এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘3R’ -এর ভূমিকা বর্ণনা করো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘3R’ -এর ভূমিকা বর্ণনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের চতুর্থ অধ্যায় “বর্জ্য ব্যবস্থাপনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘3R’ -এর ভূমিকা বর্ণনা করো।
অথবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ধারণাটি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
বর্জ্য পদার্থ সৃষ্টি এবং বৃদ্ধির মূল কারণ মানুষের আর্থসামাজিক চাহিদা পূরণ। তাই বর্জ্য পদার্থ পরিবেশকে মারাত্মক হারে দূষিত করে চলেছে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বর্জ্য পদার্থ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী তার গরিমা হারাচ্ছে। তাই সারা পৃথিবী জুড়ে নিরন্তর গবেষণা চলছে কী করে বর্জ্য মুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলা যায়। কিন্তু দ্রুতহারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের ভোগের আকাঙ্ক্ষা, সচেতনতার অভাব ইত্যাদি কারণে বর্জ্য পদার্থ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। মানব সভ্যতার ভয়ানক সংকট মোচনের তাগিদেই গড়ে ওঠে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা Waste management ধারণা। অর্থাৎ, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থ রোধ বা কম করার পন্থা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মূলত তিনটি ‘R’ (Reduction, Reuse, Recycle) বা ‘3R’ নামক স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। যথা –
বর্জ্যের পরিমাণগত হ্রাস (Reduction) –
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রথম স্তম্ভ হল বর্জ্যের পরিমাণকে হ্রাস করা। যেমন –
- বর্তমানে আমাদের জীবনযাত্রায় (Life style) রেডিমেড দ্রব্যের ব্যবহার বেশি। এই অভ্যাসকে বদলের জন্য মানুষকে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীরা use and throw pen বেশি ব্যবহার করে। পরিবর্তে Refeeling বা Fountain Pen ব্যবহার করলে প্লাস্টিকের বর্জ্যের পরিমাণ কমানো যাবে।
- শিল্প উৎপাদনকারীরা প্লাস্টিক বা মোড়কের পরিবর্তে পুনর্ব্যবহারযোগ্য মোড়ক ব্যবহার করলে বর্জ্যের পরিমাণ কমানো যাবে।
- নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রব্যের ব্যবহার ইত্যাদির মাধ্যমে বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস করা সম্ভব।
বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার (Reuse) –
কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বর্জ্য পদার্থের ব্যবহার করা হলে তাকে পুনর্ব্যবহার বলে। যেমন –
- কঠিন বর্জ্য সমূহের মধ্য থেকে পৃথকৃত কাচকে অ্যাসফল্টের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- অপ্রয়োজনীয় কিন্তু ব্যবহারযোগ্য আসবাবপত্রগুলিকে দান করে দেওয়া।
- মার্জারিন বা অন্য খাদ্য দ্রব্যের কৌটো বা পাত্রকে পেরেক বা রং পেন্সিল রাখার পাত্র হিসেবে ব্যবহার।
- বর্জ্য কাগজ, ধাতু, প্লাস্টিক, কাচ, কাপড় ইত্যাদি দিয়ে কারুশিল্পের (craft) বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা যায়। এইভাবে বর্জ্য পদার্থের পুনর্ব্যবহার করে পৃথিবীকে অনেকটাই সুস্থ রাখা সম্ভব।
বর্জ্যের পুনর্নবীকরণ (Waste Recycling) –
ব্যবহারের অনুপযুক্ত পদার্থকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তোলাকে পুনর্নবীকরণ বলে। বর্জ্য কাগজ, প্লাস্টিক, কাচ, অ্যালুমিনিয়াম ও অন্যান্য ধাতব পদার্থের পুনর্নবীকরণ করা সম্ভব। যেমন –
- প্লাস্টিক ভস্মীভূত (Incinerated) করলে সেই তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
- বর্জ্য প্লাস্টিক থেকে সিন্থেটিক তেল পাওয়া যায়।
- বর্জ্য কাগজ, কাপড়, তুলো দিয়ে কাগজের মন্ড বা কাগজ প্রস্তুত করা যায়।
- ফ্লাইঅ্যাশ দিয়ে ইট, সিমেন্ট তৈরি করা হয়।
- আখের ছিবড়া দিয়ে কাগজের মণ্ড, বিকল্প তন্তু, ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
- বর্জ্য ধাতু গলিয়ে নতুন ধাতু প্রস্তুত করা যায়।
- বর্জ্য কাচ দিয়ে নতুন কাচের বোতল বা পাত্র বা জিনিস তৈরি করা যায়। অর্থাৎ বর্জ্যের পুনর্নবীকরণ করলে সম্পদের সাশ্রয় হয়, বর্জ্য পদার্থের ভার লাঘব করা সম্ভব হয় এবং পরিবেশ অনেকটাই দূষণমুক্ত হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘3R’ -এর ভূমিকা বর্ণনা করো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘3R’ -এর ভূমিকা বর্ণনা করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের চতুর্থ অধ্যায় “বর্জ্য ব্যবস্থাপনা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। । ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন