এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাত কাকে বলে? ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাত কাকে বলে? ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল – বায়ুর চাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাত কাকে বলে?
ঘূর্ণবাত –
উষ্ণতা বৃদ্ধি বা অন্যান্য কারণে কোনো স্বল্প পরিসর স্থানে হঠাৎ বায়ুচাপ কমে গেলে সেই অঞ্চলের বায়ু ঊর্ধ্বগামী হয় এবং চাপের সমতা রক্ষার জন্য পার্শ্ববর্তী উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু চক্রাকারে নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে পর্যায়ক্রমে প্রবেশ করে এবং তা উষ্ণ ও হালকা হয়ে কুন্ডলী পাকিয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়। এরূপ নিম্নচাপবিশিষ্ট কেন্দ্রমুখী ঊর্ধ্বগামী প্রবল বায়ুপ্রবাহ কে ঘূর্ণবাত বলে। ইংরাজিতে CYCLONE শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে গ্রিক শব্দ`KUKLOS’ থেকে যার অর্থ বৃত্তাকারে ঘোরা বা সাপের কুন্ডলীর মতো বেষ্টন করা। হেনরি পিডিংটন 1848 সালে CYCLONE শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন।
প্রতীপ ঘূর্ণবাত –
নাতিশীতোষ্ণ ও হিমমন্ডলে উচ্চচাপ কেন্দ্রকে ঘিরে কেন্দ্রবহির্মুখী ও অধোগামী ধীর গতি সম্পন্ন শীতল ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহকে প্রতীপ ঘূর্ণবাত বলে। অর্থাৎ ঘূর্ণবাতের বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত ঘূর্ণায়মান বায়ুপ্রবাহকে প্রতীপ ঘূর্ণবাত বলে। স্যার ফ্রান্সিস গল্টন 1861 সালে প্রথম ‘Anticyclone’ শব্দটি ব্যবহার করেন, যার অর্থ ঘূর্ণবাতের বিপরীত।
ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | ঘূর্ণবাত | প্রতীপ ঘূর্ণবাত |
| অবস্থান | নিম্ন ও মধ্য অক্ষাংশের উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলে সৃষ্টি হয়। | মধ্য ও উচ্চ অক্ষাংশের নাতিশীতোষ্ণ ও হিমমণ্ডলে সৃষ্টি হয়। |
| বায়ুর চাপ | কেন্দ্রে বায়ুচাপ কম অর্থাৎ নিম্নচাপ ও কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে বায়ুচাপ বেশি অর্থাৎ উচ্চচাপ বিরাজ করে। | এক্ষেত্রে কেন্দ্রে বায়ুচাপ বেশি অর্থাৎ উচ্চচাপ ও কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে বায়ুচাপ কম অর্থাৎ নিম্নচাপ বিরাজ করে। |
| বায়ুপ্রবাহের দিক | উত্তর গোলার্ধে বামাবর্তে ও দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণাবর্তে বায়ু প্রবাহিত হয়। | উত্তর গোলার্ধে দক্ষিণাবর্তে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বামাবর্তে বায়ু প্রবাহিত হয়। |
| বায়ুর প্রকৃতি | এক্ষেত্রে বায়ু কেন্দ্রমুখী উন্মু ও ঊর্ধ্বগামী হয়। | এক্ষেত্রে বায়ু কেন্দ্র বহির্মুখী, শীতল ও অধোগামী হয়। |
| বায়ুর গতিবেগ | মাঝারি থেকে তীব্র গতিসম্পন্ন (গড়ে 160 কিমি/ঘণ্টা)। | ধীর গতিসম্পন্ন (গড়ে 30-50 কিমি/ ঘণ্টা)। |
| স্থায়িত্ব | ঘূর্ণবাত স্বল্পস্থায়ী। | প্রতীপ ঘূর্ণবাত দীর্ঘস্থায়ী। |
| আবহাওয়া | ঝটিকাসংকুল, গ্রীষ্মে বৃষ্টিপাত, শীতকালে তুষারপাত, উষ্ণ ঋতুতে বজ্রঝঞ্ঝা দেখা যায়। | শান্ত মেঘমুক্ত আকাশ, শীতকালে ঘন কুয়াশা ও তুহিন পড়ে। |
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাত কাকে বলে? ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাত কাকে বলে? ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় “বায়ুমণ্ডল – বায়ুর চাপ বলয় ও বায়ুপ্রবাহ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। । ধন্যবাদ।





Leave a Comment