এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

শিক্ষা বিস্তারে প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক কী? উচ্চশিক্ষার বিকাশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “শিক্ষা বিস্তারে প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক কী? উচ্চশিক্ষার বিকাশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আলোচনা করো। নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “শিক্ষা বিস্তারে প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক কী? উচ্চশিক্ষার বিকাশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আলোচনা করো।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

শিক্ষা বিস্তারে প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক কী? উচ্চশিক্ষার বিকাশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আলোচনা করো।
Contents Show

শিক্ষা বিস্তারে প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক কী?

ঔপনিবেশিক ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের ইতিহাস পর্যালোচনায় যে বিতর্কটি প্রাসঙ্গিক ভাবেই উঠে আসে, তা হল – প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক।

প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক

বিতর্কের সূচনা –

1813 খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনের 29 নং ধারায় বলা হয় যে, ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য কোম্পানি এখন থেকে বছরে অন্তত 1 লক্ষ টাকা ব্যয় করবে। কিন্তু সনদ আইনে উল্লেখিত এই এক লক্ষ টাকা প্রাচ্য না পাশ্চাত্য-কোন্ শিক্ষাখাতে ব্যয়িত হবে, তার স্পষ্ট নির্দেশিকা না থাকায় অচিরেই নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ইতিহাসে এই বিতর্ক প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক নামে পরিচিত।

প্রাচ্যবাদীগণ –

প্রাচ্যবাদীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন উইলিয়াম কোলব্রুক, উইলসন, প্রিন্সেপ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

মূল বক্তব্য –

এঁদের বক্তব্যের মূল নির্যাস হল, ভারতে ইংরেজি ভাষা ও ইংরেজি শিক্ষার প্রবর্তন করলে তা আপামর ভারতবাসীর হৃদয়ে ক্ষোভের সঞ্চার করবে এবং তা ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেবে।

পাশ্চাত্যবাদীগণ –

পাশ্চাত্যবাদীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন আলেকজান্ডার ডাফ্, মেকলে, স্যান্ডার্স, রামমোহন রায় প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

মূল বক্তব্য –

এঁদের বক্তব্যের মূল নির্যাস হল, একমাত্র পাশ্চাত্য তথা ইংরেজি শিক্ষা বিস্তৃত হলেই ভারতীয়দের পচনশীল সমাজব্যবস্থা এবং ধর্ম ও চরিত্রের অধঃপতিত নৈতিকতার উন্নতি ঘটবে।

মেকলে মিনিটস্ –

লর্ড বেন্টিষ্কের আইন সচিব ও খ্যাতনামা পণ্ডিত টমাস ব্যাবিংটন মেকলে ‘কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন’ -এর সভাপতি নিযুক্ত হয়ে 1835 খ্রিস্টাব্দে তার বিখ্যাত ‘মিনিটস্’ বা প্রতিবেদনে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বলেন যে, উচ্চ ও মধ্যবিত্তের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা বিস্তৃত হলে ‘filtration theory’ অনুযায়ী তা ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। এটি ‘মেকলে মিনিটস্’ নামে পরিচিত,।

বিতর্কের অবসান –

মেকলের অসাধারণ বাগ্মীতা ও যুক্তির কাছে প্রাচ্যবাদীরা পরাজিত হন। 1835 খ্রিস্টাব্দে বড়োলাট বেন্টিংক ইংরেজি শিক্ষাকে সরকারি নীতি হিসেবে ঘোষণা করলে দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলতে থাকা প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্কের অবসান ঘটে।

প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্কে পাশ্চাত্যবাদীদের জয়লাভের ফলে ভারতে ইংরেজি মাধ্যমে পাশ্চাত্যশিক্ষার দরজা খুলে যায়। ভারতীয়দের বিশুদ্ধ জ্ঞান-পিপাসা বঙ্গীয় নবজাগরণের ক্ষেত্রে প্রস্তুত করে।

উচ্চশিক্ষার বিকাশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আলোচনা করো।

উচ্চশিক্ষার বিকাশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা

ভারতে পাশ্চাত্য ধাঁচে আধুনিক উচ্চতর শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে স্যার চার্লস উডের নির্দেশনামার ভিত্তিতে বড়োলাট লর্ড ক্যানিং -এর শাসনকালে 1857 খ্রিস্টাব্দের 24 জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে আজও এই প্রতিষ্ঠান উচ্চশিক্ষার প্রসারে তার সদর্থক ভূমিকা পালন করে চলেছে।

উদ্দেশ্য –

সূচনালগ্নে কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য ছিল অধীনস্থ ও অনুমোদিত স্কুল-কলেজগুলির পরীক্ষা গ্রহণ এবং ডিগ্রি প্রদান। যদিও পরবর্তীতে এই বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষণ-ধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

পরিসর –

সূচনালগ্নে সমগ্র উত্তর, পূর্ব ও মধ্যভারত, এমনকি বর্তমান মায়ানমার এবং শ্রীলঙ্কার এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কলেজগুলির শিক্ষা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হত।

পরীক্ষাগ্রহণ –

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় প্রথম বি.এ. পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় 1858 খ্রিস্টাব্দে। মোট 11 জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও যদুনাথ বসু স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এর 26 বছর পর 1883 খ্রিস্টাব্দে মহিলাদের মধ্যে প্রথম কাদম্বিনী গাঙ্গুলি ও চন্দ্রমুখী বসু স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এইভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্রমে গণশিক্ষার দ্বার খুলে দিতে থাকে।

স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের অবদান –

1906 খ্রিস্টাব্দে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে যোগদান করেন। তাঁর কার্যকাল যথার্থই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ। এই সময় দ্বারভাঙা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার স্থাপিত হয়। 1908 খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপাখানা, 1909 খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কলেজ এবং 1914 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞান কলেজ স্থাপিত হয়।

বিখ্যাত পণ্ডিতদের আগমন –

স্যার আশুতোষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশ-বিদেশের বহু স্বনামধন্য পণ্ডিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। মাদ্রাজি অধ্যাপক চন্দ্রশেখর ভেঙ্কটরমন, দাক্ষিণাত্যের সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান, মহারাষ্ট্রের রামকৃয় ভাণ্ডারকর, জাপানি পণ্ডিত কিমুরা, সিংহলের শ্রমণ সিদ্ধান্ত প্রমুখ দিপালরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরববৃদ্ধি করেন। তাঁর আমলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃতই এক আন্তর্জাতিক রূপ ধারণ করে।

মূল্যায়ন –

বাস্তবিকই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে একটি Centre of Excellence -এ পরিণত হয়েছে। অন্তত পাঁচজন নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব যথাক্রমে রোনাল্ড রস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সি. ভি. রমন, অমর্ত্য সেন এবং অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো না কোনো সময় এই প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থেকে এর গৌরব বৃদ্ধি করেছেন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক কী?

এটি ঔপনিবেশিক ভারতে শিক্ষানীতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি বিতর্ক, যেখানে প্রাচ্যবাদীরা ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা (সংস্কৃত, আরবি, ফারসি) সমর্থন করেন, অন্যদিকে পাশ্চাত্যবাদীরা ইংরেজি ও পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষে ছিলেন।

প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্কের সূচনা কীভাবে হয়েছিল?

1813 সালের সনদ আইনে ভারতীয় শিক্ষার জন্য বার্ষিক 1 লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, কিন্তু এটি প্রাচ্য না পাশ্চাত্য শিক্ষায় ব্যয় হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

প্রাচ্যবাদীদের মূল বক্তব্য কী ছিল?

প্রাচ্যবাদীরা (যেমন উইলিয়াম কোলব্রুক, উইলসন) মনে করতেন যে ইংরেজি শিক্ষা ভারতীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করবে এবং ব্রিটিশ শাসনকে দুর্বল করবে।

পাশ্চাত্যবাদীদের প্রধান যুক্তি কী ছিল?

পাশ্চাত্যবাদীরা (যেমন মেকলে, রামমোহন রায়) বিশ্বাস করতেন যে পাশ্চাত্য শিক্ষা ভারতীয় সমাজের নৈতিক ও বৌদ্ধিক উন্নতি ঘটাবে।

মেকলে মিনিটস কী?

1835 সালে টমাস ব্যাবিংটন মেকলে তাঁর প্রতিবেদনে (মিনিটস) ইংরেজি শিক্ষার পক্ষে যুক্তি দেন এবং বলেন যে উচ্চবিত্তদের মাধ্যমে এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে (Filtration Theory)।

প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্কের সমাপ্তি কীভাবে হয়?

1835 সালে গভর্নর জেনারেল লর্ড বেন্টিঙ্ক মেকলের প্রস্তাব অনুমোদন করে ইংরেজি শিক্ষাকে সরকারি নীতি হিসেবে ঘোষণা করেন, ফলে পাশ্চাত্যবাদীরা জয়ী হন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে উদ্দেশ্য কী ছিল?

1857 সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাশ্চাত্য ধাঁচের উচ্চশিক্ষা প্রসার ও ডিগ্রি প্রদান করা।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী?

স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় (1906 সালে উপাচার্য) বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যান, বিজ্ঞান ও আইন কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিশিষ্ট পণ্ডিতদের নিয়োগ দেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত কয়েকজন নোবেলজয়ীর নাম বলুন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সি.ভি. রমন, অমর্ত্য সেন এবং অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন।

প্রাচ্যবাদী-পাশ্চাত্যবাদী বিতর্কের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?

এই বিতর্কের ফলে ভারতে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটে, যা পরবর্তীতে ভারতীয় নবজাগরণ ও আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “উনিশ শতকের বাংলায় সমাজ সংস্কার আন্দোলনে ব্রাহ্মসমাজগুলির কীরূপ ভূমিকা ছিল?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “উনিশ শতকের বাংলায় সমাজ সংস্কার আন্দোলনে ব্রাহ্মসমাজগুলির কীরূপ ভূমিকা ছিল?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন