এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভিদের তারতম্য দেখা যায় কেন?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভিদের তারতম্য দেখা যায় কেন?
অথবা, হিমালয়ের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে স্বাভাবিক উদ্ভিদের প্রকৃতির পরিবর্তন উদাহরণসহ লেখো।
হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভিদের তারতম্যের কারণ –
হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টিপাতের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। অর্থাৎ, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরের দিকে যাওয়া যায় তত জলবায়ুর তারতম্য পরিলক্ষিত হয় এবং ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতায় ভিন্ন ভিন্ন গাছপালা জন্মায়। উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় উষ্ণতার পাশাপাশি বায়ুর চাপও হ্রাস পেতে থাকে। এর ফলে আর্দ্রতারও পার্থক্য হয়। হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চতা ভেদে উষ্ণতা ও আর্দ্রতার পার্থক্যের জন্য যে ধরনের অরণ্যের পার্থক্য লক্ষ করা যায়, সেগুলি হল –
ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য –
পশ্চিম হিমালয়ে (900 মিটার উচ্চতা) এবং পূর্ব হিমালয়ে (1,200 মিটার উচ্চতা) বাঁশ, সেগুন, শাল, শিশু প্রভৃতি ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য দেখা যায়।
নাতিশীতোষ্ণ চিরহরিৎ অরণ্য –
পশ্চিম হিমালয়ে (900 মিটার থেকে 1800 মিটার উচ্চতা) এবং পূর্ব হিমালয়ে (1200 মিটার থেকে 2400 মিটার উচ্চতায় ওক, ম্যাপল, লরেল, ম্যাগনোলিয়া প্রভৃতি নাতিশীতোষ্ণ চিরহরিৎ অরণ্য দেখা যায়।
সরলবর্গীয় বৃক্ষের অরণ্য –
পশ্চিম হিমালয়ে (1800 মিটার থেকে 3000 মিটার উচ্চতা) এবং পূর্ব হিমালয়ে (2400 মিটার থেকে 3600 মিটার উচ্চতা) পাইন, দেবদারু, স্প্রুস, বার্চ প্রভৃতি সরলবর্গীয় শ্রেণির বৃক্ষ জন্মায়।
আল্পীয় উদ্ভিদ –
পশ্চিম হিমালয়ে (3000 মিটার থেকে 4000 মিটার উচ্চতা) এবং পূর্ব হিমালয়ে (3600 মিটার থেকে 5000 মিটার উচ্চতা) রডোডেনড্রন, জুনিপার, বার্চ, নানারকম তৃণ প্রভৃতি আল্পীয় শ্রেণির উদ্ভিদ জন্মায়। আল্পীয় শ্রেণির উদ্ভিদের ওপর চিরতুষারাবৃত অংশে আর কোনো বৃক্ষ জন্মায় না।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে উদ্ভিদের পরিবর্তন কেন হয়?
উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা, বায়ুর চাপ, আর্দ্রতা এবং মাটির গঠন পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন উচ্চতায় বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ জন্মায়।
হিমালয়ে উচ্চতা অনুযায়ী কী ধরনের বনাঞ্চল দেখা যায়?
1. ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য (900-1200 মিটার) – শাল, সেগুন, বাঁশ, শিশু।
2. নাতিশীতোষ্ণ চিরহরিৎ অরণ্য (1200-2400 মিটার) – ওক, ম্যাপল, লরেল, ম্যাগনোলিয়া।
3. সরলবর্গীয় অরণ্য (2400-3600 মিটার) – পাইন, দেবদারু, স্প্রুস, বার্চ।
4. আল্পীয় তৃণভূমি (3600-5000 মিটার) – রডোডেনড্রন, জুনিপার, ছোটো গুল্ম ও ঘাস।
5. তুষারাবৃত অঞ্চল (5000 মিটারের ওপরে) – কোনো গাছপালা জন্মায় না।
উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে তাপমাত্রা কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
1000 মিটার উচ্চতায় গড়ে 6.5°C তাপমাত্রা কমে যায়। এজন্য উচ্চতায় গাছপালার প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়।
হিমালয়ের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে উদ্ভিদের তারতম্য কেন?
পূর্ব হিমালয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়, তাই এখানে ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ অরণ্য বেশি দেখা যায়। পশ্চিম হিমালয়ে তুলনামূলক শুষ্কতা বেশি, তাই এখানে সরলবর্গীয় গাছ বেশি দেখা যায়।
আল্পীয় অঞ্চলে গাছপালা কম থাকে কেন?
উচ্চতায় তাপমাত্রা খুব কম, বায়ুর চাপ কম এবং মাটি অনুর্বর হওয়ায় শুধুমাত্র ছোটো গুল্ম, ঘাস ও মস জন্মায়।
হিমালয়ের উদ্ভিদ বৈচিত্র্য পৃথিবীর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
হিমালয়ের বনাঞ্চল জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, মাটি সংরক্ষণ এবং বহু বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে।
উচ্চতা অনুযায়ী গাছের পাতা ও কাণ্ডের পরিবর্তন কেন হয়?
1. নিচু অঞ্চলে পাতার আকার বড় (আর্দ্রতা শোষণের জন্য)।
2. উচ্চ অঞ্চলে পাতাগুলো ছোট ও শক্ত (জলীয় বাষ্প কমাতে)।
3. সরলবর্গীয় গাছের সূচালো পাতা ঠান্ডা ও তুষার থেকে রক্ষা করে।
হিমালয়ের উদ্ভিদ বৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণ কী?
বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, পর্যটন ও অপরিকল্পিত নির্মাণ হিমালয়ের উদ্ভিদের জন্য হুমকি।
হিমালয়ের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য উদাহরণসহ লেখো।
1. শাল – পর্ণমোচী, শক্ত কাঠ।
2. দেবদারু – সরলবর্গীয়, সুগন্ধি কাঠ।
3. রডোডেনড্রন – আল্পীয় অঞ্চলের ফুলগাছ।
হিমালয়ের উদ্ভিদ বৈচিত্র্য রক্ষায় কী করা উচিত?
বন সংরক্ষণ, টেকসই কৃষি, পুনর্বনায়ন এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভিদের তারতম্য দেখা যায় কেন?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।
মন্তব্য করুন