হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ার কাকে বলে? হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ারের পার্থক্য

Rahul

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ার কাকে বলে? হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ারের পার্থক্য লেখো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ার কাকে বলে? হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ারের পার্থক্য লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল – উপাদান ও উষ্ণতার ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ারের পার্থক্য লেখো।
হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ারের পার্থক্য লেখো।

হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ার কাকে বলে?

হোমোস্ফিয়ার –

(Homo = সম, Sphere=মন্ডল) ভূ পৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে প্রায় 90 কিমি পর্যন্ত বায়ুমন্ডলের রাসায়নিক গঠন বিশেষ করে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত প্রায় একই ধরনের থাকে। এই জন্য এই স্তরটিকে হোমোস্ফিয়ার বা সমমন্ডল বলে। ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্যাটোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার ও থার্মেস্ফিয়ারের নিম্নাংশ এই স্তরের অন্তর্গত।

হেটেরোস্ফিয়ার –

(Hetero= বিষম, sphere= মন্ডল) হোমোস্ফিয়ারের ওপর থেকে প্রায় 10000 কিমি পর্যন্ত বায়ুমন্ডলের যে স্তর আছে তার নাম হেটোরোস্ফিয়ার বা বিষমমন্ডল। সমমন্ডল ও বিষমমন্ডলের সীমারেখা কে টার্বোপজ বলে। থার্মোস্ফিয়ারের উর্ধ্বাংশ ও এক্সোস্ফিয়ার এই স্তরের অন্তর্গত। হেটেরোস্ফিয়ারের চারটি উপস্তর রয়েছে যথা –

  1. নাইট্রোজেন স্তর – উচ্চতা 90 কিমি-200 কিমি, প্রধান গ্যাস নাইট্রোজেন।
  2. অক্সিজেন স্তর – উচ্চতা প্রায় 200 কিমি-1100 কিমি, প্রধান গ্যাস অক্সিজেন।
  3. হিলিয়াম স্তর – উচ্চতা প্রায় 1100 কিমি-3500 কিমি, প্রধান গ্যাস হিলিয়াম।
  4. হাইড্রোজেন স্তর – উচ্চতা প্রায় 3500 কিমি-10000 কিমি, প্রধান গ্যাস হাইড্রোজে।

হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ারের পার্থক্য লেখো।

হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ারের মধ্যে পার্থক্য –

বিষয়হোমোস্ফিয়ারহেটেরোস্ফিয়ার
অর্থহোমোস্ফিয়ার শব্দের অর্থ সমমণ্ডল।হেটেরোস্ফিয়ার শব্দের অর্থ বিষমমণ্ডল।
বিস্তৃতিসমুদ্র সমতল থেকে ঊর্ধ্বে 100 কিমি, মতান্তরে 80-90 পর্যন্ত বিস্তৃত।ঊর্ধ্বাকাশে 100-10,000 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
প্রকৃতিএই স্তরে গ্যাসীয় উপাদানগুলি মিলেমিশে একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকে।এই স্তরে গ্যাসীয় উপাদানগুলি মিলেমিশে না থেকে এক-একটি গ্যাস একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় অবস্থান করে।
ঘনত্বএখানে বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব খুব বেশি।এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব হ্রাস পায়।
উপবিভাগহোমোস্ফিয়ারের কোনো উপবিভাগ নেই।হেটোরোস্ফিয়ারের চারটি উপবিভাগ রয়েছে, যথা – (a) আণবিক নাইট্রোজেন স্তর, (b) পারমাণবিক অক্সিজেন স্তর, (c) হিলিয়াম স্তর, (d) হাইড্রোজেন স্তর।
গুরুত্বএই স্তরটিই পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।পৃথিবীর জলবায়ু নির্ধারণে এই স্তরের গুরুত্ব খুব কম।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ার কাকে বলে? হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ারের পার্থক্য লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ার কাকে বলে? হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ারের পার্থক্য লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল – উপাদান ও উষ্ণতার ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। । ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির বর্ণনা দাও।

বায়ুর সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির বর্ণনা দাও।

সক্রিয় সেনসর ও নিষ্ক্রিয় সেনসর বলতে কী বোঝো? সক্রিয় সেনসর ও নিষ্ক্রিয় সেনসরের মধ্যে পার্থক্য করো।

সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সেনসর বলতে কী বোঝো? সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সেনসরের মধ্যে পার্থক্য

জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহ কী? জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহ কী? জিওস্টেশনারি ও সান-সিনক্রোনাস উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য

About The Author

Rahul

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

থ্যালাসেমিয়া কাকে বলে? প্রকারভেদ ও উপসর্গ

অসুস্থ ভ্রূণ যাতে না জন্মায় তার জন্য জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

জেনেটিক কাউন্সেলিং কাকে বলে? বংশগত রোগ প্রতিরোধে এর ভূমিকা | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

বর্ণান্ধতার কারণ ও লক্ষণ (বংশগতি ও জিনগত রোগ) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ ও প্রকারভেদ (α ও β থ্যালাসেমিয়া) – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান