এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অ l ত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “গমনের চালিকাশক্তি কাকে বলে? উদাহরণ সহযোগে গমনের উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয়তা সংক্ষেপে বর্ণনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

গমনের চালিকাশক্তি কাকে বলে? উদাহরণ সহযোগে গমনের উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয়তা সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
গমনের চালিকাশক্তি –
প্রধানত প্রাণীরা দৈনন্দিন জীবনে তাদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কার্য সম্পাদনের জন্য একস্থান থেকে অন্যস্থানে যে কারণে গমন করে তাদের একত্রে গমনের চালিকাশক্তি বলা হয়।
গমনের উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয়তাগুলি হল নিম্নরূপ –
- খাদ্য সংগ্রহ – কিছু নিম্নশ্রেণির প্রাণী ছাড়া উন্নত শ্রেণির প্রাণীরা খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল, তাই খাদ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রাণীদের স্থানান্তরে যেতে হয়, অর্থাৎ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করতে হয়। পরিযায়ী পাখি, হাম্পব্যাক তিমি, ক্ষুরযুক্ত স্তন্যপায়ী, স্যামন মাছ, সিল ইত্যাদি।
- আত্মরক্ষা বা খাদকের শিকার থেকে এড়িয়ে চলা – শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পেতে বা প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে নিজেকে বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে প্রাণীকে স্থানান্তরে যেতে হয়। যেমন – মাংসাশী প্রাণীর (বাঘ, সিংহ, হায়না) হাত থেকে রক্ষা পেতে বন্যপশুরা স্থানান্তরে যেতে বাধ্য হয়।
- বাসস্থান খোঁজা – প্রাণীর জীবনধারণের জন্য এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য আশ্রয় বা বাসস্থান প্রয়োজন। প্রাণীরা সুবিধাযুক্ত বাসস্থানের জন্য স্থানান্তরে গমন করে। আর্কটিক টার্ন, লেদার ব্যাক সি টার্টল, ক্যারিবাউ, মোনার্ক বাটারফ্লাই।
- প্রজনন ও বংশবিস্তার – উপযুক্ত সঙ্গী বা সঙ্গিনীর খোঁজে, নিভৃত স্থানে প্রজননের জন্য এবং উপযুক্ত স্থানে অপত্য প্রাণীর জন্মদান ও প্রতিপালনের জন্য প্রাণীদের গমনের প্রয়োজন হয়। পিঁপড়ে, মৌমাছি, হরিণ, বাঘ, ইলিশ মাছ, ইল মাছ, অলিভ-রিডলে টার্টল, স্যামন মাছ।
- অনুকূল পরিবেশের সন্ধান – অনুকূল পরিবেশে জীব জীবনযাপনে আগ্রহী, তাই জীবনধারণের জন্য অনুকূল পরিবেশের সন্ধানে প্রাণীদের গমনের প্রয়োজন হয়। এর কারণ একটি নির্দিষ্ট স্থানে একটি বিশেষ প্রাণী প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তাদের মধ্যে খাদ্য, বাসস্থান প্রভৃতির জন্য সংগ্রাম বাড়তে থাকে, ফলে তারা স্থানান্তরে ছড়িয়ে পড়ে, যেমন – পরিযায়ী পাখি, পেঙ্গুইন, মেরু ভল্লুক।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
গমনের চালিকাশক্তি বলতে কী বোঝায়?
গমনের চালিকাশক্তি বলতে সেই সব কারণ বা উদ্দেশ্য বোঝায়, যা প্রাণীদের তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে প্ররোচিত করে। এটি কোনো শারীরিক বল নয়, বরং প্রাণীর আচরণগত বা প্রয়োজনীয়তাভিত্তিক কারণ।
প্রাণীর গমনের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো কী কী?
প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হল –
1. খাদ্য সংগ্রহ,
2. আত্মরক্ষা বা শিকার থেকে রক্ষা পেতে,
3. বাসস্থান খোঁজা,
4. প্রজনন ও বংশবিস্তার,
5. অনুকূল পরিবেশের সন্ধান।
প্রাণীরা আত্মরক্ষার জন্য কীভাবে গমন করে?
শিকারী প্রাণী (যেমন বাঘ, সিংহ) থেকে বাঁচতে অনেক প্রাণী দ্রুত অন্য স্থানে সরে যায় বা নিরাপদ আশ্রয়ে যায়। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়া বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়াতেও তারা স্থান পরিবর্তন করে।
গমন ও প্রজননের মধ্যে সম্পর্ক কী?
অনেক প্রাণী প্রজননের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে যায়। যেমন – ইলিশ মাছ ডিম পাড়ার জন্য নদীর উজানে যায়, অলিভ-রিডলে কচ্ছপ ডিম পাড়ার জন্য নির্দিষ্ট সৈকতে ফিরে আসে, মোনার্ক প্রজাপতি হাজার মাইল পাড়ি দেয় প্রজনন ক্ষেত্রের জন্য।
পরিযায়ী প্রাণী কী? উদাহরণ দিন।
যেসব প্রাণী নির্দিষ্ট ঋতু বা সময়ে জীবনধারণের অনুকূল পরিবেশের সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায় তাদের পরিযায়ী প্রাণী বলে। যেমন – সাইবেরিয়ান সারস, আর্কটিক টার্ন (বিশ্বের দীর্ঘতম পরিযান করে), ক্যারিবাউ ইত্যাদি।
“অনুকূল পরিবেশের সন্ধান” বলতে কী বুঝায়?
প্রাণীরা যখন তাদের বর্তমান অবস্থানে খাদ্য, জল, বাসস্থানের সংকট বা প্রতিকূল জলবায়ুর সম্মুখীন হয়, তখন তারা আরো উপযুক্ত পরিবেশ খুঁজতে স্থানান্তরিত হয়। যেমন – মেরু ভাল্লুক বরফ গলা শুরু হলে অন্যত্র যায়, পেঙ্গুইন ও পরিযায়ী পাখিরা ঋতু অনুযায়ী স্থান বদল করে।
গমন প্রক্রিয়ায় প্রাণী কীভাবে অভিযোজিত হয়?
প্রাণীরা শারীরিক গঠন (যেমন – পাখির ডানা, মাছের ফিন), নেভিগেশন ক্ষমতা (চুম্বকীয় ক্ষেত্র বা সূর্যের অবস্থান বুঝতে পারা), শক্তির সঞ্চয় (যেমন – পরিযানের আগে চর্বি জমা) এবং দলবদ্ধভাবে চলা ইত্যাদির মাধ্যমে গমনের জন্য অভিযোজিত হয়েছে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “গমনের চালিকাশক্তি কাকে বলে? উদাহরণ সহযোগে গমনের উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয়তা সংক্ষেপে বর্ণনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন