এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “মহিভাবক আলোড়ন ও গিরিজনি আলোড়ন কাকে বলে, মহিভাবক আলোড়ন ও গিরিজনি আলোড়নের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “মহিভাবক আলোড়ন ও গিরিজনি আলোড়ন কাকে বলে, মহিভাবক আলোড়ন ও গিরিজনি আলোড়নের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

মহিভাবক আলোড়ন কাকে বলে?
গ্রিক শব্দ epeiors এর অর্থ – মহাদেশ এবং genesis এর অর্থ সৃষ্টি বা গঠন অর্থাৎ epeirogenic এর অর্থ হল – মহাদেশ গঠন। মহাদেশীয় ভূত্বক গঠন ও পরিবর্তনকারী ভূপৃষ্ঠে উলম্বভাবে কার্যকরী আলোড়নকে (অন্তর্জাত ধীর শক্তিকে) মহীভাবক আলোড়ন বলে। এই আলোড়ন পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বরাবর অর্থাৎ উলম্বভাবে কাজ করে। মহিভাবক আলোড়নের প্রভাবে ভূত্বক উলম্বভাবে উত্থিত বা অবনত হয়। এই আলোড়নের প্রভাবে স্তূপ পর্বত, গ্রস্ত উপত্যকা, চ্যুতি, ভৃগুতট, সমুদ্র, মালভূমি প্রভৃতি সৃষ্টি হয়।
গিরিজনি আলোড়ন কাকে বলে?
গ্রিক শব্দ oros এর অর্থ – পর্বত এবং genesis এর অর্থ সৃষ্টি বা গঠন অর্থাৎ orogenic এর অর্থ হল – পর্বত গঠন। যে আলোড়ন (অন্তর্জাত ধীর শক্তি) পৃথিবীতে অনুভূমিকভাবে ক্রিয়া করে ভঙ্গিল পর্বত গঠনে সাহায্য করে তাকে গিরিজনি আলোড়ন বলে। এই আলোড়ন পৃথিবীর পরিধি বা স্পর্শক বরাবর অর্থাৎ অনুভূমিকভাবে ক্রিয়া করে। গিরিজনি আলোড়নের প্রভাবে ভূত্বকে কোথাও সংনমনের ফলে সংকোচন আবার কোথাও টানের ফলে প্রসারণ সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে শিলায় ভাঁজ পড়ে প্রধানত ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয়।
মহিভাবক আলোড়ন ও গিরিজনি আলোড়নের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
মহিভাবক ও গিরিজনি আলোড়নের পার্থক্য –
বিষয় | মহিভাবক আলোড়ন | গিরিজনি আলোড়ন |
সংজ্ঞা | যে অন্তর্জাত প্রক্রিয়া ভূত্বকে ব্যাসার্ধ বরাবর বা উল্লম্বভাবে ক্রিয়াশীল হলে ভূত্বকের কোনো অংশের উত্থান বা অবনমন ঘটে তাকে মহিভাবক আলোড়ন বলে। | যে অন্তর্জাত প্রক্রিয়া পৃথিবীর স্পর্শক বরাবর কার্যকরী হলে ভূত্বকের কোনো অংশের অনুভূমিক স্থান পরিবর্তন হয়, তাকে গিরিজনি আলোড়ন বলে। |
শক্তির প্রভাব | এই আলোড়নের ফলে ভূ-অভ্যন্তরস্থ শক্তি পৃথিবীর কেন্দ্রাভিমুখী অথবা কেন্দ্রবহির্মুখী হিসেবে কাজ করে। | এই আলোড়নের ফলে সৃষ্ট শক্তি পরস্পরের দিকে বা বিপরীতে কাজ করে। |
ভূত্বকের ওপর প্রভাব | ভূত্বকের কোনো অংশের উত্থান বা অবনমন ঘটে। ফলে চ্যুতি বা ফাটলের সৃষ্টি হয়। | ভূত্বকে সংকোচন ও প্রসারণের ফলে শিলা ভাঁজপ্রাপ্ত হয় এবং কোনো অংশের অনুভূমিক অপসারণ ঘটে। |
বিস্তৃতি | এই আলোড়নটি সাধারণত স্থানীয়ভাবে ঘটে। | ব্যাপক আকারে বিশাল অঞ্চল জুড়ে সংঘটিত হয়। |
নামকরণ | মহাদেশ জুড়ে ঘটে এবং মহাদেশ গঠনে সাহায্য করে বলে এই আলোড়নকে মহিভাবক আলোড়ন বলে। | এই আলোড়নের ফলে কেবল ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়, তাই একে গিরিজনি আলোড়ন বলে। |
ফলাফল | মালভূমি, সমুদ্র, চ্যুতি, মহাদেশ, ভৃগুতট প্রভৃতি গঠিত হয়। | ভঙ্গিল পর্বত ও বিভিন্ন থ্রাস্ট প্রভৃতি সৃষ্টি হয়। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
মহীভাবক আলোড়ন কাকে বলে?
মহীভাবক আলোড়ন হল পৃথিবীর ভূত্বকে উলম্বভাবে কার্যকরী অন্তর্জাত ধীর শক্তি, যা মহাদেশীয় ভূত্বকের গঠন ও পরিবর্তন ঘটায়। এই আলোড়ন পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বরাবর উলম্বভাবে কাজ করে এবং এর প্রভাবে ভূত্বক উত্থিত বা অবনত হয়। এর ফলে স্তূপ পর্বত, গ্রস্ত উপত্যকা, চ্যুতি, ভৃগুতট, সমুদ্র, মালভূমি প্রভৃতি সৃষ্টি হয়।
মহীভাবক আলোড়নের উৎপত্তি কোথা থেকে হয়?
মহীভাবক আলোড়নের উৎপত্তি পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ শক্তি থেকে, বিশেষত ম্যান্টেল স্তরে সংঘটিত ধীর গতির প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই শক্তি ভূত্বকে উলম্বভাবে প্রভাব ফেলে।
মহীভাবক আলোড়নের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
1. এটি উলম্বভাবে কাজ করে।
2. এর প্রভাবে ভূত্বক উত্থিত বা অবনত হয়।
3. এটি স্তূপ পর্বত, গ্রস্ত উপত্যকা, চ্যুতি, মালভূমি ইত্যাদি সৃষ্টি করে।
গিরিজনি আলোড়ন কাকে বলে?
গিরিজনি আলোড়ন হল পৃথিবীর ভূত্বকে অনুভূমিকভাবে ক্রিয়াশীল অন্তর্জাত ধীর শক্তি, যা ভঙ্গিল পর্বত গঠনে সাহায্য করে। এই আলোড়ন পৃথিবীর পরিধি বরাবর অনুভূমিকভাবে কাজ করে এবং এর প্রভাবে শিলায় ভাঁজ পড়ে ও ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয়।
গিরিজনি আলোড়নের উৎপত্তি কোথা থেকে হয়?
গিরিজনি আলোড়নের উৎপত্তিও পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ শক্তি থেকে, বিশেষত টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ বা সংকোচনের ফলে। এটি অনুভূমিকভাবে ভূত্বকে প্রভাব ফেলে।
গিরিজনি আলোড়নের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
1. এটি অনুভূমিকভাবে কাজ করে।
2. এর প্রভাবে শিলায় ভাঁজ পড়ে এবং ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয়।
3. এটি ভূত্বকে সংকোচন ও প্রসারণ সৃষ্টি করে।
মহীভাবক আলোড়নের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপের উদাহরণ দাও।
1. স্তূপ পর্বত (যেমন – ব্ল্যাক ফরেস্ট, জার্মানি)।
2. গ্রস্ত উপত্যকা (যেমন – রিফট ভ্যালি, আফ্রিকা)।
3. চ্যুতি (যেমন – সান অ্যান্ড্রিয়াস ফল্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)।
4. মালভূমি (যেমন – দাক্ষিণাত্য মালভূমি, ভারত)।
গিরিজনি আলোড়নের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপের উদাহরণ দাও।
ভঙ্গিল পর্বত (যেমন – হিমালয়, আল্পস)। ভাঁজযুক্ত শিলাস্তর।
মহীভাবক ও গিরিজনি আলোড়নের মধ্যে কোনটি দ্রুতগতিতে কাজ করে?
গিরিজনি আলোড়ন তুলনামূলকভাবে দ্রুতগতিতে কাজ করে, কারণ এটি টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের সাথে সম্পর্কিত। অন্যদিকে, মহীভাবক আলোড়ন ধীরগতিতে কাজ করে।
মহীভাবক ও গিরিজনি আলোড়নের মধ্যে কোনটি বেশি শক্তিশালী?
গিরিজনি আলোড়ন সাধারণত বেশি শক্তিশালী, কারণ এটি ভূত্বকে ব্যাপক সংকোচন ও ভাঁজ সৃষ্টি করে। তবে উভয়ই পৃথক প্রক্রিয়ায় ভূমিরূপ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মহীভাবক আলোড়নের ফলে সমুদ্রের সৃষ্টি কীভাবে হয়?
মহীভাবক আলোড়নের ফলে ভূত্বকের কিছু অংশ অবনত হয়ে সমুদ্রের সৃষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ, গ্রস্ত উপত্যকা বা রিফট ভ্যালি জলে পূর্ণ হয়ে সমুদ্রে পরিণত হতে পারে।
গিরিজনি আলোড়নের ফলে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির প্রক্রিয়া কী?
গিরিজনি আলোড়নের ফলে দুটি টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে এবং শিলাস্তরে অনুভূমিক চাপ প্রয়োগ হয়। এই চাপের ফলে শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে এবং ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয়।
মহীভাবক ও গিরিজনি আলোড়নের মধ্যে কোনটি আগে ঘটে?
সাধারণত গিরিজনি আলোড়ন আগে ঘটে, কারণ এটি টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের সাথে সম্পর্কিত। এরপর মহীভাবক আলোড়নের মাধ্যমে ভূত্বকের উলম্ব পরিবর্তন ঘটে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “মহিভাবক আলোড়ন ও গিরিজনি আলোড়ন কাকে বলে, মহিভাবক আলোড়ন ও গিরিজনি আলোড়নের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “মহিভাবক আলোড়ন ও গিরিজনি আলোড়ন কাকে বলে, মহিভাবক আলোড়ন ও গিরিজনি আলোড়নের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।