এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “শিক্ষাক্ষেত্রে রাধাকান্ত দেব -এর উদ্যোগ উল্লেখ করো। পাশ্চাত্য শিক্ষা ও নারীশিক্ষার বিস্তারে রাধাকান্ত দেবের অবদান।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “শিক্ষাক্ষেত্রে রাধাকান্ত দেব -এর উদ্যোগ উল্লেখ করো। পাশ্চাত্য শিক্ষা ও নারীশিক্ষার বিস্তারে রাধাকান্ত দেবের অবদান।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

শিক্ষাক্ষেত্রে রাধাকান্ত দেব -এর উদ্যোগ উল্লেখ করো।
1817 খ্রিস্টাব্দের 4 জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয় ‘স্কুল বুক সোসাইটি’-রাধাকান্ত দেব ছিলেন এর সহযোগী। তিনি 1818 খ্রিস্টাব্দ থেকে ‘হিন্দু কলেজ’-এর কাজকর্ম পরিচালনা করেন, তিনি এই কলেজের নিয়মাবলিও রচনা করেন। নারীশিক্ষার উন্নয়নের ব্যাপারেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল, 1853 খ্রিস্টাব্দে রাধাকান্ত দেব ‘হিন্দু মেট্রোপলিটান কলেজ’ -এর পরিচালন সমিতির সভাপতির পদে যোগদান করেন।
পাশ্চাত্য শিক্ষা ও নারীশিক্ষার বিস্তারে রাধাকান্ত দেবের অবদান।
সংস্কৃত ও ফারসি ভাষায় অসাধারণ পান্ডিত্য এবং রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের নেতা হিসেবে পরিচিত রাজা রাধাকান্ত দেব পাশ্চাত্য শিক্ষা,নারীশিক্ষা ও চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষার পক্ষপাতী ছিলেন।
হিন্দু কলেজে অবদান –
তাঁর পিতা গোপীমোহন দেব হিন্দু কলেজের পরিচালন সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পিতার পর 1818 খ্রিস্টাব্দ থেকে দীর্ঘ বত্রিশ বছর ধরে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম পরিচালনা করেন। কলেজের নিয়মাবলী রচনায় তাঁর ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং মনে করতেন যে শিক্ষকদের প্রধান কাজই ছিল ছাত্রদের পঠন-পাঠন এবং তাদের মধ্যে নৈতিকতা জাগ্রত করা।

ডেভিড হেয়ারকে সহযোগিতা –
দেশীয় ছাত্রদের জন্য স্কুল পাঠ্য বই রচনার উদ্দেশ্য 1817 খ্রিস্টাব্দের 4 ঠা জুলাই স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্টিত হলে রাধাকান্ত দেব সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। স্কুল বুক সোসাইটির উদ্যোগে স্কুল সোসাইটি 1818 খ্রিস্টাব্দের 1 লা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্টিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। এই সংগঠনের অবৈতনিক ভারতীয় সম্পাদক এবং ইউরোপীয় সম্পাদক ডেভিড হেয়ারের উদ্যোগে কলকাতায় বেশ কিছু বিদ্যালয় প্রতিষ্টিত হয়।
কলকাতা মেডিকেল কলেজে অবদান –
তিনি ভারতীয় ছাত্রদের বিজ্ঞান শিক্ষার পক্ষপাতী ছিলেন। কলকাতা মেডিকেল কলেজ এ শবব্যবচ্ছেদকে কেন্দ্র করে হিন্দুসমাজ যখন প্রবলভাবে আলোড়িত, তখন রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের নেতা রাধাকান্ত দেব শবব্যবচ্ছেদকে সমর্থন জানান। উচ্চতর চিকিৎসা বিজ্ঞান ও শবব্যবচ্ছেদ শিক্ষার উদ্দেশ্য ইংল্যান্ড এ ভারতীয় ছাত্রদের পাঠাবার জন্য একটি তহবিল গঠিত হলে তিনি এই উদ্যোগকে সমর্থন জানান। তিনি ভারতীয় কৃষি ও উদ্যানপালন সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং কিছুদিন এই সংস্থার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
নারীশিক্ষায় অবদান –
তিনি নারীশিক্ষার সমর্থক ছিলেন এবং মনে করতেন যে নারীশিক্ষা ব্যতীত সমাজের কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্কুল সোসাইটি র ভারতীয় সম্পাদক হিসেবে এ বিষয়ে তিনি যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন। 1822 খ্রিস্টাব্দে গৌরমোহন বিদ্যালঙ্কার স্ত্রী শিক্ষা বিধায়ক নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করার উদ্যোগ নিলে রাধাকান্ত তাঁকে সাহায্য করেন। 1849 সালে ড্রিংক ওয়াটার বেথুন ক্যালকাটা ফিমেল স্কুল প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হলে রাধাকান্ত তাঁকে এই শর্তে সাহায্য করতে সম্মত যে এখানে ছাত্রীদের মধ্য খ্রিস্টধর্ম প্রচার করা হবে না।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “শিক্ষাক্ষেত্রে রাধাকান্ত দেব -এর উদ্যোগ উল্লেখ করো। পাশ্চাত্য শিক্ষা ও নারীশিক্ষার বিস্তারে রাধাকান্ত দেবের অবদান।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “শিক্ষাক্ষেত্রে রাধাকান্ত দেব -এর উদ্যোগ উল্লেখ করো। পাশ্চাত্য শিক্ষা ও নারীশিক্ষার বিস্তারে রাধাকান্ত দেবের অবদান।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। । ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন