এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বাংলায় মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কীরূপ অবদান ছিল?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “বাংলায় মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কীরূপ অবদান ছিল?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের পঞ্চম অধ্যায় “বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

বাংলায় মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কীরূপ অবদান ছিল?
মুদ্রণের ব্যবসায়িক উদ্যোগে প্রথম দিককার যেসব বাঙালি পুরুষ সাফল্য লাভ করেছিলেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য।
বাংলায় মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বর্ণমালার সংস্কার –
বাংলা মুদ্রণ প্রকাশনা জগতের উন্নতিকল্পে তিনি ছিলেন এক সচেতন মুদ্রাকর, প্রকাশক ও পুস্তক ব্যবসায়ী। তিনি স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণগুলির সংস্কার করেন এবং তাদের আদর্শরূপ তুলে ধরেন ‘বর্ণপরিচয়’ প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডে। তিনি নতুন ধাঁচে বাংলা অক্ষর তৈরি করান এবং তা ‘বিদ্যাসাগর সাট’ নামে পরিচিতি পায়।
বাংলায় মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কৃত প্রেস প্রতিষ্ঠা –
বিদ্যাসাগর 1847 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় স্থাপন করেন সংস্কৃত প্রেস। এখান থেকে মুদ্রিত প্রথম বাংলা বই ছিল ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গল’। তাঁর দুই খণ্ডের ‘বর্ণপরিচয়’ (1855 খ্রিস্টাব্দ), ‘কথামালা’, ‘বোধোদয়’, মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ‘শিশুশিক্ষা’ প্রভৃতি গ্রন্থও এখান থেকেই প্রকাশিত হয়।
বাংলায় মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটারি স্থাপন –
মুদ্রণ প্রকাশনার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যাসাগর সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটারি স্থাপন করেন 1847 খ্রিস্টাব্দে। এটিই ছিল তাঁর প্রথম বইয়ের দোকান। তাঁর নিজের সংস্কৃত প্রেস ছাড়াও অন্যান্য প্রকাশনা সংস্থার বই এখানে বিক্রয় হত। শুধুমাত্র স্কুলপাঠ্য বই ছেপে ও বিক্রি করে তখন বিদ্যাসাগরের মাসিক আয় ছিল তিন-চার হাজার টাকা। ‘বর্ণপরিচয়’ বছরে প্রায় পঞ্চাশ হাজার কপি বিক্রি হত।
বাংলায় মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কলকাতা পুস্তকালয় প্রতিষ্ঠা –
পরবর্তী সময়ে 1885 খ্রিস্টাব্দে ‘কলকাতা পুস্তকালয়’ নামে তিনি নতুন একটি পুস্তক বিপণি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নিজের ও কপি রাইটের বইগুলি এই সংস্থা থেকে প্রকাশিত হত।
বাংলায় মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মন্তব্য –
বিদ্যাসাগর ছিলেন একাধারে সুলেখক, প্রকাশক, পুস্তক-বিক্রেতা ও মুদ্রণ ব্যবসায়ী। শিক্ষাসংস্কারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সাফল্য লাভও যে অসম্ভব নয়, তা তিনি প্রমাণ করেছেন। তৎকালীন সর্বশ্রেষ্ঠ পুস্তক প্রকাশনা ও বিক্রয় সংস্থার মালিক হয়ে বাংলা বই ব্যবসার অন্যতম অগ্রণী পুরুষ হিসেবে তিনি ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বাংলায় মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কীরূপ অবদান ছিল?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “বাংলায় মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কীরূপ অবদান ছিল?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের পঞ্চম অধ্যায় “বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ: বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment