এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “শ্রীরামকৃষ্ণের সর্ব-ধর্ম সমন্বয়ের মূল কথা কী? শ্রীরামকৃষ্ণের সর্বধর্ম সমন্বয়ে আদর্শ বলতে কী বোঝো?” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “শ্রীরামকৃষ্ণের সর্ব-ধর্ম সমন্বয়ের মূল কথা কী? শ্রীরামকৃষ্ণের সর্বধর্ম সমন্বয়ে আদর্শ বলতে কী বোঝো?“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

শ্রীরামকৃষ্ণের সর্ব-ধর্ম সমন্বয়ের মূল কথা কী?
আধুনিক ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। তিনি ঘোষণা করেন, সব ধর্ম সত্য এবং সব ধর্মমত অনুসরণেই ঈশ্বরকে পাওয়া যায়। ধর্মে ধর্মে ভেদাভেদের কোনো কারণ নেই, ঈশ্বর আসলে এক ও অভিন্ন। ঈশ্বরের অধিষ্ঠান রয়েছে মানুষের অন্তরে, ‘শিব জ্ঞানে জীব সেবা’ করলেই ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ সম্ভব। তাঁর মতে ‘যত মত তত পথ’ এবং ‘যত্র জীব তত্র শিব’।
শ্রীরামকৃষ্ণের সর্বধর্ম সমন্বয়ে আদর্শ বলতে কী বোঝো?
ব্রাহ্ম আন্দোলন যখন মত ও পথের বিভেদে ক্ষীণ প্রায় সে সময় হিন্দু ধর্মকে লোকাচার ও অনুষ্ঠানের চোরা স্রোত থেকে উদ্ধার করে রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব এক নবজীবন দান করলেন।তথাকথিত শিক্ষা-দীক্ষা ও সংস্কৃতিহীন, পাশ্চাত্য জ্ঞান বর্জিত এই দরিদ্র ব্রাহ্মণ পুরোহিত নিজো জীবন ও সাধনার মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন ভারতীয় দর্শন, সংস্কৃতি ও সাধনার সত্যতা। তিনি বুঝেছিলেন যে সর্বধর্ম সমন্বয় হল যুগের আদর্শ।
তিনি তাঁর সাধনার মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করেন যে শৈব, বৈষ্ণব, হিন্দু, বৌদ্ধ, ইসলাম, খ্রিস্টান, সাকার, নিরাকার, দ্বৈত, অদ্বৈত প্রভৃতি সর্বসাধনার পথ ধরেই ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানো যায়। সাধন-মার্গের সব পদে সত্য ও অভ্রান্ত। তাই তিনি বলেন যত মত তত পথ। এছাড়া ও তিনি বলেন ঈশ্বর লাভের জন্য আচার-অনুষ্ঠান, জব-তপ,মন্ত্র-তন্ত্র, যাগ-যজ্ঞ, কৃচ্ছ সাধনের কোন প্রয়োজন নেই। শুধু আন্তরিকতার দ্বারাই কোন মানুষ প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে।
অন্যদিকে রামকৃষ্ণ দেব ছিলেন মানবতাবাদী। তাঁর কাছে মানব সেবা ঈশ্বরের সেবার নামান্তর মাত্র। ফলে তাঁর কাছে ধর্মের অর্থ হয়ে ওঠে জীবের কল্যাণ এবং জীব সেবা। জীবে দয়া নয়, শিব জ্ঞানে জীব সেবাই হল ধর্মের মূল আদর্শ।
ভারতীয় নবজাগরণের অন্যতম মূল আদর্শ নারী মুক্তি যাকে তিনি পূর্ণতার পথে এগিয়ে দেন। তাঁর কাছে নারী হলো স্বয়ং জগৎ মাতার প্রতি মূর্তি। নারী জাতির দুর্দশা মোচন ও নারীর নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি নারীর সূর্য মহিমা ঘোষণা করেন। শ্রীরামকৃষ্ণ মনে করতেন যে প্রতিটি মানুষই অনন্ত শক্তির অধিকারী। তার এই মানবতাবাদী আদর্শের প্রচারের ফলে সমাজে জাত পাতের বেড়াজাল ভেঙে যায়। তাঁর সহজ সরল ভাষার বানী যন্ত্রনায় দগ্ধ ও কাতর মানুষের বুকে শান্তির বারি বিন্দুর মতো ঝড়ে পড়ে।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “শ্রীরামকৃষ্ণের সর্ব-ধর্ম সমন্বয়ের মূল কথা কী? শ্রীরামকৃষ্ণের সর্বধর্ম সমন্বয়ে আদর্শ বলতে কী বোঝো?” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “শ্রীরামকৃষ্ণের সর্ব-ধর্ম সমন্বয়ের মূল কথা কী? শ্রীরামকৃষ্ণের সর্বধর্ম সমন্বয়ে আদর্শ বলতে কী বোঝো?” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের দ্বিতীয় অধ্যায় “সংস্কার – বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। । ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন