ্ঞানী ফেরি এবং ভিন কৃষ্ণবস্তুর নকশা তৈরি করেন। এটি দুই দেয়ালযুক্ত একটি গোলাকার ফাঁপা প্রকোষ্ঠ যার ভিতরের দেয়াল কালো রং করা এবং বাইরের পৃষ্ঠ চকচকে পালিশ দেওয়া। প্রকোষ্ঠের গায়ে একটি ক্ষুদ্র ছিদ্র আছে এবং ছিদ্রের বিপরীত দিকের দেয়ালে (প্রকোষ্ঠের ভিতরে) একটি সূচাগ্র শঙ্কু আকৃতির প্রবর্ধক আছে যা আপতিত বিকিরণকে প্রতিফলিত হয়ে সরাসরি বাইরে আসতে দেয় না।
কোনো বিকিরণ সরু ছিদ্র দিয়ে প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করলে তা প্রকোষ্ঠের দেয়ালে বারবার প্রতিফলত হয়ে শোষিত হয়, বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে আপতিত বিকিরণের প্রায় সম্পূর্ণ অংশই শোষিত হয়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ফেরির তৈরি কৃষ্ণবস্তু কীভাবে কাজ করে?
ফেরির তৈরি কৃষ্ণবস্তু যেভাবে কাজ করে –
1. ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করা বিকিরণ ভিতরের কালো দেয়ালে বারবার প্রতিফলিত হয়।
2. প্রতিফলনের ফলে বিকিরণের শক্তি ধীরে ধীরে শোষিত হয়।
3. শঙ্কু আকৃতির প্রবর্ধক বিকিরণকে বাইরে বেরোতে বাধা দেয়, ফলে এটি প্রায় সম্পূর্ণ শোষিত হয়।
কৃষ্ণবস্তুর বৈশিষ্ট্য কী?
কৃষ্ণবস্তুর বৈশিষ্ট্য হল –
1. এটি আদর্শ কৃষ্ণবস্তুর মতো আচরণ করে, অর্থাৎ এটি আপতিত সকল বিকিরণ শোষণ করে।
2. এটি বিকিরণ নির্গমনেও সক্ষম এবং কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ সূত্র (Planck’s Law) মেনে চলে।
ফেরির কৃষ্ণবস্তুর ব্যবহার কী?
ফেরির কৃষ্ণবস্তুর ব্যবহার হল –
1. তাপীয় বিকিরণ গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
2. স্পেক্ট্রোস্কোপি এবং রেডিওমেট্রিতে আদর্শ বিকিরণ উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
3. মহাকাশযান ও উপগ্রহে তাপীয় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।
ফেরির তৈরি কৃষ্ণবস্তু কী?
ফেরির তৈরি কৃষ্ণবস্তু হলো একটি বিশেষ নকশার ফাঁপা গোলাকার প্রকোষ্ঠ, যার ভিতরের দেয়াল কালো রং করা এবং বাইরের পৃষ্ঠ চকচকে। এতে একটি ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে, যা দিয়ে প্রবেশ করা আলো বা তাপীয় বিকিরণ বারবার প্রতিফলিত হয়ে শোষিত হয় এবং বেরোতে পারে না।
ফেরির তৈরি কৃষ্ণবস্তু কীভাবে একটি আদর্শ কৃষ্ণবস্তুর অনুরূপ আচরণ করে?
1. এটি একটি ফাঁপা গোলাকার কাঠামো যার ভিতরের দেয়াল অত্যন্ত অন্ধকার (কালো) এবং অশ্মীভূত (Non-reflective)।
2. এতে একটি ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে, যা দিয়ে প্রবেশ করা বিকিরণ ভিতরে আটকা পড়ে এবং বারবার প্রতিফলিত হয়ে শোষিত হয়।
3. শঙ্কু আকৃতির প্রবর্ধক থাকায় বিকিরণ বাইরে ফিরে আসতে পারে না, ফলে এটি প্রায় 100% শোষণক্ষমতা দেখায়।
ফেরির কৃষ্ণবস্তুর গঠন কেমন?
ফেরির কৃষ্ণবস্তুর গঠন হল –
1. বাইরের দিক – মসৃণ ও অত্যন্ত প্রতিফলক (যাতে বাইরের তাপ ভিতরে প্রবেশ না করে)।
2. ভিতরের দিক – অন্ধকার, রুক্ষ ও শোষক পদার্থে আবৃত (যেমন – কার্বন ব্ল্যাক বা বিশেষ পেইন্ট)।
3. ছিদ্র – একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম, যা দিয়ে বিকিরণ প্রবেশ করে কিন্তু বেরোতে পারে না।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ফেরির তৈরি কৃষ্ণবস্তু বলতে কী বোঝো?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “ফেরির তৈরি কৃষ্ণবস্তু বলতে কী বোঝো?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় “তাপের ঘটনাসমূহ“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।
মন্তব্য করুন