এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “কলকাতা বন্দরের পরিপূরক বন্দর হিসেবে হলদিয়া বন্দর গড়ে ওঠার কারণগুলি লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

কলকাতা বন্দরের পরিপূরক বন্দর হিসেবে হলদিয়া বন্দর গড়ে ওঠার কারণগুলি লেখো।
অবস্থান – কলকাতা থেকে প্রায় 98 কিলোমিটার দক্ষিণে হুগলি ও হলদি নদীর সংযোগস্থলে হলদিয়া বন্দরটি গড়ে উঠেছে। এটি পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় হুগলি নদী মোহানার প্রায় 30 কিমি অভ্যন্তরে অবস্থিত। কলকাতার সহযোগী বন্দর বা পরিপূরক বন্দর হিসেবে হলদিয়া ভারতের প্রথম শ্রেণির বন্দরের মর্যাদা পেয়েছে।
পশ্চাদ্ভূমি – সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত হলদিয়া বন্দরের পশ্চাদ্ভূমি। এককথায় কলকাতা বন্দরের পশ্চাদ্ভূমি হল এই বন্দরের পশ্চাদ্ভূমি। মূলত কলকাতা বন্দরের পশ্চাদ্ভূমির ওপর নির্ভর করেই হলদিয়া বন্দর গড়ে উঠেছে।
হলদিয়া বন্দর গড়ে ওঠার কারণ –
- হুগলি নদীর নাব্যতা হ্রাস – হুগলি নদীগর্ভে ক্রমশ পলি, বালির সঞ্চয়ে নদীর গভীরতা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বড়ো বড়ো জাহাজ কলকাতা বন্দরে প্রবেশ করতে পারে না। তাই কলকাতা বন্দরের সহযোগী বন্দররূপে কলকাতা থেকে প্রায় 98 কিমি দূরে নতুন হলদিয়া বন্দর গড়ে তোলা হয়েছে।
- স্বাভাবিক পোতাশ্রয় – হুগলি নদীর খাঁড়িমুখে হলদিয়া বন্দরটি অবস্থান করায় এর পোতাশ্রয়টি স্বাভাবিক ও সুরক্ষিত। এর ফলে এই পোতাশ্রয়যুক্ত বন্দরটি সামুদ্রিক ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে মুক্ত।
- কলকাতা বন্দরের চাপ কমানো – কলকাতা সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের একমাত্র বন্দর হওয়ায় এই বন্দরের কাজকর্মের চাপ অত্যন্ত বেশি। তাই কলকাতা বন্দরের কাজকর্মের চাপ হ্রাস করার জন্য হুগলি নদীর মোহানা থেকে প্রায় 30 কিমি অভ্যন্তরে হলদি নদীর মোহানায় এই বন্দরটি গড়ে তোলা হয়েছে।
- সরল নদীপথ – হলদিয়া নদীবন্দর হলেও নদী মোহানা থেকে খুব বেশি দূরে অবস্থিত নয়। ফলে জাহাজ যাতায়াতের পথ খুবই সরল। বড়ো বড়ো জাহাজ সহজেই আসা-যাওয়া করতে পারে।
- জলের গভীরতা – কলকাতা বন্দর অপেক্ষা হলদিয়া বন্দরের জলের গভীরতা অনেক বেশি। এই বন্দরে সারাবছর জলের গভীরতা প্রায় 12 মিটার পর্যন্ত থাকে। এই কারণে বড়ো বড়ো জাহাজ হলদিয়া বন্দরে প্রবেশ করতে পারে।
- আধুনিক বন্দরের সুবিধা – হলদিয়া বন্দরে জাহাজ থেকে মালপত্র খালাস ও বোঝাই করার জন্য সব ধরনের আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা হয়েছে। পৃথক পৃথক জিনিসপত্রের জন্য পৃথক পৃথক জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। আর জাহাজ মেরামতির জন্য দুটি ড্রাইডকও চালু রয়েছে।
- উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা – হলদিয়াকে 41 নং জাতীয় সড়কের দ্বারা কলকাতা-মুম্বই 6 নং জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও হলদিয়া বন্দরটিকে সড়কপথের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথের সঙ্গে যুক্ত করে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
- আধুনিক শিল্পাঞ্চল – হলদিয়া বন্দরটিকে কেন্দ্র করে আধুনিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। এই কারণে বন্দরের গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- অন্যান্য – অন্যান্য একাধিক সুযোগসুবিধার মধ্যে রয়েছে বন্দর অংশের পর্যাপ্ত সুলভ শ্রমিক, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা প্রভৃতি। অদূর ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গসহ সমগ্র পূর্ব ভারতের অর্থনীতিতে হলদিয়া বন্দরের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।
রপ্তানিকৃত পণ্য – কয়লা, রাসায়নিক দ্রব্য।
আমদানিকৃত পণ্য – খনিজতেল ও তৈলজাত সামগ্রী, খাদ্যশস্য, যন্ত্রপাতি, শিল্পজ কাঁচামাল প্রভৃতি।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “কলকাতা বন্দরের পরিপূরক বন্দর হিসেবে হলদিয়া বন্দর গড়ে ওঠার কারণগুলি লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। । ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন