গে-লুসাকের গ্যাস আয়তন সূত্রটি অ্যাভোগাড্রো সূত্রের সাহায্যে প্রমাণ

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “গে-লুসাকের গ্যাস আয়তন সূত্রটি বিবৃত করো। গে-লুসাকের গ্যাস আয়তন সূত্রটি অ্যাভোগাড্রো সূত্রের সাহায্যে কীভাবে প্রমাণ করা যায়?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “গে-লুসাকের গ্যাস আয়তন সূত্রটি বিবৃত করো। গে-লুসাকের গ্যাস আয়তন সূত্রটি অ্যাভোগাড্রো সূত্রের সাহায্যে কীভাবে প্রমাণ করা যায়?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “গ্যাসের আচরণ“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

গে-লুসাকের গ্যাস আয়তন সূত্রটি বিবৃত করো। গে-লুসাকের গ্যাস আয়তন সূত্রটি অ্যাভোগাড্রো সূত্রের সাহায্যে কীভাবে প্রমাণ করা যায়?

গে-লুসাকের গ্যাস আয়তন সূত্রটি বিবৃত করো।

একই চাপ ও উষ্ণতায় রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গ্যাসগুলি তাদের আয়তনের সরল অনুপাতে বিক্রিয়া করে এবং বিক্রিয়াজাত পদার্থটি যদি গ্যাসীয় হয় তাহলে একই চাপ ও উষ্ণতায় বিক্রিয়াজাত গ্যাসটির আয়তন ও বিক্রিয়ক গ্যাসগুলির আয়তনের সঙ্গে সরল অনুপাতে থাকে।

যেমন – H2 + Cl2 → 2HCl

এক্ষেত্রে বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলি গ্যাসীয় এবং এদের আয়তনের অনুপাত হল 1 : 1 : 2।

গে-লুসাকের গ্যাস আয়তন সূত্রটি অ্যাভোগাড্রো সূত্রের সাহায্যে কীভাবে প্রমাণ করা যায়?

মনে করি, A ও B দুটি গ্যাসের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় C গ্যাসটি তৈরি হয়।

∴ A + B ➡ C

মনে করি, একই চাপ ও উষ্ণতায় A ও B গ্যাসের \(n_1\)-সংখ্যক অণু ও \(n_2\)-সংখ্যক অণু বিক্রিয়া করে C গ্যাসের \(n_3\)-সংখ্যক অণু সৃষ্টি করে। অ্যাভোগাড্রো সূত্রানুযায়ী একই চাপ ও উষ্ণতায় A, B ও C গ্যাসের আয়তন সমান হলে প্রতিটিতে সমান সংখ্যক অণু থাকবে। অর্থাৎ A, B ও C গ্যাসের আয়তন হলে প্রতিটিতে \(n\)-সংখ্যক অণু থাকবে।

অর্থাৎ, \(n\)-সংখ্যক A গ্যাসের অণুর আয়তন হল V। ওপরে উল্লিখিত বিক্রিয়ায় A গ্যাসের \(n_1\) সংখ্যক অণু অংশগ্রহণ করে।

∴ এই \(n_1\)-সংখ্যক A গ্যাসের অণুর আয়তন হল \(\frac Vnn_1\)

একইভাবে, \(n_2\)-সংখ্যক B গ্যাসের অণুর আয়তন হল \(\frac Vnn_2\) এবং

\(n_3\)-সংখ্যক C গ্যাসের অণুর আয়তন হল – \(\frac Vnn_3\)

অর্থাৎ, A, B ও C গ্যাসের যে অণুগুলি বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাদের আয়তনের অনুপাত হল –

\(\frac Vnn_1:\frac Vnn_2:\frac Vnn_3\\\)

বা, \(n_1:n_2:n_3\)

এটি একটি সরল অনুপাত। অর্থাৎ, একই চাপ ও উষ্ণতায় বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত গ্যাসগুলির আয়তনের অনুপাত একটি সরল অনুপাত। এটিই গে-লুসাকের সূত্র।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

গে-লুসাকের গ্যাস আয়তন সূত্রটি কী?

একই চাপ ও উষ্ণতায় রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গ্যাসগুলির আয়তন এবং উৎপন্ন গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন একটি সরল অনুপাতে থাকে।

গে-লুসাকের সূত্রের শর্তগুলি কী কী?

গে-লুসাকের সূত্রের শর্তগুলি হল –
1. বিক্রিয়ক ও উৎপাদ উভয়ই গ্যাসীয় অবস্থায় থাকতে হবে।
2. চাপ ও উষ্ণতা স্থির থাকতে হবে।

গে-লুসাকের সূত্রের ব্যবহার কোথায় দেখা যায়?

গে-লুসাকের সূত্রের ব্যবহার যেখানে দেখা যায় সেগুলি হল –
1. রাসায়নিক বিক্রিয়ায় গ্যাসের আয়তন নির্ণয়ে।
2. শিল্পক্ষেত্রে গ্যাসীয় বিক্রিয়ার স্টোইকিওমেট্রিক হিসাব করতে।
3. অ্যাভোগাড্রো সূত্র ও আদর্শ গ্যাস সমীকরণ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।

গে-লুসাকের সূত্রের সীমাবদ্ধতা কী?

গে-লুসাকের সূত্রের সীমাবদ্ধতা হল –
1. শুধুমাত্র গ্যাসীয় পদার্থের জন্য প্রযোজ্য।
2. উচ্চ চাপ ও নিম্ন তাপমাত্রায় গ্যাসগুলি আদর্শ আচরণ করে না, ফলে সূত্রটি পুরোপুরি প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

গে-লুসাকের সূত্রটি কে আবিষ্কার করেছিলেন?

ফরাসি রসায়নবিদ জোসেফ লুই গে-লুসাক (Joseph Louis Gay-Lussac) 1808 সালে এই সূত্রটি আবিষ্কার করেন।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “গে-লুসাকের গ্যাস আয়তন সূত্রটি বিবৃত করো। গে-লুসাকের গ্যাস আয়তন সূত্রটি অ্যাভোগাড্রো সূত্রের সাহায্যে কীভাবে প্রমাণ করা যায়?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “গে-লুসাকের গ্যাস আয়তন সূত্রটি বিবৃত করো। গে-লুসাকের গ্যাস আয়তন সূত্রটি অ্যাভোগাড্রো সূত্রের সাহায্যে কীভাবে প্রমাণ করা যায়?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “গ্যাসের আচরণ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

উদীয়মান এবং অস্তগামী সূর্যকে লাল দেখায় কেন?

উদীয়মান এবং অস্তগামী সূর্যকে লাল দেখায় কেন?

আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে? দিনের বেলায় আকাশকে নীল দেখায় কেন?

আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে? দিনের বেলায় আকাশকে নীল দেখায় কেন?

আলোর বিচ্ছুরণ ও আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে? আলোর বিচ্ছুরণ ও প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

আলোর বিচ্ছুরণ ও আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে? আলোর বিচ্ছুরণ ও প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

উদীয়মান এবং অস্তগামী সূর্যকে লাল দেখায় কেন?

আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে? দিনের বেলায় আকাশকে নীল দেখায় কেন?

আলোর বিচ্ছুরণ ও আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে? আলোর বিচ্ছুরণ ও প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য

আলোক কেন্দ্র কাকে বলে? আলোক কেন্দ্রের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব

উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্স কাকে বলে? উত্তল লেন্স ও অবতল লেন্সের মধ্যে পার্থক্য