এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অভিব্যক্তির সপক্ষে ভ্রূণতত্ত্বঘটিত প্রমাণটি লেখো” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় “অভিব্যক্তি ও অভিযোজন”-এর “অভিব্যক্তি” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অভিব্যক্তির সপক্ষে ভ্রূণতত্ত্বঘটিত প্রমাণ
অথবা, মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ভ্রূণগত সাদৃশ্যগুলি খাতায় লিপিবদ্ধ করো।
অথবা, তুলনামূলক ভ্রূণতত্ত্ব কীভাবে অভিব্যক্তিতে প্রমাণ হিসেবে কাজ করে?
বিভিন্ন প্রকার মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের ক্রমপরিণতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, সকল প্রকার মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণ কিছুদিন পর্যন্ত গঠনগত ও আকৃতিগতভাবে প্রায় একই রকমের হয়ে থাকে। প্রথম পর্যায়ে ভ্রূণ জাইগোট, মরুলা, ব্লাস্টুলা, গ্যাস্ট্রুলা প্রভৃতি দশা অতিক্রম করে।
ভ্রূণের বিভিন্ন দশা ও তাদের প্রতিনিধিত্ব
- জাইগোট – এটি হল একটিমাত্র কোশ, যা এককোশী প্রাণীর প্রতিনিধিত্বকারী কোশ।
- মরুলা দশা – এটি পরিফেরা পর্বের প্রতিনিধিত্ব করে।
- ব্লাস্টুলা দশা – এটি সিলেন্টেরেটা পর্বের প্রতিনিধিত্ব করে।
- গ্যাস্ট্রুলা দশা – এটি ট্রিপ্লোব্লাস্টিক প্রাণীদের প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রতিটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণে গলবিল অঞ্চলে বহিঃস্থ ফুলকা-খাঁজ, একসারি অন্তঃস্থ যুগ্ম ফুলকা-থলি ও লেজের মতো গঠনে মায়োটম পেশির খণ্ড দেখা যায়। লেজ মৎস্য শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে। ভ্রূণ দশা পরিণতি প্রাপ্ত হলে সকল প্রজাতির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
ব্যাঙ ও মাছের সাদৃশ্য
ভ্রূণের বৃদ্ধির কোনো কোনো দশায় উচ্চশ্রেণির প্রাণীর ভ্রূণ নিম্নশ্রেণির বয়স্ক প্রাণীর অনুরূপ হয়, যেমন – ব্যাঙ ও মাছ।
- ব্যাঙের লার্ভা দশা (ব্যাঙাচি) দেখতে ঠিক মাছের পরিণত দশার মতো। অর্থাৎ, লার্ভা দশায় ব্যাঙ তার পূর্বপুরুষ মাছের পরিণত দশার পুনরাবৃত্তি করে।
- ব্যাঙাচির শ্বসন অঙ্গ ফুলকা ও এর দেহাকৃতি মাকুর ন্যায়।
- এরা জলের মধ্যে বসবাস করে এবং মাছের মতো লেজের সাহায্যে জলে সাঁতার কেটে বেড়ায়।
ব্যাঙাচির সঙ্গে মাছের এই সমস্ত সাদৃশ্য দেখে সহজেই প্রমাণ করা যায় যে, মাছ বা মাছের মতো কোনো পূর্বপুরুষ থেকে ব্যাঙের উদ্ভব হয়েছে। মাছের স্থায়ী গলবিলীয় ফুলকাছিদ্র থাকে, যা উভচর, সরীসৃপ, পক্ষী ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর ভ্রূণে পরিলক্ষিত হয় এবং পরবর্তীকালে যা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। নিকট সম্বন্ধযুক্ত জীবগোষ্ঠীর ভ্রূণগুলির তুলনামূলক পর্যালোচনা করলে তাদের আকৃতিগত সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ, মুরগি, মানুষ প্রভৃতি প্রাণীর ভ্রূণগুলির আদি দশা দেখতে প্রায় একইরকম হওয়া সত্ত্বেও সেই সমস্ত প্রাণীগুলি নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবে পরিণত হয়।

হেকেলের জীবজনি সূত্র (Biogenetic Law)
একটিমাত্র কোশ থেকে পরিণত কোনো জীবদেহের আকৃতি লাভ পর্যন্ত ধারাবাহিক ধাপগুলিকে জীবের ব্যক্তিজনি (Ontogeny) বলে। বিজ্ঞানী হেকেল (Haeckel) জীবজনি সূত্রের (Biogenetic law) প্রবর্তন করেন।
তাঁর মতে, “প্রতিটি জীব তার ভ্রূণের ক্রমপরিণতিকালে খুব কম সময়ের জন্য হলেও উদ্বংশীয় জীব তথা পূর্বপুরুষের অভিব্যক্তি ইতিবৃত্তের পুনরাবৃত্তি ঘটায়। সংক্ষেপে, ব্যক্তিজনি জাতিজনিকে পুনরাবৃত্তি করে (Ontogeny Recapitulates Phylogeny)।” কোনো জীবের ভ্রূণের ক্রমপরিণতি পর্যবেক্ষণ করলে তার পূর্বপুরুষের ইতিবৃত্ত জানা যাবে, যা অভিব্যক্তির সপক্ষে সর্বাপেক্ষা বলিষ্ঠ প্রমাণ। অভিব্যক্তিতে কোনো জীব তার পূর্বপুরুষের বৈশিষ্ট্য বহন করে নিয়ে যায়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “অভিব্যক্তির সপক্ষে ভ্রূণতত্ত্বঘটিত প্রমাণটি লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।





Leave a Comment