তড়িৎলেপন বা ইলেকট্রোপ্লেটিং কাকে বলে? তড়িৎলেপনের উদ্দেশ্য কী?

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “তড়িৎলেপন বা ইলেকট্রোপ্লেটিং কাকে বলে? তড়িৎলেপনের উদ্দেশ্য কী? অথবা, তড়িৎলেপন দেওয়া হয় কেন?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় “পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মসমূহ” -এর “তড়িৎপ্রবাহ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তড়িৎলেপন বা ইলেকট্রোপ্লেটিং কাকে বলে? তড়িৎলেপনের উদ্দেশ্য কী? অথবা, তড়িৎলেপন দেওয়া হয় কেন?

তড়িৎলেপন বা ইলেকট্রোপ্লেটিং কাকে বলে?

তড়িৎলেপন (Electroplating) – তড়িদবিশ্লেষণ পদ্ধতিতে অপেক্ষাকৃত বেশি সক্রিয় ধাতু (তামা, লোহা, ইত্যাদি) বা ধাতুসংকরের (পিতল) তৈরি বস্তুর উপর অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় ধাতুর (রূপো, সোনা, প্ল্যাটিনাম ইত্যাদি) প্রলেপ দেওয়ার পদ্ধতিকে তড়িৎলেপন বলে।

তড়িৎলেপনের উদ্দেশ্য কী? অথবা, তড়িৎলেপন দেওয়া হয় কেন?

তড়িৎলেপনের উদ্দেশ্য –

  • ধাতব পদার্থগুলিকে বাহ্যিক ক্রিয়া (জল, বায়ু) ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তড়িৎলেপন করা হয়। যেমন – লোহার বস্তুকে মরিচার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য লোহার বস্তুর ওপর নিকেল, টিন প্রভৃতি ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।
  • ধাতব পদার্থের সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য তড়িৎলেপন করা হয়। যেমন – পিতলের গয়নার উপর সোনার প্রলেপ দিয়ে তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

তড়িৎলেপন বা ইলেকট্রোপ্লেটিং কী?

তড়িৎলেপন হল একটি তড়িৎ-রাসায়নিক প্রক্রিয়া (তড়িদবিশ্লেষণ পদ্ধতি), যার মাধ্যমে একটি কম সক্রিয় ধাতু (যেমন- সোনা, রূপা, ক্রোমিয়াম) দিয়ে একটি বেশি সক্রিয় ধাতু বা ধাতুসংকরের (যেমন – লোহা, তামা, পিতল) তৈরি বস্তুর উপর পাতলা প্রলেপ দেওয়া হয়।

তড়িৎলেপন কেন করা হয়? এর প্রধান উদ্দেশ্য কী?

তড়িৎলেপনের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো –
1. ক্ষয় রোধ – ধাতব বস্তুকে বায়ু, জল ও অন্যান্য রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে রক্ষা করা। যেমন, মরিচা পড়া রোধ করতে লোহার উপর টিন বা জিংকের প্রলেপ দেওয়া।
2. সৌন্দর্য বৃদ্ধি – বস্তুর চকচকে ও আকর্ষণীয় রূপ দেওয়া। যেমন, সস্তার গয়না বা প্রসাধনী সামগ্রীতে সোনা বা রূপার প্রলেপ দেওয়া।
3. স্থায়িত্ব বাড়ানো – প্রলেপ ধাতুটি বস্তুর উপর একটি কঠিন ও টেকসই স্তর তৈরি করে, যা তার ব্যবহারিক জীবনকাল বাড়িয়ে দেয়।

তড়িৎলেপন প্রক্রিয়ায় সাধারণত কোন কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?

প্রলেপ হিসেবে সাধারণত যে ধাতুগুলো ব্যবহৃত হয় –
1. সৌন্দর্যের জন্য – সোনা, রূপা, নিকেল।
2. ক্ষয়রোধের জন্য – জিংক (গ্যালভানাইজিং), টিন, ক্রোমিয়াম, নিকেল।

তড়িৎলেপনে অ্যানোড ও ক্যাথোড কী?

অ্যানোড (Anode) – এটি ধনাত্মক তড়িৎদ্বার। সাধারণত যে ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হবে, সেটি দিয়েই অ্যানোড তৈরি হয়। যেমন, সোনার প্রলেপ দিতে হলে অ্যানোড হবে সোনার। তড়িৎপ্রবাহ চালু করলে অ্যানোড ধীরে ধীরে দ্রবীভূত হয়ে ইলেক্ট্রোলাইট দ্রবণে মিশে যায়।
ক্যাথোড (Cathode) – এটি ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার। যে বস্তুটিতে প্রলেপ দেওয়া হবে, সেটিই ক্যাথোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দ্রবণে উপস্থিত ধনাত্মক আয়ন (ধাতুর আয়ন) ক্যাথোডে এসে জমা হয় এবং বস্তুর উপর প্রলেপ তৈরি করে।

তড়িৎলেপনে ইলেক্ট্রোলাইটের ভূমিকা কী?

ইলেক্ট্রোলাইট হলো একটি লবণের দ্রবণ, যা তড়িৎ পরিবহন করে এবং প্রলেপ দেওয়ার ধাতুর আয়ন সরবরাহ করে। যেমন, তামার প্রলেপ দেওয়ার জন্য সাধারণত কপার সালফেট (CuSO₄) দ্রবণ ইলেক্ট্রোলাইট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

গহনায় সোনার প্রলেপ দেওয়াকে কী বলা হয়?

গহনায় সোনার প্রলেপ দেওয়াকে গিল্ডিং (Gilding) বলা হয়।

লোহার বস্তুকে মরিচা থেকে রক্ষা করতে সাধারণত কোন ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়?

লোহার বস্তুকে মরিচা থেকে রক্ষা করতে সাধারণত দুটি ধাতুর প্রলেপ ব্যবহার করা হয় —
1.. জিংক (Zn) – একে গ্যালভানাইজিং বলা হয় (যেমন, আয়রন শীট, লোহা নল ইত্যাদিতে)।
2. টিন (Sn) – যেমন – টিনের ক্যান (খাদ্য সংরক্ষণের পাত্র) তৈরিতে।

তড়িৎলেপনের আগে বস্তুকে পরিষ্কার করা কেন জরুরি?

যদি বস্তুর গায়ে ময়লা, তৈল বা জারণের স্তর (যেমন মরিচা) থেকে যায়, তবে প্রলেপ সমানভাবে জমে না এবং সহজেই খসে পড়ে। তাই শক্ত, মসৃণ ও সমান প্রলেপ পেতে তড়িৎলেপনের আগে বস্তুটিকে ভালোভাবে পরিষ্কার করা আবশ্যক।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “তড়িৎলেপন বা ইলেকট্রোপ্লেটিং কাকে বলে? তড়িৎলেপনের উদ্দেশ্য কী? অথবা, তড়িৎলেপন দেওয়া হয় কেন?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞানের অষ্টম অধ্যায় “পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মসমূহ” -এর “তড়িৎপ্রবাহ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ব্রোমিনের সঙ্গে অ্যাসিটিলিনের যুত বিক্রিয়াটি উল্লেখ করো।

ব্রোমিনের সঙ্গে অ্যাসিটিলিনের যুত বিক্রিয়াটি উল্লেখ করো।

কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল গ্রুপ কাকে বলে? কার্যকরী মূলক ও জৈব মূলকের পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।

কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল গ্রুপ কাকে বলে? কার্যকরী মূলক ও জৈব মূলকের পার্থক্য বুঝিয়ে দাও।

একটি জৈব যৌগের আণবিক সংকেত C₂H₄O₂। যৌগটি জলে দ্রাব্য এবং যৌগটির জলীয় দ্রবণে NaHCO₃ যোগ করলে CO₂ নির্গত হয়। জৈব যৌগটিকে শনাক্ত করো। জৈব যৌগটির সঙ্গে ইথানলের বিক্রিয়া শর্ত ও সমিত রাসায়নিক সমীকরণসহ লেখো।

C₂H₄O₂ সংকেতের একটি জৈব যৌগ NaHCO₃-এর সাথে CO₂ গ্যাস দেয়। যৌগটি শনাক্ত করো ও ইথানলের সাথে এর বিক্রিয়ার শর্তসহ সমীকরণ দাও।

About The Author

Souvick

Tags

মন্তব্য করুন

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026 – Mark 5

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026 – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026 – সত্য মিথ্যা

Madhyamik Mathematics Suggestion 2026 – শূন্যস্থান পূরণ