এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “হাজী মহম্মদ মহসীন সম্পর্কে একটি টীকা লেখো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “হাজী মহম্মদ মহসীন সম্পর্কে একটি টীকা লেখো।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

হাজী মহম্মদ মহসীন সম্পর্কে একটি টীকা লেখো।
হাজী মহম্মদ মহসীন
অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলার ইতিহাসে হাজী মহম্মদ মহসীন ছিলেন একজন অন্যতম শিক্ষাব্রতী, মহানুভব ধর্মপ্রাণ, সমাজসেবক এবং দানশীল ব্যক্তিত্ব।
- আধুনিক শিক্ষা – আধুনিক শিক্ষার প্রসার ছিল তাঁর লক্ষ, তিনি ধর্মীয় শিক্ষাকে গুরুত্ব দেননি এবং তিনি মনে করতেন সমাজের উন্নতিসাধনের জন্য আধুনিক শিক্ষাই বিশেষ উপযোগী।
- ব্যক্তিত্ব – হাজী মহম্মদ মহসীনের বৈমাত্রেয় ভগিনী মুন্নাজানার মৃত্যুর পর তিনি তার অতুল ঐশ্বর্য্য ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন, অথচ এই সম্পত্তির সামান্যতম অংশও কখনও ব্যবহার করেননি বা ভোগ করেননি, তাঁর জীবনযাপনে কোনোরূপ আড়ম্বরতা ছিল না। তিনি ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব।
- শিক্ষাচিন্তা – মুসলমান সম্প্রদায় যাতে শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে সেদিকে তিনি দৃষ্টি দিয়েছেন, এক্ষেত্রে তিনি বহু অর্থ ব্যয় করেন। মাদ্রাসা শিক্ষার ব্যাপারে তিনি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন। শিক্ষানুরাগী মেটকাফের উদ্যোগে এবং তাঁর আর্থিক দানে চুঁচুড়ায় 1836 খ্রিস্টাব্দে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়, বর্তমানে এই কলেজটি হুগলি মহসীন কলেজ নামে পরিচিত।
- দানশীলতা – মহম্মদ মহসীনের জীবনে দানশীলতা ছিল একটি উল্লেখযোগ্য লক্ষ্য, ক্ষুধার্ত মানুষকে আহার, বস্ত্রহীন মানুষকে বস্ত্র, অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসার ব্যবস্থা ও ওষুধ প্রভৃতি দানের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনের মহত্তম কাজ করেন, দানের ক্ষেত্রে তিনি হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে কোনো বিভেদ করেননি।

মন্তব্য –
হাজী মহম্মদ মহসীনের দানের দ্বারা বহু শিক্ষার্থী, অনাথ, নিরন্ন মানুষ উপকৃত হয়েছেন, তিনি ছিলেন অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ ভারতীয়দের মধ্যে অন্যতম। তিনি ‘দানবীর’ নামে ইতিহাসে পরিচিত।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
হাজী মুহাম্মদ মহসীন কে ছিলেন?
হাজী মুহাম্মদ মহসীন ছিলেন অষ্টাদশ শতকের একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক, দানবীর ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলার ইতিহাসে “দানবীর” হিসেবে খ্যাত।
হাজী মহসীনের শিক্ষা সংক্রান্ত অবদান কী?
তিনি আধুনিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং মুসলিম সমাজকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছিলেন। তাঁর অর্থায়নে হুগলি মহসীন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
হুগলি মহসীন কলেজ সম্পর্কে কিছু বলুন।
1836 সালে চুঁচুড়ায় মেটকাফের উদ্যোগে ও হাজী মহসীনের অর্থায়নে এই কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এটি হুগলি মহসীন কলেজ নামে পরিচিত।
মহসীনের দানশীলতা সম্পর্কে কী জানা যায়?
তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সাহায্য করতেন। ক্ষুধার্তকে খাদ্য, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র ও অসুস্থদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন।
মহসীনের ব্যক্তিগত জীবন কেমন ছিল?
তিনি অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ও সরল জীবনযাপন করতেন। তাঁর বৈমাত্রেয় বোন মুন্নাজানার সম্পত্তি পেয়েও তিনি তা নিজের জন্য ব্যবহার করেননি।
হাজী মহসীন কেন বিখ্যাত?
তাঁর অসামান্য দানশীলতা, শিক্ষার প্রসার ও সমাজসেবার জন্য তিনি ইতিহাসে স্মরণীয়।
মহসীনের মৃত্যু কবে হয়?
হাজী মুহাম্মদ মহসীন 1812 সালে মৃত্যুবরণ করেন।
মহসীন ফান্ড কী?
তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে গঠিত মহসীন ফান্ড শিক্ষা ও সমাজসেবায় ব্যবহৃত হতো।
হাজী মহসীন কোন সময়ে বাস করতেন?
তিনি অষ্টাদশ শতকের শেষভাগ ও ঊনবিংশ শতকের শুরুতে সক্রিয় ছিলেন।
হাজী মহসীনকে কেন ‘দানবীর’ বলা হয়?
তাঁর অতুলনীয় দানশীলতা ও মানবসেবার কারণে তাঁকে “দানবীর” উপাধি দেওয়া হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “হাজী মহম্মদ মহসীন সম্পর্কে একটি টীকা লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “হাজী মহম্মদ মহসীন সম্পর্কে একটি টীকা লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।