এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “নবাব সিরাজউদ্দোলা কে ছিলেন? পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল লেখো। নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “নবাব সিরাজউদ্দোলা কে ছিলেন? পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল লেখো।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

নবাব সিরাজউদ্দোলা কে ছিলেন? পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল লেখো।
Contents Show

নবাব সিরাজউদ্দোলা কে ছিলেন?

নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব। তাঁর পুরো নাম ছিলো ‘নবাব মনসুর-উল-মুলক সিরাজউদ্দৌলা শাহ কুলি খান মির্জা মোহাম্মদ হায়বত জঙ্গ বাহাদুর’।

তাঁর নানা নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর 1756 সালে সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন। কিন্তু বহুমুখী ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে এবং কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতায় তিনি পলাশীর যুদ্ধে পরাজয় বরণ করেন(1732 – 1757)। ফলে ভারতবর্ষে 190 বছরের ইংরেজ শাসনের সূচনা হয়।

বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা (1732 – 1757) কতিপয় বিশ্বাসঘাতকের ষড়যন্ত্রের কারণে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হয়। পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের পরই মূলত ভারতবর্ষে ইংরেজ-শাসনের সূচনা হয়।

পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল লেখো।

পলাশীর যুদ্ধ –

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির 1757 সালের 23 জুন তারিখে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, ইতিহাসে সেটি পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।

পলাশীর যুদ্ধের কারণ –

1756 সালে সিরাজউদ্দৌলা মাত্র 22 বছর বয়সে মসনদে বসেন। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই নবাব দেখেন যে তাঁর চারিদিকে আত্মীয়-স্বজন, দেশীয় বণিক ও ইংরেজ বেনিয়াদের চক্রান্ত।

তরুণ নবাবের পক্ষে এত বহুমুখী ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করা সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ পলাশীর যুদ্ধ সংগঠিত হয়।

পারিবারিক ষড়যন্ত্র কারণ –

ক্ষমতা ও সিংহাসনের লোভ সিরাজের সিংহাসনে আরোহনকে তাঁর আত্মীয়-স্বজনের অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। এদের মধ্যে ছিলেন বড় খালাঘষেটি বেগম ও তার স্বামী। মেজো খালা মায়মুনা বেগমের ছেলে শওকত জং (সৎ ছেলে)।

এছাড়াও ছিলেন নবাব আলীবর্দী খানের বৈমাত্রেয় বোন জামাই ও প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খান।

ব্যবসায়ী ও শাসকশ্রেণীর ষড়যন্ত্র –

ঢাকার দেওয়ান রাজা রাজবল্লভ সেন, উড়িষ্যার শাসনকর্তা রায়দুর্লভ, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জগৎ শেঠ, উমিচাঁদ প্রমুখ।

কারণ – এদের আশংকা ছিলো যে, সম্পদ কুক্ষিগত করনে তাদের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার ব্যাপারে তরুণ নবাব বিপদজনক হতে পারে।

ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর ষড়যন্ত্র –

  • নবাব সিরাজউদ্দোলার সিংহাসন প্রাপ্তি ছিলো ‘দি ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর’ জন্য ও হুমকি সরূপ।
  • নবাব কর্তৃক ব্রিটিশদের দেওয়া বাণিজ্য সুবিধার ব্যাপক অপব্যবহার।
  • ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শ্রমিকদের কর ও শুল্ক পরিশোধ না করা ব্রিটিশদের দ্বারা নবাবকে বিভিন্ন ফ্রন্টে বিভ্রান্ত করা।
  • নবাবের শত্রু কৃষ্ণ দাসকে আশ্রয় দেওয়া।
  • কোম্পানি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা ও জনগণের উপর ইংরেজদের নির্যাতন।
  • ইংরেজদের একের পর এক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও অবাধ্যতা নবাবের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইংরেজদের কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ।
  • নবাব দস্তকের অপব্যবহার নিষেধ করার সত্ত্বেও কোম্পানি নবাবের আদেশ অগ্রাহ্য করা।
  • এজন্য ইংরেজরা নবাব সিরাজউদ্দোলার পরিবর্তে এমন একজনকে খুঁজতে থাকে যিনি তাদের প্রতি পুরোপুরি বন্ধুত্ব পরায়ন হবেন।

দি ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সফল ষড়যন্ত্র –

কোম্পানীর সফল ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত কোম্পানি নবাবের বিরুদ্ধে সাফল্যের সাথে একটি সফল ষড়যন্ত্র সম্পন্ন করে। এবং মির্জাফর, জগৎ শেঠ, উমিচাঁদ, রায় দুর্লভ এবং অন্যান্য ক্ষুদ্ধ অমত্য দের সমর্থন লাভ করে। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের দিকে দেশ এগিয়ে যায়।

ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে চুক্তি –

পলাশীর যুদ্ধের পূর্বে মীর জাফরের সাথে কোম্পানির এই মর্মে চুক্তি হয়েছিলো যে, পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজা যদি জয়ী হয় তাহলে মীর জাফর হবেন বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার নতুন নবাব। বিনিময়ে মীর জাফর ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীকে বাৎসরিক 5 লক্ষ পাউন্ড ও কলকাতায় বসবাসকারী ইউরোপীয়দের 2.5 লক্ষ পাউন্ড প্রদান করবেন। এছাড়াও কোম্পানিকে বিনা শুল্কে বানিজ্য করতে দিবে।

পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্র (Battle of Plassey) –

1857 সালের 23 জুন সকাল 8টার দিকে যুদ্ধ শুরু হয় ব্রিটিশ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী ও নবাব সিরাজউদ্দোলা ও তাঁর সহযোগী ফরাসি বাহিনীর সাথে। ইংরেজদের বাহিনীর তুলনায় নবাবের বাহিনীর আকার অনেক বড় হলেও মীরজাফর, ইয়ার লতিফ এবং রায় দুর্লভের অধীনস্থ প্রায় দুই তৃতীয়াংশ সৈন্য নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে থাকে।শুধু মাত্র মীর মদন, মোহনলাল এদের প্রায় 5 হাজার সৈন্য প্রাণপন যুদ্ধ করে। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বৃষ্টিতেনবাবের এবং ফরাসীদের কামানের গোলায় ব্যবহৃত গানপাউডার ভিজে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। কিন্তু ইংরেজরা তাদের গান পাউডার সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়। জানা যায়, ক্লাইভ দিনে যুদ্ধ চালিয়ে রাতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের এক পর্যায়ে বেলা তিনটার দিকে কামানের গোলার আঘাতে মীরমদন নিহত হলে নবাব ভেঙে পড়েন এবং মীর জাফরের কাছে পরামর্শ চান। মীরজাফর নবাবকে যুদ্ধ বন্ধ করে পরবর্তী দিনে নতুন উদ্যমে যুদ্ধ করার পরামর্শ দেন। মোহনলালের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও নবাব যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দেন। নবাবের সৈন্যরা পিছু হটে আসে। কিন্তু মীরজাফরের গোপন বার্তা পেয়ে ইংরেজরা নবাবের অপ্রস্তুত বাহিনীর ওপর হামলা চালায় এবং যুদ্ধে জয়লাভ করে।

দুঃখজনক সত্য হলো জগৎশেঠ, মাহতাব চাঁদ, উমিচাঁদ, মহারাজা স্বরূপচাঁদ মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র, রায়দুর্লভ, মীর জাফর, ঘষেটি বেগম, রাজা রাজবল্লভ, নন্দকুমার প্রমুখের ষড়যন্ত্রের কারণে যুদ্ধে প্রায় 50000 সৈন্য, 40টি কামান এবং 10টি যুদ্ধ হাতি নিয়েও সিরাজ-উদ-দৌলার সেনাবাহিনী রবার্ট ক্লাইভের 3000 সৈন্যের কাছে পরাজিত হয়েছিল। যুদ্ধ 11 ঘন্টার মধ্যে শেষ হয় এবং সিরাজ-উদ-দৌলা তার পরাজয়ের পর যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যান।

প্রহসনের এই যুদ্ধ – যুদ্ধ 11 ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায় এবং সিরাজ-উদ-দৌলা তার পরাজয়ের পর যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যান এই উদ্দেশ্যে যে, তিনি নতুন করে সৈন্য সংগ্রহ করে আবার ইংরেজদের সাথে যুদ্ধ করবেন।

এভাবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের সেবাদাসদের সাহায্যে এভাবেই বাংলায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।

যুদ্ধের ফলাফল –

  • বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
  • যুদ্ধের ফলে মীরজাফর বাংলার নবাব হিসাবে মুকুট লাভ করেন। মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও তিনি ছিলেন নামে মাত্র নবাব, প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
  • পলাশীর যুদ্ধের ফলে ফরাসি বাহিনীর অবসান ঘটে। নবাব সিরাজউদ্দোলাকে সহযোগিতা করার কারণে ফরাসীরা এদেশ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়।
  • পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভের কারণে রবার্ট ক্লাইভকে “লর্ড ক্লাইভ” উপাধি দেওয়া হয়।
  • এই যুদ্ধের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • ব্রিটিশরা কর আদায়ের নামে বাংলার অধিবাসীদের ওপর কঠোর নিয়ম-কানুন চাপিয়ে দিতে থাকে।
  • এই যুদ্ধের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্রিটিশরা কর আদায়ের নামে বাংলার অধিবাসীদের ওপর কঠোর নিয়ম-কানুন চাপিয়ে দিতে থাকে। এরফলে’ ছিয়াত্তরের মনন্তর’ নামক দুর্ভিক্ষ ঘটে।
  • পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের অধিকার লাভ করে।
  • এ যুদ্ধের পর ইংরেজ শক্তির স্বার্থে এদেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন সংঘটিত হতে থাকে।
  • পলাশী যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী পরিণতি ছিল সমগ্র উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা।
  • বাংলা অধিকারের পর ক্রমান্বয়ে ব্রিটিশরা পুরো ভারতবর্ষ এমনকি এশিয়ার অন্যান্য অংশও নিজেদের দখলে নিয়ে আসে।
  • পলাশীর যুদ্ধের এই নৃশংস ও কলঙ্কজনক ঘটনার মাধ্যমে কলকাতা কেন্দ্রিক একটি নতুন উঠতি পুঁজিপতিশ্রেণী ও রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটে।
  • ইংরেজ ও তাদের এ দেশীয় দালালগোষ্ঠী দেশবাসীর ওপর একের পর এক আগ্রাসন চালায়। ফলে দেশীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসে।
  • বাংলা অধিকারের পর ক্রমান্বয়ে ব্রিটিশরা পুরো ভারতবর্ষ এমনকি এশিয়ার অন্যান্য অংশও নিজেদের দখলে নিয়ে আসে।
  • পলাশীর যুদ্ধের এই নৃশংস ও কলঙ্কজনক ঘটনার মাধ্যমে কলকাতা কেন্দ্রিক একটি নতুন উঠতি পুঁজিপতিশ্রেণী ও রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটে।
  • ইংরেজ ও তাদের এ দেশীয় দালালগোষ্ঠী দেশবাসীর ওপর একের পর এক আগ্রাসন চালায়। ফলে দেশীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

নবাব সিরাজউদ্দৌলা কে ছিলেন?

নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব। তাঁর পুরো নাম ছিল ‘নবাব মনসুর-উল-মুলক সিরাজউদ্দৌলা শাহ কুলি খান মির্জা মোহাম্মদ হায়বত জঙ্গ বাহাদুর’। তিনি 1756 সালে নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন। তাঁর শাসনামলে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা বাংলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

পলাশীর যুদ্ধ কবে এবং কোথায় হয়েছিল?

পলাশীর যুদ্ধ হয়েছিল 1757 সালের 23 জুন। এটি সংঘটিত হয়েছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশী নামক স্থানে।

পলাশীর যুদ্ধের প্রধান কারণ কী ছিল?

পলাশীর যুদ্ধের প্রধান কারণগুলি হলো –
1. নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে পারিবারিক ষড়যন্ত্র (যেমন: মীর জাফর, ঘষেটি বেগম প্রমুখ)।
2. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক সুবিধা অপব্যবহার এবং নবাবের আদেশ অমান্য করা।
3. নবাবের শত্রু কৃষ্ণ দাসকে ইংরেজরা আশ্রয় দেওয়া।
4. ইংরেজদের কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ এবং নবাবের নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করা।

পলাশীর যুদ্ধে মীর জাফরের ভূমিকা কী ছিল?

মীর জাফর ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি, কিন্তু তিনি ইংরেজদের সাথে গোপন চুক্তি করেছিলেন। যুদ্ধের সময় তিনি নবাবের সৈন্যদের নিষ্ক্রিয় রাখেন এবং ইংরেজদের বিজয় নিশ্চিত করেন। যুদ্ধের পর তিনি বাংলার নবাব হন, কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে চলে যায়।

পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার কী অবস্থা হয়েছিল?

পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলায় ব্রিটিশদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। মীর জাফর নবাব হলেও প্রকৃত ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে চলে যায়। বাংলার অর্থনীতি ধ্বংস হয় এবং ব্রিটিশরা কঠোর কর ব্যবস্থা চালু করে। এছাড়াও, এই যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়।

পলাশীর যুদ্ধকে কেন একটি “প্রহসনের যুদ্ধ” বলা হয়?

পলাশীর যুদ্ধকে “প্রহসনের যুদ্ধ” বলা হয় কারণ এই যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিশাল সৈন্যবাহিনী থাকা সত্ত্বেও মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি পরাজিত হন। যুদ্ধের সময় নবাবের সৈন্যরা নিষ্ক্রিয় থাকে এবং মাত্র 11 ঘন্টার মধ্যে যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়। এছাড়াও, নবাবের কামানের গানপাউডার বৃষ্টিতে ভিজে অকার্যকর হয়ে পড়ে, যা যুদ্ধের ফলাফলকে প্রভাবিত করে।

পলাশীর যুদ্ধের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলার কী হয়েছিল?

পলাশীর যুদ্ধের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যান। তিনি পুনরায় সৈন্য সংগ্রহ করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু মীর জাফরের নির্দেশে তিনি ধরা পড়েন এবং পরে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়।

পলাশীর যুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?

পলাশীর যুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। এই যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয় এবং পরবর্তীতে সমগ্র ভারতবর্ষে ব্রিটিশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “নবাব সিরাজউদ্দোলা কে ছিলেন? পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “নবাব সিরাজউদ্দোলা কে ছিলেন? পলাশীর যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন