এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ক্ষণপদের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো। ক্ষণপদের সাহায্যে Amoeba (অ্যামিবা) -এর গমন পদ্ধতি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্ষণপদের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো। ক্ষণপদের সাহায্যে Amoeba (অ্যামিবা) -এর গমন পদ্ধতি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
ক্ষণপদের বৈশিষ্ট্য –
- ক্ষণপদ সাইটোপ্লাজমের একটি রূপান্তরিত অস্থায়ী অঙ্গ।
- ক্ষণপদ বা সিউডোপোডিয়ামের আকার, আয়তন ও সংখ্যা বিভিন্ন ধরনের হয়।
- গমনের সময় দেহকোশের পরিধি থেকে প্লাজমা পর্দা ও বহিঃপ্লাজম লম্বা আঙুলের মতো প্রসারিত হয়।
- অন্তঃ প্লাজম এই প্রসারিত অংশে প্রবেশ করে ক্ষণপদ গঠন করে।
- সবথেকে বড়ো সিউডোপোডিয়ামের প্রান্তভাগ থেকে নিঃসৃত একধরনের আঠালো রস প্রাণীটিকে কোনো কিছুর সঙ্গে আটকে থাকতে সাহায্য করে।
Amoeba (অ্যামিবা) -এর গমন পদ্ধতি –
Amoeba (অ্যামিবা) -এর মাইক্রোফাইব্রিল সমৃদ্ধ ক্ষণপদ দেহের প্রোটোপ্লাজমের যে-কোনো অংশ থেকে অস্থায়ীভাবে উৎপন্ন হয়। গমন সম্পন্ন হলে ক্ষণপদগুলি আবার দেহের মধ্যে মিলিয়ে যায়। এদের খুব ধীর গতির গমনকে অ্যামিবয়েড গমন বলে।

বিজ্ঞানীরা Amoeba (অ্যামিবা)-এর গমন সম্পর্কিত নানান মতবাদ ও তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন, এদের মধ্যে প্যান্টিন, হাইম্যান, মাস্ট প্রবর্তিত সল-জেল মতবাদ (Sol-Gel theory) সর্বজনগ্রাহ্য।
Amoeba (অ্যামিবা) -এর কোশের পরিধিস্ত ঘন এক্টোপ্লাজমকে বলা হয় জেল (Gel) এবং কেন্দ্রস্থ অপেক্ষাকৃত কম ঘন এন্ডোপ্লাজমকে বলা হয় সল (Sol)। সল-জেল মতবাদ অনুযায়ী, Amoeba (অ্যামিবা)-এর গমন সাইটোপ্লাজমের ঘনত্বের পরিবর্তনের ফলে সম্পন্ন হয়। ক্ষণপদযুক্ত প্রোটোপ্লাজম সল বা জলীয় দশা থেকে গমন অভিমুখে জেল বা জেলীয় দশায় পরিবর্তিত হয়।
এর ফলে ক্ষণপদটি ভারী, আঠালো হয় এবং কঠিন কোনো বস্তু বা সাবস্ট্রেটাম (Substratum) -এর সঙ্গে আটকে থাকে। এরপর দেহের পিছনের দিকের সাইটোপ্লাজম জেল অবস্থা থেকে কম ঘন সল অবস্থায় পরিবর্তিত হয় এবং ক্ষণপদের দিকে প্রবাহিত হয়, ফলত Amoeba (অ্যামিবা)-এর পিছনের অংশটি সামনের দিকে এগিয়ে আসে এবং আগের ক্ষণপদটি গুটিয়ে যায়।
এইভাবে গমন অভিমুখে নতুন ক্ষণপদ তৈরি করে এবং পুরোনো ক্ষণপদের অবলুপ্তি ঘটিয়ে Amoeba (অ্যামিবা) ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।
গমনের সময় কোশের অণুতন্তুর অ্যাকটিন ও মায়োসিন প্রোটিন সাইটোপ্লাজমের সংকোচন ও প্রসারণ ঘটিয়ে শক্তির জোগান দেয়। স্বাভাবিক অবস্থায় এরা ঘণ্টায় মাত্র কয়েক মাইক্রন দূরত্ব অতিক্রম করে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ক্ষণপদের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো। ক্ষণপদের সাহায্যে Amoeba (অ্যামিবা) -এর গমন পদ্ধতি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় “জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়” -এর “প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment