এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “সাঁওতাল বিদ্রোহের গুরুত্ব কী ছিল? সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান কারণগুলি কী ছিল?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “সাঁওতাল বিদ্রোহের গুরুত্ব কী ছিল? সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান কারণগুলি কী ছিল?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায় “প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ – বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

সাঁওতাল বিদ্রোহের গুরুত্ব কী ছিল?
সাঁওতাল বিদ্রোহের গুরুত্ব হল –
- এই বিদ্রোহ ছিল একটি কৃষক বিদ্রোহ এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সংগ্রাম;
- এই বিদ্রোহ ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল;
- এই বিদ্রোহের ফলে ইংরেজ সরকার সাঁওতালদের অভিযোগগুলির যথার্থতা অনুভব করে সাঁওতালদের বসবাসের জন্য ‘সাঁওতাল পরগণা’ নামে একটি পৃথক প্রশাসনিক অঞ্চল গঠন করেন।
সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান কারণগুলি কী ছিল?
সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান কারণগুলি হল –
- সাঁওতালদের বাসভূমি ‘দামিন-ই-কোহ্’ অঞ্চলে সরকারি রাজস্বের চাপ বৃদ্ধি;
- সাঁওতালদের উপর জমিদার, ইজারাদার, সরকারি কর্মচারী, পুলিশ প্রভৃতির অত্যাচার ও শোষণ;
- বহিরাগত মহাজন ও ব্যবসায়ী কর্তৃক সহজ-সরল সাঁওতালদের বঞ্চনা ও ঋণের দায়ে জমি দখল;
- রেলপথ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ইংরেজ ঠিকাদার ও কর্মচারীদের সাঁওতাল সমাজব্যবস্থা ও সাঁওতাল রমণীদের প্রতি অমর্যাদাকর আচরণ প্রভৃতি সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান কারণ।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
সাঁওতাল বিদ্রোহ কী?
সাঁওতাল বিদ্রোহ (1855 – 1856) ছিল ব্রিটিশ শাসন, জমিদার, মহাজন ও শোষকদের বিরুদ্ধে সাঁওতাল আদিবাসীদের একটি সংগঠিত বিদ্রোহ। এটি “সিধু-কানহু বিদ্রোহ” নামেও পরিচিত।
সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান কারণ কী ছিল?
সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান কারণ –
1. ব্রিটিশ সরকার ও জমিদারদের অতিরিক্ত কর আদায়।
2. মহাজনদের দ্বারা সাঁওতালদের জমি দখল ও শোষণ।
3. রেলওয়ে ও ঠিকাদারদের দ্বারা সাঁওতাল নারীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ।
আদিবাসী অঞ্চলে ব্রিটিশ প্রশাসনের অত্যাচার।
সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
সিধু ও কানহু মুর্মু ছিলেন এই বিদ্রোহের প্রধান নেতা। এছাড়াও চাঁদ ও ভৈরব তাদের সহযোগী ছিলেন।
সাঁওতাল বিদ্রোহের ফলাফল কী ছিল?
সাঁওতাল বিদ্রোহের ফলাফল –
1. ব্রিটিশ সরকার সাঁওতাল পরগণা নামে একটি আলাদা প্রশাসনিক অঞ্চল তৈরি করে।
2. আদিবাসীদের অধিকার সম্পর্কে ব্রিটিশদের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
3. পরবর্তীতে অন্যান্য আদিবাসী ও কৃষক বিদ্রোহের পথ প্রশস্ত হয়।
সাঁওতাল বিদ্রোহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?
সাঁওতাল বিদ্রোহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব –
1. এটি ছিল ভারতের প্রথম সংগঠিত আদিবাসী বিদ্রোহ।
2. ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের সূচনা করে।
3. এটি পরবর্তীতে 1857 সালের মহাবিদ্রোহের জন্য প্রেরণা দেয়।
সাঁওতাল বিদ্রোহ কবে হয়েছিল?
এই বিদ্রোহ 1855 সালের 30 জুন 1856 সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
সাঁওতাল বিদ্রোহ কোথায় হয়েছিল?
মূলত বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের সাঁওতাল-dominated অঞ্চলে (দামিন-ই-কোহ) এই বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “সাঁওতাল বিদ্রোহের গুরুত্ব কী ছিল? সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান কারণগুলি কী ছিল?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “সাঁওতাল বিদ্রোহের গুরুত্ব কী ছিল? সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান কারণগুলি কী ছিল?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায় “প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ – বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।