এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা করো।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা করো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ
নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ

নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা করো।

নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপসমূহ –

নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপসমূহ প্রধানত নদীর উচ্চগতিতে পরিলক্ষিত হয়। নদীখাতের ক্ষয় ও পরিবহণের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপকে ক্ষয়জাত ভূমিরূপ বলে। নিম্নে ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হল –

V -আকৃতির উপত্যকা – আর্দ্র ও আর্দ্র প্রায় জলবায়ু অঞ্চলে নদীর পার্বত্য প্রবাহে ভূমির ঢাল বেশি থাকায় নদীগুলি প্রবলভাবে নিম্নক্ষয় করে এবং বৃষ্টিপাতের প্রভাবে স্বল্প পরিমাণে পার্শ্বক্ষয় করে। ফলে নদী উপত্যকা একদিকে গভীর হয়ে ওঠে এবং পূর্বাপেক্ষা চওড়া হয়ে V -আকৃতির উপত্যকা গঠন করে। V আকৃতির উপত্যকায় নদী পার্শ্বক্ষয়ের তুলনায় নিম্নক্ষয় বেশি হলে । আকৃতির উপত্যকা গঠন করে।

V -আকৃতির উপত্যকা
V -আকৃতির উপত্যকা

শৃঙ্খলিত বা আবদ্ধ শৈলশিরা – কঠিন শিলাকে পরিহার করার জন্য পার্বত্য প্রবাহে নদী ছোটো ছোটো বাঁক নিয়ে প্রবাহিত হয়। এর ফলে পরপর দুটি বাঁকের সমস্ত স্পারগুলিকে একসঙ্গে দেখা যায় না। এই প্রকার ভূমিরূপকে শৃঙ্খলিত শৈলশিরা বলে।

উদাহরণ – তিস্তা নদীর পার্বত্য অংশে এই ভূমিরূপটি দেখা যায়।

শৃঙ্খলিত শৈলশিরা
শৃঙ্খলিত শৈলশিরা

গিরিখাত – উচ্চগতিতে নদী প্রবলবেগে প্রবাহিত হওয়ায় পার্শ্বক্ষয়ের তুলনায় নিম্নক্ষয় অধিক হয়। এর ফলে নদীখাত খাড়া ইংরেজি ‘V’ বা ‘।’ আকৃতির হয় এবং নদী প্রায় সোজা পথে প্রবাহিত হয়। পার্বত্য অঞ্চলের এইরূপ গভীর ও সংকীর্ণ নদী উপত্যকাকে গিরিখাত বলে।

উদাহরণ – পৃথিবীর গভীরতম গিরিখাত হল নেপালের কালি নদীর কালিগণ্ডকী গিরিখাত (5571 মিটার)। এ ছাড়া শতদ্রু, সাংপো, সিন্ধু প্রভৃতি নদীতে এরূপ একাধিক গিরিখাত দেখা যায়।

গিরিখাত
গিরিখাত

ক্যানিয়ন – পার্বত্য অঞ্চলের গিরিখাতের মতোই শুষ্ক মরু অঞ্চলে যে ইংরেজি ‘।’ আকৃতির খাড়া উপত্যকার সৃষ্টি হয় তাকে ক্যানিয়ন বলে।

উদাহরণ – আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন পৃথিবীর দীর্ঘতম ক্যানিয়ন (383 কিমি দীর্ঘ, সর্বাধিক গভীরতা প্রায় 1600 মিটার)। পেরু দেশের কলকা নদীর এল ক্যানন দ্য কলকা পৃথিবীর গভীরতম (4375 মি) ক্যানিয়ন।

খরস্রোত – নদীর পার্বত্য প্রবাহে প্রচণ্ড ঢালসম্পন্ন জলপ্রপাতে যখন বিপুল পরিমাণ জলরাশি প্রবাহিত হয় তখন তাকে খরস্রোত বলে।

উদাহরণ – আফ্রিকার জাইরে নদীতে পরপর 32টি খরস্রোতের সৃষ্টি হয়েছে।

জলপ্রপাত – উচ্চগতিতে নদীর তলদেশের ঢাল হঠাৎ বিচ্যুত হলে বিচ্যুত তলের ওপর থেকে জলরাশি নীচে পতিত হয়, তাকে জলপ্রপাত বলে। কঠিন ও কোমল শিলা পাশাপাশি অবস্থান করলে এরূপ জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়। দক্ষিণ আমেরিকার ভেনেজুয়েলার রিও করোনি নদীর সাল্টো অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাতটি পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাত (উচ্চতা 979 মি)। ভারতের কর্ণাটকের ভারাহি নদীর ওপর কুঞ্চিকল ভারতের উচ্চতম (455 মি) জলপ্রপাত।

জলপ্রপাত
জলপ্রপাত

প্রপাতকূপ – জলপ্রপাতের পাদদেশে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্তের মধ্যস্থিত নুড়ি বা শিলা পাক খেতে খেতে ঘর্ষণের ফলে ভূমিশিলায় যে গর্তের সৃষ্টি করে, তাকে প্রপাতকূপ বলে।

মন্থকূপ – প্রবলবেগে প্রবাহিত নদীর তলদেশ বা পার্শ্বদেশে জলাবর্তের সৃষ্টি হলে সেখানে নুড়ি বা শিলার ঘর্ষণের ফলে যে গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে মন্থকূপ বা পটহোল বলে। মন্থকূপের পরিধি কয়েক সেমি থেকে কয়েক মিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর গভীরতা 7 মিটারেরও বেশি হয়। যখন অনেকগুলি মন্থকূপ একসঙ্গে অবস্থান করে তখন তাকে ম্যকূপ কলোনি বলে।

উদাহরণ – ঝাড়খণ্ডের খরকাই নদীগর্ভে অসংখ্য ম্যকূপ দেখা যায়।

মন্থকূপ
মন্থকূপ

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

নদীর ক্ষয়কাজ কী?

নদীর ক্ষয়কাজ বলতে নদীর প্রবাহের মাধ্যমে ভূমির উপরের স্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটানোকে বোঝায়। নদীর এই ক্ষয়কাজের ফলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়।

V -আকৃতির উপত্যকা কীভাবে সৃষ্টি হয়?

নদীর উচ্চগতিতে ভূমির ঢাল বেশি থাকায় নদী প্রবলভাবে নিম্নক্ষয় করে এবং বৃষ্টিপাতের প্রভাবে স্বল্প পরিমাণে পার্শ্বক্ষয় করে। এর ফলে নদী উপত্যকা গভীর ও চওড়া হয়ে V -আকৃতির উপত্যকা গঠন করে।

শৃঙ্খলিত শৈলশিরা কী?

পার্বত্য অঞ্চলে নদী কঠিন শিলাকে পরিহার করে ছোটো ছোটো বাঁক নিয়ে প্রবাহিত হয়। এর ফলে পরপর দুটি বাঁকের সমস্ত স্পারগুলিকে একসঙ্গে দেখা যায় না। এই প্রকার ভূমিরূপকে শৃঙ্খলিত শৈলশিরা বলে। উদাহরণ – তিস্তা নদীর পার্বত্য অংশে এই ভূমিরূপ দেখা যায়।

গিরিখাত কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উচ্চগতিতে নদী প্রবলবেগে প্রবাহিত হওয়ায় পার্শ্বক্ষয়ের তুলনায় নিম্নক্ষয় অধিক হয়। এর ফলে নদীখাত খাড়া V বা I আকৃতির হয় এবং নদী প্রায় সোজা পথে প্রবাহিত হয়। পার্বত্য অঞ্চলের এইরূপ গভীর ও সংকীর্ণ নদী উপত্যকাকে গিরিখাত বলে। উদাহরণ – নেপালের কালিগণ্ডকী গিরিখাত।

ক্যানিয়ন কী?

শুষ্ক মরু অঞ্চলে গিরিখাতের মতোই ইংরেজি ‘I’ আকৃতির খাড়া উপত্যকাকে ক্যানিয়ন বলে। উদাহরণ – আমেরিকার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।

খরস্রোত কী?

নদীর পার্বত্য প্রবাহে প্রচণ্ড ঢালসম্পন্ন জলপ্রপাতে বিপুল পরিমাণ জলরাশি প্রবাহিত হলে তাকে খরস্রোত বলে। উদাহরণ – আফ্রিকার জাইরে নদীতে ৩২টি খরস্রোতের সৃষ্টি হয়েছে।

জলপ্রপাত কীভাবে সৃষ্টি হয়?

উচ্চগতিতে নদীর তলদেশের ঢাল হঠাৎ বিচ্যুত হলে বিচ্যুত তলের ওপর থেকে জলরাশি নীচে পতিত হয়, তাকে জলপ্রপাত বলে। কঠিন ও কোমল শিলা পাশাপাশি অবস্থান করলে এরূপ জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়। উদাহরণ – ভেনেজুয়েলার সাল্টো অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত।

প্রপাতকূপ কী?

জলপ্রপাতের পাদদেশে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্তের মধ্যস্থিত নুড়ি বা শিলা পাক খেতে খেতে ঘর্ষণের ফলে ভূমিশিলায় যে গর্তের সৃষ্টি করে, তাকে প্রপাতকূপ বলে।

মন্থকূপ বা পটহোল কী?

প্রবলবেগে প্রবাহিত নদীর তলদেশ বা পার্শ্বদেশে জলাবর্তের সৃষ্টি হলে সেখানে নুড়ি বা শিলার ঘর্ষণের ফলে যে গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে মন্থকূপ বা পটহোল বলে। উদাহরণ – ঝাড়খণ্ডের খরকাই নদীগর্ভে অসংখ্য মন্থকূপ দেখা যায়।

নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি কোথায় বেশি দেখা যায়?

নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি প্রধানত নদীর উচ্চগতিতে পরিলক্ষিত হয়, বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে। এছাড়া শুষ্ক মরু অঞ্চলেও কিছু ভূমিরূপ দেখা যায়, যেমন ক্যানিয়ন।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা করো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি আলোচনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – নদীর বিভিন্ন কাজ ও তাদের সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন