এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ভারতে পেট্রোরসায়ন শিল্পের সমস্যাসমূহ আলোচনা করো। পেট্রোরাসায়নিক শিল্পের গুরুত্ব লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের শিল্প” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতে পেট্রোরসায়ন শিল্পের সমস্যাসমূহ আলোচনা করো।
ভারতে পেট্রোরসায়ন শিল্পের সমস্যা –
ভারতে পেট্রোরসায়ন শিল্প দ্রুত উন্নতি লাভ করলেও এই শিল্পের বেশ কিছু সমস্যা বর্তমান, যেমন –
| বিষয় | সমস্যা |
| মূলধনের অভাব | পেট্রোরাসায়নিক শিল্প স্থাপনের জন্য প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন। পর্যাপ্ত মূলধন না থাকায় এই শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। |
| কারিগরি দক্ষতার অভাব | পেট্রোরসায়ন শিল্পের জন্য প্রয়োজন শিক্ষিত কারিগরি দক্ষ শ্রমিক। এই শিল্পে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে উচ্চ পারিশ্রমিকে দক্ষ শ্রমিক আনাতে হয়, যা বেশ সমস্যাদায়ক। |
| রাজনৈতিক অরাজকতা | রাজনৈতিক অরাজকতার জন্য খনিজ তেলের দাম ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে পেট্রোরসায়ন শিল্পে সমস্যা দেখা যাচ্ছে। |
| অত্যাধিক শুল্ক | পেট্রোরসায়ন পণ্যের ওপর সরকার প্রদত্ত অধিক শুল্ক এই শিল্পে যথেষ্ট সমস্যা সৃষ্টি করে। |
| পরিবেশগত সমস্যা | পেট্রোরসায়ন শিল্পজাত অধিকাংশ দ্রব্য পরিবেশ মিত্র হয় না, অবিশ্লেষ্য পদার্থ হওয়ায় পরিবেশে দূষণের সৃষ্টি হতে পারে। |
পেট্রোরাসায়নিক শিল্পের গুরুত্ব লেখো।
পেট্রোরাসায়নিক শিল্পের গুরুত্ব –
আধুনিক যুগে পেট্রোরাসায়নিক শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষিক্ষেত্র, পরিবহণ, শিল্প, গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্র, চিকিৎসাক্ষেত্র, দেশরক্ষা, সর্বোপরি কোনো দেশের অর্থনীতিতে এই শিল্পের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ করা যায়। এই শিল্পের গুরুত্বগুলি হল –
- উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কম – খনি থেকে উত্তোলিত অপরিশোধিত খনিজ তেলকে পরিশোধন করার সময় থেকে যেসব প্রাথমিক ও মধ্যবর্তী দ্রব্য পাওয়া যায়, সেগুলির অপচয় হয় না। ফলে এই শিল্প থেকে উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কম।
- কর্মসংস্থান – পেট্রোরাসায়নিক শিল্পকে কেন্দ্র করে বহু অনুসারী শিল্প গড়ে ওঠে, ফলে এই শিল্পের লগ্নি বাড়ে এবং বহুলোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
- গবেষণার সুযোগ – পেট্রোরাসায়নিক শিল্প মূলত জ্ঞান ও গবেষণা নির্ভর। এই শিল্পের প্রসার ঘটলে দেশের জ্ঞান চর্চা ও বিজ্ঞান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
- উপজাত দ্রব্য সামগ্রী – পেট্রোরাসায়নিক শিল্পে উৎপন্ন বিভিন্ন প্রকার উপজাত দ্রব্য হল – আঠা, রবার, সার, ডিটারজেন্ট, কৃত্রিম তন্তু, জ্বালানি, বিস্ফোরক, কালি প্রভৃতি।
- জীবনযাত্রার মান – পেট্রোরাসায়নিক শিল্পের দ্রব্যগুলির ব্যবহার অত্যন্ত ব্যাপক। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সব দ্রব্যের ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “ভারতে পেট্রোরসায়ন শিল্পের সমস্যাসমূহ আলোচনা করো। পেট্রোরাসায়নিক শিল্পের গুরুত্ব লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের শিল্প” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। । ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন