শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা বলতে কী বোঝো? শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর কী?

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা বলতে কী বোঝো? শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর কী?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় “অভিব্যক্তি ও অভিযোজন”-এর “বেঁচে থাকার কৌশল: অভিযোজন” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা বলতে কী বোঝো? শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর কী?

শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা বলতে কী বোঝো?

সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল উপস্থিত থাকলেও সেই মাটিতে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন খনিজ লবণ যেমন – NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড), MgCl2 (ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইড), MgSO4 (ম্যাগনেশিয়াম সালফেট) ইত্যাদি উপস্থিত থাকায় মাটিতে জলের অভিস্রবণীয় চাপ বৃদ্ধি পায়। ফলে উদ্ভিদ সেই জল শোষণ করতে পারে না, এই প্রকৃতির মাটিকে শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা (Physiological Dry Soil) বলে।

শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা কোথায় দেখা যায়?

শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা প্রধানত সমুদ্র উপকূলবর্তী লবণাক্ত এলাকা, বিভিন্ন নদীর মোহনা এবং খাঁড়ি অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। বিশেষ করে, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সুন্দরবন অঞ্চলে এই ধরনের মৃত্তিকার ব্যাপক উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়।

শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা কোন উদ্ভিদ জন্মায়?

শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা অর্থাৎ এই ধরনের লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে যে বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ জন্মায়, তাদের লবণাম্বু উদ্ভিদ বা হ্যালোফাইট (Halophyte) এবং সাধারণ কথায় ম্যানগ্রোভ (Mangrove) উদ্ভিদ বলা হয়। এই প্রতিকূল পরিবেশে জন্ম নেওয়া কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদ্ভিদের উদাহরণ হলো সুন্দরী (Sundari), গড়ান (Goran), গেঁওয়া (Gewa), কেওড়া (Keora), বাইন (Baen) এবং হেতাল (Hetal)।

শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর কী?

সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকায় অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকে। তাই সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া প্রভৃতি লবণাম্বু উদ্ভিদের শাখামূলগুলি অভিকর্ষের বিপরীতে মাটির ওপরে বৃদ্ধি পায় এবং মূলে থাকা শ্বাসছিদ্র বা নিউম্যাথোড (Pneumathode)-এর মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বাতাস থেকে প্রয়োজনীয় O2 গ্রহণ করে। এই প্রকৃতির মূলগুলিকে শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর (Pneumatophores) বলে।

%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2
Image Source – wikipedia.org

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা ও শ্বাসমূল” — নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি এই আর্টিকেলটি মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।

Please Share This Article

Related Posts

মনুষ্য ক্রিয়াকলাপ নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে নাইট্রোজেন চক্রকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা আলোচনা করো।

নাইট্রোজেন চক্রের ওপর মনুষ্য ক্রিয়াকলাপের প্রভাব – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

ক্যাকটাসের মূলের অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো। বাষ্পমোচন প্রতিরোধে ক্যাকটাসের পাতার অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

ক্যাকটাসের মূল ও পাতার অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

মুখ্য অভিযোজন এবং গৌণ অভিযোজন কাকে বলে? মুখ্য অভিযোজন এবং গৌণ অভিযোজনের পার্থক্য লেখো।

মুখ্য অভিযোজন এবং গৌণ অভিযোজন কাকে বলে? এদের পার্থক্য | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

নাইট্রোজেন চক্রের ওপর মনুষ্য ক্রিয়াকলাপের প্রভাব – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা বলতে কী বোঝো? শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর কী?

ক্যাকটাসের মূল ও পাতার অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

মুখ্য অভিযোজন এবং গৌণ অভিযোজন কাকে বলে? এদের পার্থক্য | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

মুখ্য জলজ প্রাণী ও গৌণ জলজ প্রাণী বলতে কী বোঝো?