এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “কিপযন্ত্রে কীভাবে H₂S গ্যাস প্রস্তুত করা হয় তা চিত্রসহ বর্ণনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় “পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মসমূহ” -এর “পরীক্ষাগার ও রাসায়নিক শিল্পে অজৈব রসায়ন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

কিপযন্ত্রে কীভাবে H₂S গ্যাস প্রস্তুত করা হয় তা চিত্রসহ বর্ণনা করো।
কিপযন্ত্রে H₂S প্রস্তুতি – কিপযন্ত্র হল এমন একটি যন্ত্র, যার সাহায্যে ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায় নিয়ন্ত্রিত মানের হাইড্রোজেন সালফাইড (H₂S) গ্যাস প্রস্তুত করা হয়। কিপযন্ত্রের অতি প্রয়োজনীয় ব্যবহার হল পরীক্ষাগারে অতি সহজে তৎক্ষণাৎ নিয়ন্ত্রিত মানের H₂S -কে সংগ্রহ করে ব্যবহার করা।
কিপযন্ত্র দুটি অংশ নিয়ে গঠিত –
- নিম্নাংশ এবং
- ঊর্ধ্বাংশ।
- নিম্নাংশ – নিম্নাংশটি একটি পূর্ণ গোলক (A) এবং একটি অর্ধগোলকের (B) সমন্বয়ে গঠিত।
- ঊর্ধ্বাংশ – ঊর্ধ্বাংশটি একটি পূর্ণ গোলক (C) এবং একটি নির্গমনল দ্বারা গঠিত। নির্গমনলের মুখে একটি স্টপকক বর্তমান।
ঊর্ধ্বগোলকটি মধ্য গোলকের সঙ্গে একটি দীর্ঘনল দ্বারা বায়ু নিরুদ্ধভাবে যুক্ত করা থাকে এবং দীর্ঘনলটি মধ্য গোলকের নীচ প্রান্ত অবধি লম্বা হয়।
এই যন্ত্রের মাঝের গোলকের মধ্যে ফেরাস সালফাইড (FeS)-এর টুকরো নেওয়া হয়। এরপর স্টপককটি খুলে ফানেলের সাহায্যে লঘু H₂SO₄ দ্বারা নিম্ন গোলকটি পূর্ণ করা হয়। এরপর অ্যাসিডটি মধ্য গোলকে FeS -এর সংস্পর্শে এসে H₂S উৎপন্ন করে এবং মধ্য গোলকের নির্গমনল দিয়ে বেরিয়ে আসে ও সেটি ব্যবহার করা হয়।
মধ্য গোলকের নির্গমনলের সঙ্গে একটি স্টপকক যুক্ত থাকে। প্রয়োজন না হলে স্টপককটি বন্ধ করে দিলে গ্যাস বাইরে আসতে পারে না এবং অ্যাসিড তলের উপর চাপ প্রয়োগ করে ও অ্যাসিডটি নিম্নগোলকের মধ্যে চলে যায়। ফলে FeS অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসতে পারে না এবং বিক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়।
আবার যখন H₂S গ্যাসের প্রয়োজন হয় স্টপককটি খুলে দিলে যন্ত্রের মধ্যে জমা গ্যাসটি বেরিয়ে আসে ফলে গোলকের মধ্যে চাপ কমে যায় এবং অ্যাসিড খুব সহজেই FeS -এর সংস্পর্শে আসে ও H₂S উৎপন্ন করে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “কিপযন্ত্রে কীভাবে H₂S গ্যাস প্রস্তুত করা হয় তা চিত্রসহ বর্ণনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় “পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মসমূহ” -এর “পরীক্ষাগার ও রাসায়নিক শিল্পে অজৈব রসায়ন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment