এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

ঔপনিবেশিক শাসনে বাংলার নারীশিক্ষার প্রসার সম্পর্কে যা জানো লেখো।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ঔপনিবেশিক শাসনে বাংলার নারীশিক্ষার প্রসার সম্পর্কে যা জানো লেখো। নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “ঔপনিবেশিক শাসনে বাংলার নারীশিক্ষার প্রসার সম্পর্কে যা জানো লেখো।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

ঔপনিবেশিক শাসনে বাংলার নারীশিক্ষার প্রসার সম্পর্কে যা জানো লেখো।
Contents Show

ঔপনিবেশিক শাসনে বাংলার নারীশিক্ষার প্রসার সম্পর্কে যা জানো লেখো।

ঔপনিবেশিক শাসনে বাংলায় নারীশিক্ষার প্রসার –

সুলতানি, মুঘল যুগ পেরিয়ে ঊনবিংশ শতাব্দীর সূচনা অবধি বাংলার নারীদের শিক্ষার মান ছিল নিম্নস্তরের, লেখাপড়ার সুযোগ ও পরিবেশ কোনোটাই উপযুক্ত ছিল না। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্য ভাগ থেকে বাংলার যুগপুরুষদের হাত ধরে ও কিছু ক্ষেত্রে মিশনারিদের সাহায্যে বাংলার নারীশিক্ষার প্রসার ঘটে।

পরিবেশ –

সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে বাংলায় নারীদের সুশিক্ষিত করে তোলার মতো পরিবেশ যে ছিল না একথা অস্বীকার করা যায় না। উচ্চবিত্ত পরিবারের মহিলাদের মধ্যে সামান্য কয়েকজনের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ মিললেও তা কখনও সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে ওঠেনি। সামাজিক কুপ্রথা, বাল্যবিধবা, অভিজাত পরিবারের মহিলাদের মধ্যে পর্দাপ্রথার প্রভাব প্রভৃতি কারণে নারীশিক্ষার হার ছিল অত্যন্ত কম।।

বিদ্যাসাগরের অবদান –

বাংলার যুগপুরুষ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নারীশিক্ষায় বিরাট অবদান রাখেন, তিনি বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করেন ও নারীশিক্ষার জন্য ক্রমাগত লড়াই চালিয়ে যান। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে বেথুন সাহেব, হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন 1849 খ্রিস্টাব্দে যা বর্তমানে বেথুন স্কুল বলে পরিচিত। বিদ্যাসাগরের ব্যক্তিগত উদ্যোগে হুগলি, নদিয়া, বর্ধমান, মেদিনীপুরে মোট 35টি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় মাত্র সাতমাসের মধ্যে (1857 মে – 1858 খ্রিস্টাব্দে)। এই বিদ্যালয়গুলিতে প্রায় 1300 ছাত্রী পড়াশোনা করত, কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই বিদ্যালয়গুলি সরকারি অনুমোদন পায়নি।

খ্রিস্টান মিশনারিদের উদ্যোগ –

ভারতীয় নারীদের শিক্ষায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মিশনারিদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। উইলিয়াম কেরি ব্যাপ্টিস্ট মিশন প্রতিষ্ঠা করেন 1800 খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুরে। এই মিশনেরই মহিলা মিশনারিদের উদ্যোগে ফিমেল জুভেনাইল সোসাইটি গঠিত হয় যারা বাংলায় বিভিন্ন জায়গায় বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালায়। লন্ডন মিশনারি সোসাইটির উদ্যোগে হুগলির চুঁচুড়ায় একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।

নারীদের উদ্যোগ –

মেরি উইলসন, মিসেস কুক, মেরি কার্পেন্টার প্রমুখ বিদেশিনিরা বাংলার নারীশিক্ষায় বিশেষ দায়িত্ব নেন, এঁরা বাড়িতে গিয়ে মেয়েদের পড়াশোনা শেখাবার অনুরোধ করেন এবং ছাত্রী সংগ্রহ করেন। অনেক ক্ষেত্রে মা ও মেয়ে একই সঙ্গে একই বিদ্যালয়ে পড়তে থাকে, এছাড়াও অনেক বাড়ি থেকেই মেয়েরা বিদ্যালয়ে যেতে শুরু করে।

সভা ও সমিতির ভূমিকা –

বাংলার নারীশিক্ষার প্রসারে বিশেষ ভূমিকা নেয় ব্রাহ্মসমাজ, যদিও কেশবচন্দ্র সেন নারীদের উচ্চশিক্ষার বিরোধী ছিলেন, কলকাতা স্কুল সোসাইটির উদ্যোগে এবং লেডিস সোসাইটি ফর নেটিভ ফিমেল এডুকেশন প্রভৃতি সমিতির উদ্যোগে বাংলায় নারীশিক্ষার প্রসার ঘটে।

উপসংহার –

ঔপনিবেশিক শাসনকালে উনিশ শতকে বাংলায় নারীশিক্ষার প্রসার ঘটে এবং 1854 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে 288টি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। যদিও সমস্ত বালিকা বিদ্যালয় সরকারি অনুদান পায়নি তবুও বেসরকারি চেষ্টাতেই নারীশিক্ষা প্রসার হয় এবং নারীদের প্রবেশ ঘটে এক অন্য সমাজে পর্দাহীন সেই সমাজে নারীরা নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেন এবং জাতি গঠনে তাঁরা যে অপরিহার্য তা প্রমাণ করেন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

ঔপনিবেশিক শাসনের আগে বাংলায় নারীশিক্ষার অবস্থা কেমন ছিল?

সুলতানি ও মুঘল আমলে বাংলায় নারীশিক্ষার হার ছিল খুবই কম। উচ্চবিত্ত পরিবারের কিছু নারী গৃহশিক্ষা পেলেও সাধারণ নারীদের শিক্ষার সুযোগ ছিল না। সামাজিক কুপ্রথা, বাল্যবিবাহ ও পর্দাপ্রথা নারীশিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করত।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নারীশিক্ষার প্রসারে কী ভূমিকা পালন করেন?

বিদ্যাসাগর বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করেন এবং নারীশিক্ষার প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা নেন। তাঁর উদ্যোগে 1849 সালে বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মাত্র সাত মাসে হুগলি, নদিয়া, বর্ধমান ও মেদিনীপুরে 35টি বালিকা বিদ্যালয় গড়ে ওঠে। তবে, সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় অনেক স্কুল বন্ধ হয়ে যায়।

খ্রিস্টান মিশনারিরা নারীশিক্ষায় কীভাবে সাহায্য করে?

উইলিয়াম কেরির ব্যাপ্টিস্ট মিশন (1800) ও লন্ডন মিশনারি সোসাইটি বাংলায় বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। ফিমেল জুভেনাইল সোসাইটি নারীশিক্ষার প্রসারে কাজ করে এবং চুঁচুড়ায় একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করে।

নারীশিক্ষার প্রসারে কোন বিদেশি মহিলাদের অবদান উল্লেখযোগ্য?

মেরি উইলসন, মিসেস কুক ও মেরি কার্পেন্টার প্রমুখ বিদেশি মহিলারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেয়েদের শিক্ষার জন্য উৎসাহিত করেন এবং স্কুলে ভর্তি করান। তাঁরা মা ও মেয়েদের একসাথে পড়াশোনার ব্যবস্থা করেন।

ব্রাহ্মসমাজ ও অন্যান্য সংগঠন নারীশিক্ষায় কী ভূমিকা রাখে?

ব্রাহ্মসমাজ, কলকাতা স্কুল সোসাইটি ও লেডিস সোসাইটি ফর নেটিভ ফিমেল এডুকেশন নারীশিক্ষার প্রসারে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। যদিও কেশবচন্দ্র সেন নারীদের উচ্চশিক্ষার বিরোধী ছিলেন, তবুও ব্রাহ্মসমাজ নারীশিক্ষাকে এগিয়ে নেয়।

ঔপনিবেশিক যুগে কতগুলি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়?

1854 সালের মধ্যে বাংলায় 288টি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও সবগুলো সরকারি সহায়তা পায়নি। বেসরকারি উদ্যোগেই নারীশিক্ষা প্রসার লাভ করে।

নারীশিক্ষার প্রসারে সমাজের প্রতিবন্ধকতাগুলো কী ছিল?

পর্দাপ্রথা, বাল্যবিবাহ, ধর্মীয় গোঁড়ামি, রক্ষণশীলতা ও নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়ার অনীহা নারীশিক্ষার প্রধান বাধা ছিল।

নারীশিক্ষার প্রসার বাংলার সমাজে কী প্রভাব ফেলে?

নারীশিক্ষার প্রসারের ফলে নারীরা সমাজে নিজেদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে, জাতি গঠনে ভূমিকা রাখে এবং ধীরে ধীরে পুরুষশাসিত সমাজে স্বাধীনচেতা হয়ে ওঠে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ঔপনিবেশিক শাসনে বাংলার নারীশিক্ষার প্রসার সম্পর্কে যা জানো লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “ঔপনিবেশিক শাসনে বাংলার নারীশিক্ষার প্রসার সম্পর্কে যা জানো লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন