এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “রবিশস্য, জায়িদ শস্য ও খারিফ শস্য বলতে কী বোঝো? রবিশস্য, জায়িদ শস্য ও খারিফ শস্যের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের কৃষি” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রবিশস্য, জায়িদ শস্য ও খারিফ শস্য বলতে কী বোঝো?
রবিশস্য –
মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে শীতকালে প্রধানত জলসেচের ওপর নির্ভর করে যে ফসল উৎপাদন করা হয়, তাকে রবিশস্য বলে। যেমন – শীতকালে ভারতে গম চাষ।
জায়িদ শস্য –
শীতের শেষে ও গ্রীষ্মের শুরুতে যে ফসল চাষ করা হয় এবং বর্ষার পূর্বে ফসল কাটা হয়, তাকে জায়িদ শস্য বলে। যেমন – তরমুজ, শশা প্রভৃতি।
খারিফ শস্য –
যে কৃষিকাজে গ্রীষ্মকাল থেকে শরৎকালের মধ্যে বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে ফসল ফলানো হয়, তাকে খারিফ শস্য বলে। যেমন – বর্ষা ঋতুতে আমন ধানের চাষ।
রবিশস্য, জায়িদ শস্য ও খারিফ শস্যের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
রবিশস্য, জায়িদ শস্য ও খারিফ শস্যের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ –
বিষয় | রবিশস্য | জায়িদ শস্য | খারিফ শস্য |
ধারণা | শীতকালে বা মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাগমনের সময় যে ফসল চাষ করা হয় তাকে রবিশস্য বলে। | গ্রীষ্মকালে (বর্ষার আগমনের পূর্বে যে ফসল চাষ করা হয় তাকে বলে জায়িদ শস্য। | বর্ষাকালে বা মৌসুমিবায়ুর আগমনের সঙ্গে যে ফসল চাষ করা হয় তাকে খারিফ শস্য বলে। |
রোপণের সময় | শীতের শুরুতে (অক্টোবর-নভেম্বর মাসে) রোপণ করা হয়। | শীতের শেষে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে) রোপণ করা হয়। | বর্ষার শুরুতে (জুন-জুলাই মাসে) রোপণ করা হয়। |
ফসল কাটার সময় | বসন্তকালে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে) ফসল তোলা হয়। | বর্ষার পূর্বে (মে-জুন মাসে) ফসল তোলা হয়। | শীতের শুরু (নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে) ফসল তোলা হয়। |
আবহাওয়ার প্রকৃতি | শীতল রৌদ্রপূর্ণ আবহাওয়ায় ফসল চাষ হয়। | উষ্ণ-শুষ্ক আবহাওয়ায় ফসল চাষ হয়। | উষ্ণ-আর্দ্র আবহাওয়ার ফসল চাষ হয়। |
বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীলতা | রবিশস্য চাষ পশ্চিমি ঝঞ্ঝার বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। | জায়িদ শস্য চাষ কালবৈশাখীর বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। | খারিফ শস্য চাষ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সংঘটিত বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। |
জলসেচের প্রয়োজনীয়তা | রবিশস্য চাষে জলসেচের প্রয়োজন হয়। | জায়িদ শস্যের চাষ জলসেচের ওপর আংশিক নির্ভরশীল। | খারিফ শস্যের চাষ জলসেচের ওপর নির্ভর নয়। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
রবিশস্য কী?
শীতকালে (অক্টোবর-নভেম্বর মাসে) মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে জলসেচের সাহায্যে যে ফসল উৎপাদন করা হয়, তাকে রবিশস্য বলে। যেমন — গম, সরষে, আলু, মটর ইত্যাদি।
জায়িদ শস্য কাকে বলে?
শীতের শেষে ও গ্রীষ্মের শুরুতে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে) কালবৈশাখী বৃষ্টি বা জলসেচের মাধ্যমে যে ফসল চাষ করা হয় এবং বর্ষার আগে (মে-জুন মাসে) তা কাটা হয়, তাকে জায়িদ শস্য বলে। যেমন — তরমুজ, শসা, ভুট্টা ইত্যাদি।
খারিফ শস্য কী?
গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে (জুন-জুলাই মাসে) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে যে ফসল উৎপাদন করা হয়, তাকে খারিফ শস্য বলে। যেমন — আমন ধান, পাট, তুলা ইত্যাদি।
জায়িদ শস্য চাষে জলসেচের প্রয়োজন হয় কেন?
জায়িদ শস্য চাষ শীতের শেষে ও গ্রীষ্মের শুরুতে হয়, যখন প্রাকৃতিক বৃষ্টিপাত কম থাকে। তাই কালবৈশাখী বৃষ্টি বা জলসেচের মাধ্যমে এই ফসলের চাষ করা হয়।
কোন শস্য চাষে বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয় না?
রবিশস্য চাষে বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয় না, কারণ এটি শীতকালে জলসেচের মাধ্যমে চাষ করা হয়।
খারিফ শস্যের চাষ কোন বায়ুর প্রভাবে হয়?
খারিফ শস্যের চাষ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “রবিশস্য, জায়িদ শস্য ও খারিফ শস্য বলতে কী বোঝো? রবিশস্য, জায়িদ শস্য ও খারিফ শস্যের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের কৃষি” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।
মন্তব্য করুন