এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

গ্লোবাল ওয়ার্মিং সুন্দরবনের জলবায়ুকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে?

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “গ্লোবাল ওয়ার্মিং সুন্দরবনের জলবায়ুকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “গ্লোবাল ওয়ার্মিং সুন্দরবনের জলবায়ুকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

সুন্দরবনের গ্লোবাল ওয়ার্মিং
সুন্দরবনের গ্লোবাল ওয়ার্মিং

গ্লোবাল ওয়ার্মিং সুন্দরবনের জলবায়ুকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে?

সুন্দরবনের জলবায়ুর ওপর গ্লোবাল ওয়ার্মিং -এর প্রভাব –

সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ। বর্তমানে সমগ্র ভারতীয় সুন্দরবন অঞ্চলের আয়তন 9630 বর্গ কিলোমিটার। ভারতে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভঅরণ্য প্রায় 65 শতাংশ স্থান জুড়ে অবস্থান করে আছে। বিশ্বউষ্ণায়নের ফলে সমগ্র সুন্দরবনের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। নিম্নে তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হল –

  1. বিশ্ব উষ্ণায়নের (গ্লোবাল ওয়ার্মিং) ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিকে বিপন্ন করে তুলছে। গত দুই দশকে ভারতের অন্তর্গত সুন্দরবন অংশে বেডফোর্ড, সুপারিভাঙ্গা, কাবাসগাদী এবং লোহাচড়া এই চারটি দ্বীপকে সমুদ্র গ্রাস করেছে। গত দুই দশকে সুন্দরবনের নদীগুলির জলস্তর বছরে 3.14 মিলিমিটার করে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে পৃথিবীর বার্ষিক গড় জলস্তর বৃদ্ধির হার 2 মিলিমিটার। বিশ্বউষ্ণায়ন রোধ না হলে দ্বীপগুলির ভবিষ্যৎ খুবই সংকটাপন্ন।
  2. বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় নোনাজল ক্রমেই দ্বীপের মাঝ বরাবর পৌঁছে যাচ্ছে এবং মধ্যবর্তী অংশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে নোনা ডোবা বা সল্ট বেসিন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কোনো দ্বীপে সল্ট বেসিনগুলি মাড-ফ্ল্যাট বা নুন বোঝাই ঘন কর্দমাক্ত জলাভূমির চেহারা নিয়েছে। ওই লবণাক্ত জমি গাছপালাহীন।
  3. সুনামি ও আয়লার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে। গত শতাব্দীতে সুন্দরবনে দুর্যোগ বা বিপর্যয়ের প্রবণতা 25% বৃদ্ধি পেয়েছে।
  4. আবহাওয়া মন্ডলের সর্বনাশা শক্তিগুলির বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরবনের জঙ্গল এবং পশুপাখি বিপন্ন হয়েছে। যেমন – সুন্দরীগাছ, রয়‍্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং অন্যান্য প্রাণীও বর্তমানে বিলুপ্তির পথে অগ্রসর হয়েছে।
  5. দ্বীপের মাঝে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বাদাবন বা ম্যানগ্রোভ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় হরিণ ও শূকরের মতো তৃণভোজী প্রাণীদেরও খাবারের সংস্থান হচ্ছে না। ফলে সুন্দরবনের খাদ্য শৃঙ্খলের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পড়েছে।
  6. বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সুন্দরবনের কাকদ্বীপ, ঘোড়ামারা, সাগরদ্বীপ, দক্ষিণ সুরেন্দ্রনগর থেকে ভাঙাদুনি, ধানচি, ধূলিভাসানি বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রায় 49 বর্গ কিলোমিটার জমি গত 15 বছরে জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিরন্তর জমিক্ষয়ের ফলে দ্বীপগুলি ক্রমশ ছোটো হয়ে এসেছে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

গ্লোবাল ওয়ার্মিং কীভাবে সুন্দরবনের জলবায়ুকে প্রভাবিত করছে?

গ্লোবাল ওয়ার্মিং -এর ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মেরু অঞ্চলের বরফ গলানোর মাধ্যমে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি করছে। এই জলস্তর বৃদ্ধির ফলে সুন্দরবনের মতো উপকূলীয় অঞ্চলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুন্দরবনের নদীগুলির জলস্তর প্রতি বছর 3.14 মিলিমিটার করে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিশ্বের গড় জলস্তর বৃদ্ধির চেয়ে বেশি।

সুন্দরবনের দ্বীপগুলি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?

গ্লোবাল ওয়ার্মিং -এর ফলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে সুন্দরবনের বেশ কয়েকটি দ্বীপ ইতিমধ্যে সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে গেছে। গত দুই দশকে বেডফোর্ড, সুপারিভাঙ্গা, কাবাসগাদী এবং লোহাচড়া দ্বীপগুলি সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও, জলস্তর বৃদ্ধির ফলে নোনাজল দ্বীপগুলির অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে, যা ম্যানগ্রোভ বন এবং কৃষিজমির ক্ষতি করছে।

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংসের কারণ কী?

গ্লোবাল ওয়ার্মিং -এর ফলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি এবং নোনাজলের অনুপ্রবেশ ম্যানগ্রোভ বনের জন্য হুমকিস্বরূপ। নোনাজল বৃক্ষের শিকড়কে দুর্বল করে দেয় এবং গাছপালা মারা যায়। এছাড়াও, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন সুনামি ও আয়লা ম্যানগ্রোভ বনের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে।

সুন্দরবনের প্রাণীজগত কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে?

গ্লোবাল ওয়ার্মিং -এর ফলে সুন্দরবনের প্রাণীজগতও বিপন্ন হচ্ছে। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, শূকর এবং অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। নোনাজলের অনুপ্রবেশ এবং ম্যানগ্রোভ বনের ধ্বংসের ফলে প্রাণীদের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে, যা খাদ্য শৃঙ্খলের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ কী?

গ্লোবাল ওয়ার্মিং -এর প্রভাব অব্যাহত থাকলে সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সংকটাপন্ন। দ্বীপগুলি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে এবং নোনাজলের অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, যদি বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ না করা হয়, তাহলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে সুন্দরবনের বিশাল অংশ সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।

সুন্দরবনের জমিক্ষয়ের পরিমাণ কত?

গত ১৫ বছরে সুন্দরবনের কাকদ্বীপ, ঘোড়ামারা, সাগরদ্বীপ, দক্ষিণ সুরেন্দ্রনগর থেকে ভাঙাদুনি, ধানচি, ধূলিভাসানি এলাকায় প্রায় 49 বর্গ কিলোমিটার জমি জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে। এই জমিক্ষয়ের ফলে দ্বীপগুলি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে।

সুন্দরবনের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কী করা যেতে পারে?

সুন্দরবনের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা যেতে পারে –
1. বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে কার্বন নিঃসরণ কমানো।
2. ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প চালু করা।
3. নোনাজলের অনুপ্রবেশ রোধে বাঁধ নির্মাণ।
4. স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা এবং তাদের অংশগ্রহণে সংরক্ষণ কর্মসূচি চালু করা।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “গ্লোবাল ওয়ার্মিং সুন্দরবনের জলবায়ুকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “গ্লোবাল ওয়ার্মিং সুন্দরবনের জলবায়ুকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন