এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্র কীভাবে জাতীয়তাবাদী চেতনা বিস্তারে সহায়তা করেছিল?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্র কীভাবে জাতীয়তাবাদী চেতনা বিস্তারে সহায়তা করেছিল?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের চতুর্থ অধ্যায় “সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্র কীভাবে জাতীয়তাবাদী চেতনা বিস্তারে সহায়তা করেছিল?
ভারতবাসীর স্বদেশচিন্তা কেবলমাত্র কাব্য, নাটক, উপন্যাস আর প্রবন্ধের রেখায় প্রকাশিত হয়নি; ভারতীয় চিত্রকলাতেও সেদিন লেগেছিল স্বাদেশিকতার ছোঁয়া। শিল্পী গগনেন্দ্রনাথের ব্যঙ্গচিত্রে ঔপনিবেশিক শোষণ ও অনাচারের বাস্তবরূপটি যথার্থই ফুটে উঠেছে।
গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন ব্যঙ্গচিত্র –
গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ব্যঙ্গচিত্র সংকলনগুলির মধ্যে ‘বিরূপ বজ্র’, ‘নয়া হুল্লোড়’ ও ‘অদ্ভুত লোক’ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। আর তাঁর আঁকা ব্যঙ্গচিত্রগুলির মধ্যে ‘জাতাসুর’, ‘পরভূতের কাকলি’, ‘বিদ্যার কারখানা’, ‘বাকযন্ত্র’ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

ব্যঙ্গচিত্রের বিষয়বস্তু –
জাতীয়তাবোধ তথা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধিতা গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ব্যঙ্গচিত্র আঁকতে অনুপ্রাণিত করেছিল। চিত্রকর গগনেন্দ্র দেশবাসীর দুঃখ-কষ্টে নির্লিপ্ত থাকতে পারেননি। স্বদেশি নেতাদের বিচ্যুতিও তাঁর ব্যঙ্গের চাবুক থেকে রেহাই পায়নি।
উচ্চবর্ণের সমালোচনা –
সমাজপতিদের অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি ও স্বার্থপরতা কীভাবে সামাজিক ঐক্যের পথে অন্তরায় ছিল তার ব্যঙ্গাত্মক বাস্তবচিত্র এঁকেছেন ‘জাতাসুর’ নামক চিত্রে। চিত্রটিতে দেখা যায়, একটি বিরাট আকারের জাতার ওপর বসে হোম ও পূজা-আহ্নিক করছেন মুণ্ডিত মস্তক বিশিষ্ট এক ব্রাহ্মণ, যার হাতে রয়েছে পুঁথি। জাতাটি ঘোরাচ্ছে হাস্যরত এক নরকঙ্কাল, আর জাতার নীচে পিষ্ট হচ্ছে অসংখ্য নিম্নবর্ণের মানুষ। তাঁর ‘খলব্রাহ্মণ’ চিত্রেও সমাজপতিদের বিরুদ্ধে নির্মম সমালোচনা ফুটে উঠেছে।
ঔপনিবেশিক শাসনের সমালোচনা –
বাঙালি সমাজের ইংরেজ প্রীতি এবং ঔপনিবেশিক শাসনের কঠোর সমালোচনা ধরা পড়েছে তাঁর বিভিন্ন ব্যঙ্গচিত্রে। ‘চোর’ চিত্রে দেখা যায় দশাশয়ী পুলিশ শীত বস্ত্রে সুরক্ষিত, কিন্তু ঠান্ডায় কাঁপছে স্বল্পবাসী দরিদ্র ভারতীয়। জালিয়ানওয়ালা বাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তাঁর আঁকা ব্যঙ্গচিত্রেও ঔপনিবেশিক শাসনের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন।
বাবু সংস্কৃতি ও পাশ্চাত্যানুরাগের সমালোচনা –
ব্রিটিশ শাসনকালে ‘বাবু’ নামে পরিচিত শিক্ষিত ও পাশ্চাত্যানুরাগী এক শ্রেণির মানুষের সমালোচনা ফুটে উঠেছে গগনেন্দ্রনাথের চিত্রে। ‘বল রুম ড্যান্স’ নামক একটি চিত্রে দেখা যায়, একজন বাঙালি নারী বাংলার শাড়ি ও ইউরোপীয় জুতো পরে ইউরোপীয় পুরুষের সঙ্গে নৃত্যরত।
ব্যঙ্গচিত্রের মন্তব্য –
গভীর সমাজচেতনা এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মানসিকতায় গগনেন্দ্রনাথের ব্যঙ্গচিত্রগুলি অনবদ্য। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ভ্রাতুষ্পুত্র গগনেন্দ্রনাথ সম্পর্কে লিখেছেন – ‘তুলির একটানে ব্রিটিশ গভর্নমেন্টকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলছে, আর সেইসঙ্গে দেশকেও টেনে তুলেছে।’
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্র কীভাবে জাতীয়তাবাদী চেতনা বিস্তারে সহায়তা করেছিল?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্র কীভাবে জাতীয়তাবাদী চেতনা বিস্তারে সহায়তা করেছিল?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের চতুর্থ অধ্যায় “সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment