এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

সমাজ সংস্কারক হিসাবে রামমোহন রায়ের অবদান

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “সমাজ সংস্কারক হিসাবে রামমোহন রায়ের অবদান লেখো। নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “সমাজ সংস্কারক হিসাবে রামমোহন রায়ের অবদান লেখো।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

সমাজ সংস্কারক হিসাবে রামমোহন রায়ের অবদান লেখো।
Contents Show

সমাজ সংস্কারক হিসাবে রামমোহন রায়ের অবদান লেখো।

উনবিংশ শতাব্দীর বাঙালির জীবনে ধর্ম, সমাজ, সাহিত্য ও রাজনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে যে সমুদয় গুরুতর পরিবর্তন হয়, তাদের সবার মূলে না-থাকলেও প্রায় সবগুলির সাথেই রামমোহন রায়ের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল। তিনি ছিলেন ‘ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত’। তাঁকে ‘ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ’ আধুনিক ভারতের জনক’ প্রভৃতি নানা অভিধায় ভূষিত করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ‘ভারত পথিক’ বলে সম্মান জানিয়েছেন। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু-র মতে তিনি হলেন ‘ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক’। অনেকে তাঁকে ‘আধুনিক ভারতের ইরাসমাস’ বলে অভিহিত করেছেন। আজ আমাদের সাহিত্য, ধর্ম, শিক্ষা, বিজ্ঞান, সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি-যাকেই আমরা আধুনিক বলি না কেন, রামমোহন ছিলেন তারই অগ্রদূত।

1772 খ্রিস্টাব্দে (মতান্তরে 1774 খ্রিস্টাব্দে) হুগলী জেলার রাধানগরে এক রক্ষণশীল ও ধনী ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম হয়। তিনি ছিলেন অনন্য প্রতিভার অধিকারী। সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি ভাষায় ছিল তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য। ইংরেজি, হিব্রু, গ্রিক, প্রভৃতি ভাষাতেও তাঁর যথেষ্ট দক্ষতা ছিল। ফ্রান্সিস্ বেকন থেকে শুরু করে লক্, হিউম, ভলতেয়ার, নিউটন, পেইন প্রভৃতি মনীষীগণের চিন্তাধারার সাথে ছিল তাঁর আন্তরিক পরিচয়। এমনকি আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ফরাসি বিপ্লবও তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সমন্বয়ে নবভারত গঠনের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ভাবধারার সমন্বয়ের প্রতীক।

সমকালীন ভারতীয় সমাজ ছিল ধর্মাশ্রয়ী। তাই ধর্মীয় ভ্রান্ত ধ্যানধারণা গুলিই কুসংস্কার রূপে সমাজ জীবনকে গ্রাস করেছিল। রামমোহন সনাতনী হিন্দুধর্মের ক্ষেত্রে যে নতুন ভাবনার সূচনা করেছিলেন, তা একাধারে ধর্ম ও সমাজ সংস্কারের ভিত্তি রচনা করেছিল। রামমোহনকে বিভিন্ন ধর্ম বিষয়ে তুলনামূলক আলোচনা শাস্ত্রের প্রবর্তক বলা যায়। বিভিন্ন ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, সকল ধর্মই মূলত ‘একেশ্বরবাদী’। তিনি বেদ ও উপনিষদ ব্যাখ্যা করে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, প্রাচীন হিন্দুশাস্ত্রে নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলে স্বীকৃত হয়েছে। তাই বহু দেবদেবীতে বিশ্বাস, প্রতিমাপূজা ও অর্থহীন আচার-অনুষ্ঠান প্রকৃত হিন্দুধর্মের বিপক্ষে।

রামমোহন ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয় সম্পর্কে আলাপ –

আলোচনার জন্য 1815 খ্রিস্টাব্দে আত্মীয়সভা প্রতিষ্ঠা করেন। সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ সেখানে ধর্মীয় পেতেন। তিনি সাধারণ মানুষের বিষয়ে আলোচনার সুযোগ পেতেন। তিনি সা কাছে ধর্মগ্রন্থ পাঠের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রথমেই বেদান্তের বাংলা অনুবাদ করেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন উপনিষদেরও বাংলা অনুবাদ করেন। রামমোহন রায়ের ধর্মীয় চিন্তা ছিল উদার ও সহনশীল। তিনি হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মের চিন্তাধারার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে একেশ্বরবাদের আদর্শ তুলে ধরেছিলেন। তিনি একেশ্বরবাদ এবং সর্বধর্মের সমন্বয় প্রচারের জন্য 1821 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ইউনিটেরিয়ান কমিটি করেন। এ ছাড়া হিন্দু একেশ্বরবাদের তত্ত্ব প্রচারের জন্য 1825 খ্রিস্টাব্দে বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

রামমোহন রায়ের ধর্মীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল 1828 খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠা। তৎকালীন বাংলা দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ব্রাহ্ম সমাজের সদস্য হন। যেমন – দ্বারকানাথ ঠাকুর, প্রসন্ন কুমার ঠাকুর, তারাচাঁদ চক্রবর্তী প্রমুখ। ব্রাহ্মসমাজের আন্দোলনের ফলেই ভারতীয় সমাজে উদার ও প্রগতিশীল মানসিকতার বিকাশ ঘটেছিল। অবশ্য রামমোহন রায়ের এই যুক্তিবাদী চিন্তাধারা সমাজের শিক্ষিত সম্প্রদায়ের উপর কিছুটা প্রভাব বিস্তার করেছিল। সাধারণ মানুষকে রামমোহন রায়ের এই ধর্মীয় চিন্তাধারা প্রভাবিত করতে পারেনি। তবুও বলা যায়, রামমোহন রায় ধর্মীয় সংস্কারের মাধ্যমে খ্রিস্টান ধর্মের আক্রমণ থেকে হিন্দুধর্মকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন এবং হিন্দুধর্মের মূল আদর্শ গুলিকে সাধারণের সামনে কিছুটা তুলে ধরতে পেরেছিলেন।

রামমোহনের সংস্কার মুক্ত যুক্তিবাদী মন হিন্দু সমাজে প্রচলিত বাল্যবিবাহ বহুবিবাহ কন্যাপণ, কৌলিন্য প্রথা, জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা, গঙ্গাসাগরে সন্তান নিক্ষেপ প্রভৃতি বহুবিধ সামাজিক কুপ্রথার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। এগুলি নিবারণের জন্য সংবাদপত্রের মাধ্যমে তিনি প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় বিভিন্ন পুস্তিকা এবং ‘সম্বাদ কৌমুদী’ পত্রিকায় বিভিন্ন প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। হিন্দুশাস্ত্র ও বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে তিনি প্রমাণ করেন যে, সতীদাহ ধর্মবিরুদ্ধ ও অশাস্ত্রীয়। এই কুপ্রথা নিবারণের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বাংলার বিশিষ্ট নাগরিকদের স্বাক্ষরিত এক আবেদনপত্র বড়লাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে জমা দেন। রামমোহনের সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতায় গভর্নর জেনারেল বেন্টিঙ্ক এক আইনের মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয় (1829 খ্রিস্টাব্দ)।

কেবল প্রচলিত এই কুপ্রথার হাত থেকে নারীর জীবনরক্ষাই নয়, মর্যাদা সহকারে তাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টাও তিনি করেন। নারী-পুরুষের সমান অধিকার, বিধবার পুনর্বিবাহ, নারী শিক্ষা, বহুবিবাহ রোধ প্রভৃতি ব্যাপারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন।

রামমোহন রায় মনে করতেন যে, আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষার ওপর ভিত্তি করেই নবভারত গড়ে উঠবে। হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তিনি কতটা যুক্ত ছিলেন তা বিতর্কের বিষয়, কিন্তু তিনি নিজ ব্যয়ে কলকাতায় একটি ইংরেজী বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। ডেভিড হেয়ারের শিক্ষা বিস্তারের কাজে তিনি তাঁর অন্যতম প্রধান সহায়ক ছিলেন। হেয়ারের বিদ্যালয় ও রামমোহন প্রতিষ্ঠিত ‘বেদান্ত কলেজে’ পাশ্চাত্য সমাজবিজ্ঞান ও পদার্থবিদ্যা শিক্ষা দেওয়া হত। 1823 খ্রিস্টাব্দে লর্ড আমহার্স্টকে লিখিত এক পত্রে তিনি ভারতবর্ষে গণিত, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, রসায়ন, অস্থিবিদ্যা ও পাশ্চাত্য দর্শন শিক্ষা দেবার দাবি জানান। তাঁর লিখিত পত্রটি ভারতীয় নবজাগরণের নবজাগরণের ইতিহ ইতিহাসে এক মূল্যবান দলিল। 1830 খ্রিস্টাব্দে স্কটিশ মিশনারি আলেকজান্ডার ডাফ কলকাতায় ‘স্কটিশ চার্চ কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হলে রামমোহন ছিলেন তাঁর প্রধান সহায়ক।

রামমোহন কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি ভারতে কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের জন্য জমিদারি অত্যাচার ও প্রজা পীড়ণের বিরুদ্ধে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। তিনি ভূমি রাজস্ব বৃদ্ধি ও ভারত থেকে ইংল্যান্ডে সম্পদের নির্গমনের বিরোধিতা করেছিলেন। সংবাদপত্রের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও রামমোহন সচেষ্ট হয়েছিলেন। জন অ্যাডাম সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে একটি জরুরী আইন জারী করেন। রামমোহনের চেষ্টায় 1835 সালে Press Regulation Act প্রত্যাহৃত হয়। রামমোহন সামাজিক ন্যায়কে সুনিশ্চিত করার জন্য বিচার ব্যবস্থার সংস্কার সাধনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ন্যায়, সাম্য ও সেবার আদর্শে জনজীবনের সংস্কার সাধন করা।

বাংলা তথা ভারতের আধুনিকী করণে রামমোহনের অবদান অবিস্মরণীয় হলেও, তা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ছিল না। অধুনা তাঁর কাজের যে মূল্যায়ন হচ্ছে, তা থেকে কয়েকটি সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেমন –

  • হিন্দুধর্মে প্রচলিত কুসংস্কার বা জাতিভেদ-প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও তিনি নিজ জীবনে তা অনুসরণ করেননি। উপবীত ধারণ বা ব্রাহ্মণ পাচকের হাতে খাদ্যগ্রহণ রীতি তিনি বর্জন করেননি।
  • আবার পৌত্তলিকতা বা সতীদাহ-প্রথার বিরুদ্ধে তিনি যতটা সোচ্চার ছিলেন, জাতিভেদ-প্রথার বিরুদ্ধে ততটা ছিলেন না।
  • তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে এতটাই আগ্রহী ছিলেন যে, প্রাচ্য শিক্ষাব্যবস্থাকে হেয় করতে দ্বিধা করেননি। সংস্কৃত শিক্ষাব্যবস্থাকে তিনি “অন্ধকারে তলিয়ে যাবার নামান্তর” বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু সংস্কৃত সাহিত্য বা শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো দিক আদৌ ছিল না-একথা ঠিক নয়।
  • ‘রামমোহন চিরস্থায়ী’ বন্দোবস্ত ব্যবস্থায় কৃষকদের দুর্দশার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কখনোই তিনি শোষক জমিদারশ্রেণির বিরুদ্ধে সোচ্চার হননি। জমিদার-বংশের সন্তান হওয়ার জন্যই কি এই পক্ষপাতিত্ব? ইংরেজ জাতি ও ইংরেজি শিক্ষার প্রতি অত্যধিক দুর্বলতাকে কেউ কেউ জাতীয়তাবাদের বিরোধী বলে মনে মনে করেন করেন।

অভিযোগ গুলির সতত্য স্বীকার করেও রামমোহনের কৃতিত্বকে অস্বীকার করা যায় না। রামমোহন ছিলেন সংস্কারক, বিপ্লবী নয়। তাই নিজধর্ম ও রীতিকে সম্পূর্ণ বিসর্জন করতে তিনি পারেননি। তা ছাড়া উপবীত বর্জন কিংবা অব্রাহ্মাণের হাতে খাদ্য গ্রহণ করলে তাঁকে ধর্মচ্যুত ঘোষণা করা রক্ষণশীলদের পক্ষে সহজ হত। সেক্ষেত্রে ধর্মের মধ্যে থেকে সমালোচনা করার যে সুযোগ ও শক্তি-তা থেকে তিনি বঞ্চিত হতেন। বিধর্মীর সমালোচনা সত্য হলেও, তার আন্তরিকতা সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দিত। তাই ধর্মের মধ্যে থেকেই তিনি এর সংস্কার চেয়েছিলেন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

রামমোহন রায় কে ছিলেন?

রামমোহন রায় ছিলেন উনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক, ধর্মীয় নেতা এবং শিক্ষাবিদ। তিনি ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত এবং আধুনিক ভারতের জনক হিসেবে বিবেচিত হন। তিনি ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা এবং সতীদাহ প্রথা বিলোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

রামমোহন রায়ের জন্ম কবে এবং কোথায় হয়েছিল?

রামমোহন রায়ের জন্ম 1772 খ্রিস্টাব্দে (মতান্তরে 1774) হুগলী জেলার রাধানগরে এক রক্ষণশীল ও ধনী ব্রাহ্মণ পরিবারে হয়েছিল।

রামমোহন রায়ের ধর্মীয় চিন্তাধারা কী ছিল?

রামমোহন রায়ের ধর্মীয় চিন্তাধারা ছিল উদার ও সহনশীল। তিনি একেশ্বরবাদের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বেদ ও উপনিষদের ব্যাখ্যা করে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, প্রাচীন হিন্দুশাস্ত্রে নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম।

রামমোহন রায় কীভাবে সমাজ সংস্কারে অবদান রেখেছিলেন?

রামমোহন রায় সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। তিনি সতীদাহ প্রথা বিলোপ, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বিরোধিতা, নারী শিক্ষার প্রচলন, বিধবাদের পুনর্বিবাহের পক্ষে এবং জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি সংবাদপত্রের মাধ্যমে সমাজের কুপ্রথাগুলির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেন।

রামমোহন রায় কীভাবে শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রেখেছিলেন?

রামমোহন রায় আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি কলকাতায় ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং ডেভিড হেয়ারের শিক্ষা বিস্তারের কাজে সহায়তা করেন। তিনি ভারতবর্ষে গণিত, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, রসায়ন, অস্থিবিদ্যা ও পাশ্চাত্য দর্শন শিক্ষার দাবি জানান।

রামমোহন রায় কীভাবে সতীদাহ প্রথা বিলোপে ভূমিকা পালন করেছিলেন?

রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি হিন্দুশাস্ত্র ও ধর্মগ্রন্থ থেকে প্রমাণ করেন যে, সতীদাহ ধর্মবিরুদ্ধ ও অশাস্ত্রীয়। তিনি বাংলার বিশিষ্ট নাগরিকদের স্বাক্ষরিত এক আবেদনপত্র বড়লাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে জমা দেন। তাঁর সক্রিয় সমর্থনে 1829 খ্রিস্টাব্দে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয়।

রামমোহন রায়ের প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্ম সমাজের উদ্দেশ্য কী ছিল?

ব্রাহ্ম সমাজের মূল উদ্দেশ্য ছিল একেশ্বরবাদের আদর্শ প্রচার এবং হিন্দুধর্মের মধ্যে থেকে ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার সাধন। ব্রাহ্ম সমাজের মাধ্যমে রামমোহন রায় হিন্দু সমাজে উদার ও প্রগতিশীল মানসিকতার বিকাশ ঘটানোর চেষ্টা করেছিলেন।

রামমোহন রায়ের সমালোচনা কী ছিল?

রামমোহন রায়ের কাজের কিছু সমালোচনাও রয়েছে। যেমন, তিনি হিন্দুধর্মের কুসংস্কার ও জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও নিজ জীবনে তা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করেননি। তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি অত্যধিক আগ্রহী ছিলেন এবং সংস্কৃত শিক্ষাব্যবস্থাকে হেয় করেছিলেন। এছাড়া, তিনি জমিদারশ্রেণির বিরুদ্ধে সোচ্চার হননি।

রামমোহন রায়ের মৃত্যু কবে হয়েছিল?

রামমোহন রায়ের মৃত্যু 1833 খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে হয়েছিল।

রামমোহন রায়কে কেন ‘আধুনিক ভারতের জনক’ বলা হয়?

রামমোহন রায়কে ‘আধুনিক ভারতের জনক’ বলা হয় কারণ তিনি ধর্ম, সমাজ, শিক্ষা ও রাজনীতি ক্ষেত্রে আধুনিক চিন্তাধারার প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি ভারতীয় সমাজে যুক্তিবাদ, বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদারনৈতিক চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

রাজা রামমোহন রায় লর্ড আমহার্স্টকে পত্র লিখেছিলেন কেন?

1813 খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনে ভারতীয়দের শিক্ষাখাতে বরাদ্দকৃত বাৎসরিক এক লক্ষ টাকা 1823 খ্রিস্টাব্দে প্রাচ্য শিক্ষা খাতে ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে পাশ্চাত্যবাদী রাজা রামমোহন রায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড আমহার্স্টের কাছে পত্র প্রেরণ করেন। বস্তুতপক্ষে, আরবি, ফারসি ও সংস্কৃত সাহিত্যে প্রভূত পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও রাজা রামমোহন রায় পাশ্চাত্য শিক্ষার একজন উৎসাহী সমর্থক ছিলেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন যে, আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষার ওপর ভিত্তি করেই নব ভারত গড়ে উঠবে।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “সমাজ সংস্কারক হিসাবে রামমোহন রায়ের অবদান লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “সমাজ সংস্কারক হিসাবে রামমোহন রায়ের অবদান লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন