এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “সমাজ সংস্কারে নব্যবঙ্গদের ভূমিকা কী ছিল? নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী কাদের বলা হত?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “সমাজ সংস্কারে নব্যবঙ্গদের ভূমিকা কী ছিল? নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী কাদের বলা হত?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

সমাজ সংস্কারে নব্যবঙ্গদের ভূমিকা কী ছিল?
হিন্দু কলেজের শিক্ষক ডিরোজিও এবং তাঁর অনুগামী ছাত্ররা যাঁরা ইয়ং বেঙ্গল নামে পরিচিত ছিলেন তাঁরা হিন্দু ধর্মের প্রচলিত কুসংস্কার ও ধর্মীয় সংকীর্ণতার বিরোধিতা করেছিলেন। এঁরা মূলত যুক্তিবাদী ও প্রগতিপন্থী ছিলেন। তাঁরা যেমন – মূর্তি পূজা, উপবীত ধারণের বিরোধিতা করেছিলেন তেমনই স্ত্রী শিক্ষার প্রসার, বাক্স্বা ধীনতার স্বপক্ষে সোচ্চার হয়েছিলেন।
নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী কাদের বলা হত?
অথবা, ‘নব্যবঙ্গ আন্দোলন’ বলতে কী বোঝ?
হিন্দু কলেজের তরুণ ও মননশীল অধ্যাপক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও-র নেতৃত্বে ওই কলেজের একদল ছাত্র উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হিন্দু ধর্ম ও সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন এবং পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণে মেতে ওঠেন। তাঁরা ‘নব্যবঙ্গ’ নামে পরিচিত এবং তাঁদের পরিচালিত আন্দোলনই হল ‘নব্যবঙ্গ আন্দোলন’।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
নব্যবঙ্গদের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
নব্যবঙ্গদের মূল উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু সমাজের কুসংস্কার, ধর্মীয় সংকীর্ণতা এবং রক্ষণশীলতার বিরোধিতা করা। তারা যুক্তিবাদ, প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা এবং পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে সমাজকে আধুনিক ও সংস্কার করার চেষ্টা করেছিলেন।
নব্যবঙ্গরা কী ধরনের সংস্কারের পক্ষে ছিলেন?
নব্যবঙ্গরা নারী শিক্ষার প্রসার, বাকস্বাধীনতা, মূর্তি পূজার বিরোধিতা, উপবীত ধারণের বিরোধিতা এবং সমাজের অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। তারা যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল চিন্তাভাবনার মাধ্যমে সমাজে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলেন।
ডিরোজিও কে ছিলেন এবং তাঁর ভূমিকা কী ছিল?
ডিরোজিও ছিলেন হিন্দু কলেজের একজন তরুণ ও প্রগতিশীল অধ্যাপক। তিনি তাঁর ছাত্রদের মধ্যে যুক্তিবাদ, মুক্তচিন্তা এবং সমাজ সংস্কারের চেতনা জাগ্রত করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ছাত্ররা নব্যবঙ্গ আন্দোলন গড়ে তোলে এবং হিন্দু সমাজের কুসংস্কার ও রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করে।
নব্যবঙ্গ আন্দোলনের প্রভাব কী ছিল?
নব্যবঙ্গ আন্দোলন উনিশ শতকের বাংলা সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এই আন্দোলন সমাজে যুক্তিবাদ, প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা এবং নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এই আন্দোলন রক্ষণশীল সমাজের বিরোধিতারও সম্মুখীন হয়েছিল।
নব্যবঙ্গদের বিরোধিতা কেন হয়েছিল?
নব্যবঙ্গদের বিরোধিতা হয়েছিল কারণ তারা হিন্দু ধর্ম ও সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি, কুসংস্কার এবং রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তাদের প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা এবং পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি ঝোঁক রক্ষণশীল সমাজের অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।
নব্যবঙ্গ আন্দোলনের গুরুত্ব কী?
নব্যবঙ্গ আন্দোলনের গুরুত্ব হলো এটি বাংলা সমাজে যুক্তিবাদ, মুক্তচিন্তা এবং প্রগতিশীলতার বীজ বপন করেছিল। এই আন্দোলন পরবর্তীকালে সমাজ সংস্কার আন্দোলনগুলিকে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং বাংলার নবজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “সমাজ সংস্কারে নব্যবঙ্গদের ভূমিকা কী ছিল? নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী কাদের বলা হত?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “সমাজ সংস্কারে নব্যবঙ্গদের ভূমিকা কী ছিল? নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী কাদের বলা হত?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।