প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস কীভাবে ঘটে? জীবদেহে কোশ বিভাজনের সময় সাইটোকাইনেসিস না হলে কী ঘটবে?

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “জীবদেহে কোশ বিভাজনের সময় সাইটোকাইনেসিস না হলে কী ঘটবে? প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস কীভাবে ঘটে তা ব্যাখ্যা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জীবদেহে কোশ বিভাজনের সময় সাইটোকাইনেসিস না হলে কী ঘটবে? প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস কীভাবে ঘটে তা ব্যাখ্যা করো।

জীবদেহে কোশ বিভাজনের সময় সাইটোকাইনেসিস না হলে কী ঘটবে?

কিছুকিছু জীবের ক্ষেত্রে কোশ বিভাজনে ক্যারিয়োকাইনেসিসের পর সাইটোকাইনেসিস না হলে মাতৃকোশের নিউক্লিয়াসের সংখ্যা বেড়ে যাবে, অর্থাৎ বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত হবে এবং কোনো অপত্য কোশ গঠিত হবে না। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে এর ফলে বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত সিনোসাইট (Coenocyte) সৃষ্টি হবে, যেমন – নারকেলের তরল এন্ডোস্পার্ম।

প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস কীভাবে ঘটে তা ব্যাখ্যা করো।

প্রাণীকোশে টেলোফেজ দশার শুরুতে সংঘটিত সাইটোকাইনেসিস প্রক্রিয়ায় কোশের মধ্যবর্তী স্থানে দু-পাশ থেকে কোশপর্দাটি সংকুচিত হয়ে খাঁজ (Furrow) গঠন করে। সেই খাঁজ ভিতর দিকে ক্রমশ প্রসারিত হয়ে কেন্দ্রে একত্রিত হয়, যার ফলে সাইটোপ্লাজম দুটি সমান অংশে বিভক্ত হয়ে সমআকৃতি এবং সমগুণসম্পন্ন দুটি অপত্য কোশের সৃষ্টি হয়।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

সাইটোকাইনেসিস কোন দশায় শুরু হয় এবং শেষ হয়?

সাইটোকাইনেসিস সাধারণত মাইটোসিসের টেলোফেজ দশার সময় শুরু হয় এবং মাইটোসিস সম্পূর্ণ হওয়ার পর পরই শেষ হয়। তবে এটি একটি পৃথক ও ক্রমাগত প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়।

সংকোচনশীল বলয় কী? এটি কোন ধরনের কোশে দেখা যায়?

সংকোচনশীল বলয় হল অ্যাক্টিন ও মায়োসিন প্রোটিন দিয়ে তৈরি একটি রিং-সদৃশ গঠন যা প্রাণীকোশের কোশপর্দার নিচে, বিষুবীয় অঞ্চলে সংগঠিত হয়। এটি সংকুচিত হয়ে কোশপর্দায় খাঁজ সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত কোশকে দুভাগে বিভক্ত করে। এটি প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিসের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

মাইটোসিস এবং সাইটোকাইনেসিসের মধ্যে সম্পর্ক কী?

মাইটোসিস হল নিউক্লিয়াসের বিভাজন (ক্যারিওকাইনেসিস), আর সাইটোকাইনেসিস হল কোশপ্লাজমের বিভাজন। সাধারণত, মাইটোসিসের টেলোফেজ দশার পরে সাইটোকাইনেসিস সংঘটিত হয় যাতে জিনগতভাবে অভিন্ন দুটি অপত্য কোশের সৃষ্টি হয়। তারা একসঙ্গে সম্পূর্ণ কোশ চক্রকে প্রতিনিধিত্ব করে।

সাইটোকাইনেসিস সম্পূর্ণ না হলে প্রাণীকোশের কী অবস্থা হয়?

প্রাণীকোশে সাইটোকাইনেসিস ব্যাহত হলে ক্যারিওকাইনেসিসের পর এককোষী কিন্তু বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত (Multinucleated) একটি কোশ সৃষ্টি হবে। অর্থাৎ, নিউক্লিয়াসের সংখ্যা বেড়ে যাবে কিন্তু পৃথক অপত্য কোশ গঠিত হবে না। কিছু বিশেষায়িত কোশ (যেমন – মানব দেহের কঙ্কাল পেশীর তন্তু) স্বাভাবিকভাবেই এই রকম বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত হয়।

উদ্ভিদকোশে সাইটোকাইনেসিস না হলে কী ধরনের গঠন দেখা দেয়? এর একটি উদাহরণ দাও।

উদ্ভিদকোশে সাইটোকাইনেসিস না হলে একটিই বৃহৎ কোশপ্লাজমীয় দেহে একাধিক নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়। এই বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত (Multinucleate) গঠনটিকে সিনোসাইট (Coenocyte) বলে। নারকেলের তরল এন্ডোস্পার্ম (কোরিও পানি/দুধ) হল একটি সিনোসাইটিক গঠনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

প্রাণীকোশ ও উদ্ভিদকোশে সাইটোকাইনেসিসের প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

প্রধান পার্থক্য হল বিভাজন রেখা গঠনের পদ্ধতি।
1. প্রাণীকোশে – কোশপর্দার মধ্যবর্তী স্থানে একটি সংকোচনশীল বলয় গঠিত হয় যা ভিতরের দিকে খাঁজ (Cleavage Furrow) সৃষ্টি করে এবং কোশটিকে চিপে দুভাগে বিভক্ত করে।
2. উদ্ভিদকোশে – গলজি বডি থেকে উৎপন্ন ভেসিকলগুলি কোশপ্লেট (Cell Plate) গঠন করে, যা পরে মধ্যলামেলা ও কোশপ্রাচীরে পরিণত হয় এবং কোশটিকে বিভক্ত করে।

সাইটোকাইনেসিস কী? এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সাইটোকাইনেসিস হলো কোশ বিভাজনের (মাইটোসিস বা মিয়োসিস) শেষ ধাপ, যেখানে একটি মাতৃকোশের সাইটোপ্লাজম বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোশ গঠিত হয়। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি নিউক্লিয়াসের বিভাজন (ক্যারিওকাইনেসিস) প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ করে এবং নিশ্চিত করে যে প্রতিটি অপত্য কোশ একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকরী একক হিসেবে গঠিত হয়।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “জীবদেহে কোশ বিভাজনের সময় সাইটোকাইনেসিস না হলে কী ঘটবে? প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস কীভাবে ঘটে তা ব্যাখ্যা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় “জীবনের প্রবহমানতা” -এর “কোশ বিভাজন এবং কোশচক্র অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Categories -
Please Share This Article

Related Posts

কোশচক্রের সংজ্ঞা লেখো।

কোশচক্র ও কোশচক্রের G0 দশা কাকে বলে? এর গুরুত্ব উল্লেখ করো।

গঠনগত পার্থক্যের ভিত্তিতে নিউরোনের শ্রেণিবিন্যাস করো।

গঠনগত পার্থক্যের ভিত্তিতে নিউরোনের শ্রেণিবিন্যাস করো।

ব্যোমযাত্রীর ডায়রি-ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর-নবম শ্রেণী-বাংলা

নবম শ্রেণী – বাংলা – ব্যোমযাত্রীর ডায়রি – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিস কাকে বলে? সাইন্যাপস্ ও সাইন্যাপসিসের পার্থক্য

ক্রসিং ওভার কাকে বলে? কায়াজমা কাকে বলে?

মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কী? মাইটোসিস এবং মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য লেখো। 

ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিড কাকে বলে? ক্রোমোজোম এবং ক্রোমাটিডের মধ্যে পার্থক্য

নিউক্লিয়োটাইড ও নিউক্লিয়োসাইড কাকে বলে? নিউক্লিয়োটাইড ও নিউক্লিয়োসাইডের মধ্যে পার্থক্য