এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “সোমপ্রকাশ সাময়িকপত্রের বিষয়বস্তু কী ছিল? ব্রিটিশ সরকার কেন 1878 খ্রিস্টাব্দে ‘সোমপ্রকাশ’ সাময়িকপত্রের প্রকাশ বন্ধ করে দেয়?” নিয়ে আলোচনা করব। এই “সোমপ্রকাশ সাময়িকপত্রের বিষয়বস্তু কী ছিল? ব্রিটিশ সরকার কেন 1878 খ্রিস্টাব্দে ‘সোমপ্রকাশ’ সাময়িকপত্রের প্রকাশ বন্ধ করে দেয়?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় “ইতিহাসের ধারণা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

সোমপ্রকাশ সাময়িকপত্রের বিষয়বস্তু কী ছিল?
নীতিশিক্ষামূলক সংবাদ পরিবেশনের সংকীর্ণ গণ্ডীর বাইরে বেরিয়ে এসে ‘সোমপ্রকাশ’-ই প্রথম নির্ভীক তথা নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক সংবাদ এবং মতামত প্রকাশ করতে থাকে। লর্ড ডালহৌসির নির্লজ্জ রাজ্যগ্রাস নীতি, নিষ্ঠুর দমননীতি, কৃষকদের দুরাবস্থা প্রভৃতির খবর দিনের পর দিন অসীম সাহসে ছেপেছে ‘সোমপ্রকাশ’। এ ছাড়াও বিধবা বিবাহ, বহুবিবাহ, শিক্ষাবিস্তার, বিজ্ঞানচর্চা প্রভৃতি সম্পর্কে নানাবিধ প্রতিবেদন এতে নিয়মিত প্রকাশিত হত। অত্যাচারী নীলকর ও দমন-পীড়ন মূলক নীলচাষের বিরুদ্ধে যেন সংগ্রামীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল ‘সোমপ্রকাশ’।
ব্রিটিশ সরকার কেন 1878 খ্রিস্টাব্দে ‘সোমপ্রকাশ’ সাময়িকপত্রের প্রকাশ বন্ধ করে দেয়?
নীলকরদের অত্যাচারের প্রতিবাদ ও কাবুলে ব্রিটিশ নীতির সমালোচনা করেছিল ‘সোমপ্রকাশ’। ফলে ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্টের ভিত্তিতে সোমপ্রকাশের সম্পাদককে মুচলেকা ও জরিমানা দিতে বলা হয়। সোমপ্রকাশের সম্পাদক মুচলেকা বা জরিমানা দিতে অস্বীকার করায় ব্রিটিশ সরকার 1878 খ্রিস্টাব্দে ‘সোমপ্রকাশ’ -এর প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
সোমপ্রকাশ কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
সোমপ্রকাশ ছিল প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র যেটি নির্ভীক ও নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক সংবাদ এবং সমাজ সংস্কারমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা করত। এটি ব্রিটিশ শাসনের অন্যায় নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল এবং নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামী ভূমিকা পালন করত।
ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট কী ছিল?
ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট ছিল ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক পাস করা একটি কালাকানুন, যা স্থানীয় ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্র ও সাময়িকপত্রের স্বাধীনতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করত। এই আইনের মাধ্যমে সরকার যে কোনো প্রকাশনাকে সেন্সর বা বন্ধ করার ক্ষমতা পেয়েছিল।
সোমপ্রকাশের সম্পাদক কে ছিলেন?
সোমপ্রকাশের সম্পাদক ছিলেন দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ। তিনি ব্রিটিশ সরকারের চাপের মুখে মুচলেকা বা জরিমানা দিতে অস্বীকার করেছিলেন, যার ফলে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
সোমপ্রকাশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব কী ছিল?
সোমপ্রকাশ সমাজ সংস্কার, শিক্ষাবিস্তার, নারী অধিকার, এবং কৃষক ও নিম্নবর্গের মানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ছিল। এটি ব্রিটিশ শাসনের অন্যায় নীতির বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
সোমপ্রকাশের প্রকাশনা বন্ধ হওয়ার পর এর প্রভাব কী ছিল?
সোমপ্রকাশের প্রকাশনা বন্ধ হওয়ার পর বাংলার সংবাদপত্র জগতে একটি শূন্যতা তৈরি হয়। তবে এটি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
সোমপ্রকাশের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?
সোমপ্রকাশ বাংলা সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি সংবাদপত্রের মাধ্যমে সমাজ ও রাজনীতিতে পরিবর্তন আনার পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছিল এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “সোমপ্রকাশ সাময়িকপত্রের বিষয়বস্তু কী ছিল? ব্রিটিশ সরকার কেন 1878 খ্রিস্টাব্দে ‘সোমপ্রকাশ’ সাময়িকপত্রের প্রকাশ বন্ধ করে দেয়?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “সোমপ্রকাশ সাময়িকপত্রের বিষয়বস্তু কী ছিল? ব্রিটিশ সরকার কেন 1878 খ্রিস্টাব্দে ‘সোমপ্রকাশ’ সাময়িকপত্রের প্রকাশ বন্ধ করে দেয়?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় “ইতিহাসের ধারণা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।