এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকায় সমাজের কোন্ কোন্ দিকগুলি তুলে ধরা হত? গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কেন ব্যতিক্রমী ছিল?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকায় সমাজের কোন্ কোন্ দিকগুলি তুলে ধরা হত? গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কেন ব্যতিক্রমী ছিল?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকায় সমাজের কোন্ কোন্ দিকগুলি তুলে ধরা হত?
অথবা, ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ কেন জমিদারদের রোষের মুখে পড়েছিল?
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা যথার্থ অর্থেই সমকালীন বাংলার গ্রাম সমাজের দর্পণ। পত্রিকার প্রায় প্রতিটি সংখ্যা জুড়েই জমি, জমিদার, কৃষক, মহাজন, নীলকর এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোচনা থাকত। জমিদারী নিপীড়ন, পুলিশের অসাধুতা, বিচারের নামে অবিচার, সাধারণ মানুষের অসহায়তার খবর দিনের পর দিন অসীম সাহসে ছেপেছে ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’। স্বভাবতই তা প্রথমে জমিদারি প্রলোভন এবং শেষে জমিদারি আক্রমণের শিকার হয়েছিল।
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কেন ব্যতিক্রমী ছিল?
1863 খ্রিস্টাব্দে বর্তমান বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী গ্রাম থেকে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ ছিল একটি স্বতন্ত্র বা ব্যাতিক্রমী পত্রিকা।
প্রথমত, তৎকালীন বাংলা সংবাদপত্রে যেখানে বড়ো বড়ো শহর আর বিদেশের খবরই প্রকাশিত হত, বাংলার গ্রাম আর গ্রামবাসীদের খবর স্থান পেত না সেখানে গ্রামবার্তা প্রকাশিকা গ্রামবাসীদের ওপর জমিদার ও নিলকরদের নিপীড়ন, পুলিশের অত্যাচার, বিচারের নামে অবিচারের বিরুদ্ধে প্রবল সোচ্চার হয়ে ছিল।
দ্বিতীয়, সত্যতা যাচাই করেই সংবাদ বাছাই ও সম্পাদনা করতেন হরিনাথ তাই তাঁর প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন; যেমন, সেই সময়ের পাবনার ডিসির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় ডিসি চিঠিতে হরিনাথকে লিখেছিলেন, “সম্পাদক, আমি তোমাকে ভয় পাই না ঠিকই, তবে তোমার লেখনীর জন্য অনেক অপকর্ম ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।”
তৃতীয়ত, গ্রামীণ সমাজ ও জীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয় প্রকাশনের মাধ্যমে তৎকালীন শহুরে পত্রিকার মাঝে নিজের এক ব্যতিক্রমী স্বতন্ত্র স্থান তৈরি করে নিয়ে ছিল ‘গ্রামীণ সংবাদপত্রের জনক’ গ্রামবার্তা প্রকাশিকা।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কী?
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা ছিল একটি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা, যা 1863 সালে কাঙাল হরিনাথ মজুমদার কর্তৃক সম্পাদিত হয়। এটি তৎকালীন বাংলার গ্রামীণ সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও অবস্থা তুলে ধরার জন্য বিখ্যাত ছিল।
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ এটি বাংলার গ্রামীণ সমাজের বাস্তব চিত্র, জমিদারদের অত্যাচার, নীলকরদের শোষণ, পুলিশের দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে সাহসিকতার সাথে সংবাদ প্রকাশ করত। এটি শহুরে সংবাদপত্রের বিপরীতে গ্রামীণ জীবনকে কেন্দ্র করে একটি ব্যতিক্রমী ভূমিকা পালন করেছিল।
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কী ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করত?
গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় জমিদারি প্রথা, কৃষকদের সমস্যা, নীলকরদের অত্যাচার, পুলিশের দুর্নীতি, বিচার ব্যবস্থার ত্রুটি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হত। এছাড়াও সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ও প্রকাশিত হত।
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কে সম্পাদনা করতেন?
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা সম্পাদনা করতেন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার। তিনি তাঁর পত্রিকার মাধ্যমে গ্রামীণ সমাজের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সোচ্চার হয়েছিলেন।
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কীভাবে জমিদারদের বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল?
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা জমিদারদের অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় জমিদাররা এই পত্রিকাটির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়েছিল। তারা পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল এবং সম্পাদক হরিনাথ মজুমদারকে নানাভাবে হয়রানি করেছিল।
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কীভাবে তৎকালীন সমাজকে প্রভাবিত করেছিল?
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা তৎকালীন সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এটি গ্রামীণ মানুষের সমস্যা ও দুর্দশাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরেছিল এবং জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে। এটি সাধারণ মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেছিল।
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কীভাবে সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করেছিল?
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা শুধুমাত্র সংবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়েও লেখা প্রকাশ করত। এটি তৎকালীন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছিল এবং গ্রামীণ জীবনকে সাহিত্যের বিষয়বস্তু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কীভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল?
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা জমিদার ও নীলকরদের বিরোধিতার কারণে আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত এটি বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু এটি বাংলার সাংবাদিকতা ও সমাজে একটি অনন্য অবদান রেখে যায়।
গ্রামবার্তা প্রকাশিকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?
গ্রামবার্তা প্রকাশিকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব হল এটি বাংলার গ্রামীণ সমাজের প্রথম পত্রিকা হিসেবে গ্রামীণ মানুষের সমস্যা ও জীবনযাত্রাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরেছিল। এটি বাংলার সাংবাদিকতা ও সমাজ সংস্কারে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’য় সমাজের কোন্ কোন্ দিকগুলি তুলে ধরা হত? গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কেন ব্যতিক্রমী ছিল?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’য় সমাজের কোন্ কোন্ দিকগুলি তুলে ধরা হত? গ্রামবার্তা প্রকাশিকা কেন ব্যতিক্রমী ছিল?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।