এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

লালন ফকির স্মরণীয় কেন? লালন ফকিরের গানে কীভাবে মানবধর্মের জয়গান গাওয়া হয়েছে

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “লালন ফকির স্মরণীয় কেন? লালন ফকিরের গানে কীভাবে মানবধর্মের জয়গান গাওয়া হয়েছে? নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “লালন ফকির স্মরণীয় কেন? লালন ফকিরের গানে কীভাবে মানবধর্মের জয়গান গাওয়া হয়েছে?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

লালন ফকির স্মরণীয় কেন? লালন ফকিরের গানে কীভাবে মানবধর্মের জয়গান গাওয়া হয়েছে?

লালন ফকির স্মরণীয় কেন?

বাউল গানের প্রবর্তক লালন ফকির (1774 – 1890 খ্রিস্টাব্দ) নদিয়া জেলার কুষ্টিয়া মহকুমার কুমারখালিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিরিজ সাঁই নামে এক বাউলের কাছে বাউল ধর্মে দীক্ষিত হন। ‘বাউল’ শব্দের অর্থ ‘বাতুল’ বা ‘উন্মাদগ্রস্থ’। লালন কুষ্টিয়া শহরের কাছে ছেঁউরিয়া গ্রামে আখড়া স্থাপন করে সংগীতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে মানবধর্মের বার্তা পৌঁছে দেন। 116 বছরের দীর্ঘ জীবনে তিনি প্রায় দশ হাজার গান রচনা করেন।

বাংলার সংস্কৃতিতে লালন ধর্মীয় উদারতা ও সমন্বয়ের প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়ে থাকেন। তাঁর রচিত গান সমসাময়িক ও পরবর্তীকালে বহু লেখক, চিন্তা-বিদ ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে। ধর্ম সমন্বয়ের অন্যতম পথিকৃৎ লালন ফকির মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়ে ছিলেন। বাংলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান আজও অতুলনীয়।

লালন ফকিরের গানে কীভাবে মানবধর্মের জয়গান গাওয়া হয়েছে?

অথবা, সর্বধর্ম সমন্বয়ের আদর্শ ফুটে উঠেছে?

উনিশ শতকের ধর্মীয় সংকীর্ণতার দিনে লালন ফকিরের সমগ্র জীবন তথা কর্মকাণ্ড সর্বধর্মসমন্বয়ের এক উজ্জ্বল ইতিবৃত্ত। ধর্মীয় প্রশ্নে লালন ছিলেন চরম সহনশীল এবং জাতিভেদ প্রথার ঘোর বিরোধী। বাউল গানের মধ্য দিয়ে তিনি জাতিভেদের ঊর্ধ্বে মানবধর্মের জয়গান গেয়েছেন। তাঁর গানে ফুটে উঠেছে জাতপাত, ধর্মীয় ভেদাভেদ মুক্ত মানব সমাজ গঠনের ব্রত – ‘এমন মানব সমাজ কবে সৃজন হবে/যেদিন হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান/জাতি-গোত্র নাহি রবে।’

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

লালন ফকির কে ছিলেন?

লালন ফকির ছিলেন বাংলার বিখ্যাত বাউল সাধক, গীতিকার ও সমাজ সংস্কারক। তিনি মানবধর্ম, ধর্মীয় উদারতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা প্রচার করেছেন।

লালন ফকিরের জন্মস্থান কোথায়?

লালন ফকিরের জন্মস্থান বর্তমান বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলায়।

লালন ফকিরের গানের মূল বিষয় কী?

লালন ফকিরের গানের মূল বিষয় হলো মানবধর্ম, ধর্মীয় সমন্বয়, জাতিভেদের বিরোধিতা এবং মানবতার জয়গান। তাঁর গানে ফুটে উঠেছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবমুক্তির বার্তা।

লালন ফকিরের গানে সর্বধর্ম সমন্বয় কীভাবে ফুটে উঠেছে?

লালন ফকিরের গানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। তিনি ধর্মীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন।

লালন ফকিরের গান কেন গুরুত্বপূর্ণ?

লালন ফকিরের গান গুরুত্বপূর্ণ কারণ এতে ধর্মীয় সংকীর্ণতা, জাতিভেদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে শক্তিশালী বার্তা রয়েছে। তাঁর গান মানুষকে মানবতা ও সম্প্রীতির পথে উদ্বুদ্ধ করে।

লালন ফকিরের অবদান কী?

লালন ফকির বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সমন্বয়ের পথিকৃৎ। তিনি বাউল গানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে মানবধর্মের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন।

লালন ফকিরের গান কীভাবে বাংলার সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করেছে?

লালন ফকিরের গান বাংলার সংস্কৃতিতে ধর্মীয় উদারতা, মানবতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছে। তাঁর গান ও দর্শন বাংলার সাহিত্য, সংগীত ও সমাজচিন্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

লালন ফকিরের গান কেন আজও প্রাসঙ্গিক?

লালন ফকিরের গান আজও প্রাসঙ্গিক কারণ এটি ধর্মীয় সংকীর্ণতা, সাম্প্রদায়িকতা ও জাতিভেদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বার্তা বহন করে। তাঁর গান ও দর্শন মানবতা ও সম্প্রীতির পথ দেখায়।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “লালন ফকির স্মরণীয় কেন? লালন ফকিরের গানে কীভাবে মানবধর্মের জয়গান গাওয়া হয়েছে?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “লালন ফকির স্মরণীয় কেন? লালন ফকিরের গানে কীভাবে মানবধর্মের জয়গান গাওয়া হয়েছে?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন