পলিমার ব্যবহারের ক্ষতিকারক প্রভাব আলোচনা করো।

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “পলিমার ব্যবহারের ক্ষতিকারক প্রভাব আলোচনা করো। অথবা, পলিথিন ব্যাগের যথেচ্ছ ব্যবহারের দুটি বিপদ উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় “পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মসমূহ” -এর “জৈব রসায়ন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

পলিমার ব্যবহারের ক্ষতিকারক প্রভাব আলোচনা করো। অথবা, পলিথিন ব্যাগের যথেচ্ছ ব্যবহারের দুটি বিপদ উল্লেখ করো।

পলিমার ব্যবহারের ক্ষতিকারক প্রভাব আলোচনা করো।

অথবা, পলিথিন ব্যাগের যথেচ্ছ ব্যবহারের দুটি বিপদ উল্লেখ করো।

পলিমার ব্যবহারের ক্ষতিকারক প্রভাব – সাধারণত বহুল ব্যবহৃত পলিমারগুলি নির্দোষ কিন্তু অনেক সময় এদের মনোমারগুলি স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। যেমন – ভিনাইল ক্লোরাইড, টেট্রাফ্লুরোইথিলিন, স্টাইরিন প্রভৃতি। নিশ্বাসের সঙ্গে ইথিলিন গ্রহণ করলে চেতনা নাশ হয়। এ ছাড়া পলিমারগুলি দাহ্য পদার্থ। প্লাস্টিক বা পলিমারের জিনিসের কোনো ক্ষয় নেই অর্থাৎ জীববিনাশ (biodegradation) নেই (জীববিনাশ একটি জীবাণুঘটিত বিক্রিয়া যার ফলে পদার্থ প্রকৃতিতে মিশে যায়) এবং এর দ্রুত রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে না। ফলে পলিমার থেকে উৎপাদিত পদার্থগুলি ব্যবহার করার পর বর্জ্য পদার্থ হিসেবে ফেলে দিলে তার থেকে পরিবেশ দূষিত হতে শুরু করে।

বর্তমানে প্যাকিং হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে পলিইথিলিন। এই পলিমার ব্যবহার করার পর পরিত্যক্ত পলিমার বস্তুর প্রাকৃতিক বিনাশ না হওয়ায় এইসব বর্জ্য পদার্থ মাটি বা জলের মধ্যে থেকে যাচ্ছে। নর্দমার পয়ঃপ্রণালীগুলি এসব পলিমারে প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিকাশি ব্যবস্থার অসুবিধা হচ্ছে। ফলে মশা-মাছির বংশবৃদ্ধি ঘটে এবং জলবাহিত বহু রোগ ছড়িয়ে পড়ে। আবার এই দ্রব্যগুলিকে পোড়ালে SO2​, CO, NO2​ ইত্যাদি বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয় ফলে বায়ুদূষণ ঘটে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

পলিমার ব্যবহারের সবচেয়ে বড় পরিবেশগত সমস্যাটি কী?

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এগুলির অজৈব-অবনম্য (Non-Biodegradable) হওয়া। অর্থাৎ, এগুলি প্রকৃতিতে সহজে পচে বা অবনমিত হয় না। ফলে শতাব্দীর পর শতাব্দী এগুলি পরিবেশে, মাটিতে ও জলে থেকে যায় এবং মারাত্মক দূষণের সৃষ্টি করে।

পলিথিন ব্যাগের যথেচ্ছ ব্যবহারের দুটি বিপদ উল্লেখ করো।

পলিথিন ব্যাগের অতিরিক্ত ব্যবহারের দুটি প্রধান বিপদ হল –
1. নিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ করা – পরিত্যক্ত পলিথিন ব্যাগ নর্দমা ও পয়ঃপ্রণালী আটকে দেয়, যার ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং মশা-মাছির বংশবৃদ্ধি হয়ে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুর মতো রোগ ছড়ায়।
2. মাটির উর্বরতা হ্রাস – মাটিতে পলিথিন জমে থাকলে মাটির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়, জল ও বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং মাটির উর্বরতা কমে যায়।

পলিমার পোড়ালে কী সমস্যা হয়?

পলিমার (যেমন – প্লাস্টিক, পলিথিন) পোড়ালে বাতাসে বিষাক্ত গ্যাস যেমন সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂), কার্বন মনোক্সাইড (CO) ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂) নির্গত হয়। এই গ্যাসগুলি শ্বাসের সঙ্গে শরীরে গেলে মারাত্মক শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং বায়ুদূষণ বাড়ায়।

পলিমার কি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর?

হ্যাঁ, অনেক পলিমার তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল বা মনোমার (যেমন – ভিনাইল ক্লোরাইড, স্টাইরিন) স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এগুলি নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে ক্যান্সার, লিভারের ক্ষতি, এমনকি চেতনা নাশ পর্যন্ত ঘটতে পারে।

‘জৈব-অবনম্য’ (Biodegradation) বলতে কী বোঝায়?

জৈব-অবনম্য হলো একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য জীবাণুর সাহায্যে কোনো বস্তু ভেঙে গিয়ে প্রকৃতিতে সহজে মিশে যায় (যেমন – পাতা, কাগজ, কাপড়)। পলিমার ও পলিথিনে এই বৈশিষ্ট্য না থাকায় এগুলি দীর্ঘদিন পরিবেশে জমে থাকে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “পলিমার ব্যবহারের ক্ষতিকারক প্রভাব আলোচনা করো। অথবা, পলিথিন ব্যাগের যথেচ্ছ ব্যবহারের দুটি বিপদ উল্লেখ করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় “পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মসমূহ” -এর “জৈব রসায়ন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ব্রোমিনের সঙ্গে অ্যাসিটিলিনের যুত বিক্রিয়াটি উল্লেখ করো।

ব্রোমিনের সঙ্গে অ্যাসিটিলিনের যুত বিক্রিয়াটি উল্লেখ করো।

কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল গ্রুপ কাকে বলে? কার্যকরী মূলক ও জৈব মূলকের পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।

কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল গ্রুপ কাকে বলে? কার্যকরী মূলক ও জৈব মূলকের পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।

একটি জৈব যৌগের আণবিক সংকেত C₂H₄O₂। যৌগটি জলে দ্রাব্য এবং যৌগটির জলীয় দ্রবণে NaHCO₃ যোগ করলে CO₂ নির্গত হয়। জৈব যৌগটিকে শনাক্ত করো। জৈব যৌগটির সঙ্গে ইথানলের বিক্রিয়া শর্ত ও সমিত রাসায়নিক সমীকরণসহ লেখো।

C₂H₄O₂ সংকেতের একটি জৈব যৌগ NaHCO₃-এর সাথে CO₂ গ্যাস দেয়। যৌগটি শনাক্ত করো ও ইথানলের সাথে এর বিক্রিয়ার শর্তসহ সমীকরণ দাও।

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের টেকসই/স্থিতিশীল ব্যবহার – রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের টেকসই/স্থিতিশীল ব্যবহার – টীকা

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের টেকসই/স্থিতিশীল ব্যবহার – পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের টেকসই/স্থিতিশীল ব্যবহার – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নবম শ্রেণী জীবনবিজ্ঞান – পরিবেশ ও তার সম্পদ – প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তাদের টেকসই/স্থিতিশীল ব্যবহার – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর