এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সড়কপথের গুরুত্ব আলোচনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সড়কপথের গুরুত্ব আলোচনা করো।
অথবা, ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতিতে সড়কপথের গুরুত্ব লেখো।
সড়কপথের গুরুত্ব –
সড়কপথের দৈর্ঘ্যের বিচারে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান পৃথিবীতে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী এবং ভারত তৃতীয় স্থানের অধিকারী। তবে সড়কপথের ঘনত্বের বিচারে জাপান পৃথিবীতে প্রথম স্থান অধিকার করে। তবে কোনো দেশের পরিবহণ ব্যবস্থার গুরুত্ব কতখানি তা সে দেশের সড়কপথের ঘনত্ব থেকে বোঝা যায়, দৈর্ঘ্য থেকে নয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সড়কপথের গুরুত্বগুলি উল্লেখ করা হল –
- আরামদায়ক পরিবহণ মাধ্যম – সড়কপথে হেঁটে, গোরুর গাড়ি ও মোটরগাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করা যায় এবং প্রয়োজনে যে-কোনো জায়গায় ওঠা-নামা করা যায়।
- অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে স্বল্প দূরত্বে পরিবহণ – স্বল্প দূরত্বে পরিবহণের জন্য সড়কপথ বিশেষ উপযোগী। নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বণ্টন এবং উৎপন্ন কৃষি দ্রব্য সরাসরি বিক্রয়কেন্দ্রে পাঠানো বা রপ্তানির উদ্দেশ্যে সড়কপথ বেশি ব্যবহৃত হয়।
- দুর্গম অঞ্চলের উন্নতিসাধন – দেশের দুর্গম অঞ্চলগুলিতে যেখানে রেলপথ, জলপথ অথবা বিমানপথে যাতায়াত করা সম্ভব হয় না, সেখানে সড়কপথই পরিবহণের একমাত্র মাধ্যম।
- কৃষিজ পণ্য পরিবহণ – হালকা অথবা পচনশীল দ্রব্য কম দূরত্বে দ্রুত পরিবহণের জন্য সড়কপথ সর্বাপেক্ষা উপযোগী। সড়কপথে পণ্য সামগ্রীর ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক ভাবে কম হয়।
- ত্রাণকার্য – দেশের বিভিন্ন স্থানে মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণকার্যের জন্য সড়কপথের সুবিধা অন্যান্য পরিবহণ ব্যবস্থার চেয়ে বেশি।
- কর্মসংস্থান – কর্মসংস্থানে ও দেশের প্রতিরক্ষার্থে সড়ক পরিবহণের গুরুত্ব অপরিসীম। দুর্গম অঞ্চলে অস্ত্রসামগ্রী ও সৈন্যরসদ পরিবহণে সড়কপথ বিশেষ উপযোগী।
- সময়ের পরিবর্তনশীলতা – সড়কপথে প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন চলাচলে সময়সূচির পরিবর্তন ঘটানো যায়। সড়কপথে যে-কোনো সময়ে লরি বা ট্রাকে পণ্যদ্রব্য পরিবহণ করা যায়। রেলের মতো সময়সূচি নির্দিষ্ট নয়।
- কর বা শুল্ক – সড়কপথ পরিবহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর বা শুল্ক ধার্যের মাধ্যমে দেশের আয় যথেষ্ট বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।
- গ্রামীণ উন্নয়ন – ভারতের 70% মানুষ গ্রামে বসবাস করে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এখনও রেলপথ পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। সেইসব স্থানে বিদ্যালয়, কলেজ, হাসপাতাল, বাজারে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সড়কপথে পরিবহণ। যেমন – গোরুর গাড়ি, বিদুৎচালিত ছোটো গাড়ি, মোটর ভ্যান, বাস প্রভৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়।

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “সড়কপথের গুরুত্ব আলোচনা করো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। । ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন