এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর অন্তর্গত ‘পুষ্টি’ অংশের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

স্বভোজী পুষ্টি (Autotrophic Nutrition) ও পরভোজী পুষ্টির (Heterotrophic Nutrition) মধ্যে পার্থক্য লেখো।
স্বভোজী পুষ্টি (Autotrophic Nutrition) ও পরভোজী পুষ্টির (Heterotrophic Nutrition) মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | স্বভোজী পুষ্টি | পরভোজী পুষ্টি |
| প্রকৃতি | জীবের নিজ দেহে সংশ্লেষিত খাদ্য থেকে পুষ্টি লাভ। | অন্য কোনো জীব থেকে গৃহীত খাদ্য দ্বারা পুষ্টি লাভ। |
| পুষ্টি উপাদান | প্রধানত তরল ও গ্যাসীয় অজৈব যৌগ। | প্রধানত কঠিন, তরল ও জটিল, অদ্রবণীয় খাদ্য। |
| পুষ্টি পর্যায় | দুটি। যথা – সংশ্লেষ ও আত্তীকরণ। | পাঁচটি। যথা – খাদ্যগ্রহণ, পরিপাক, শোষণ, আত্তীকরণ ও বহিষ্করণ। |
| প্রকারভেদ | সালোকসংশ্লেষকারী ও রাসায়নিক সংশ্লেষকারী। | মৃতজীবী, পরজীবী, মিথোজীবী, পতঙ্গভুক, মলভুক, রক্তভুক প্রভৃতি। |
| সংঘটন স্থান | সমস্ত সবুজ উদ্ভিদ, সালোকসংশ্লেষকারী ও রাসায়নিকসংশ্লেষকারী ব্যাকটেরিয়া, ইউগ্লিনা, ক্রাইস্যামিবা প্রভৃতি দেহে ঘটে। | সমস্ত পরভোজী প্রাণীর দেহে ঘটে। |
উদ্ভিদ পুষ্টি (Plant Nutrition) ও প্রাণী পুষ্টির (Animal Nutrition) মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।
উদ্ভিদ পুষ্টি (Plant Nutrition) ও প্রাণী পুষ্টির (Animal Nutrition) মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | উদ্ভিদ পুষ্টি | প্রাণী পুষ্টি |
| পুষ্টি প্রকৃতি | স্বভোজী বা হোলোফাইটিক। | পরভোজী বা হোলোজোয়িক। |
| পুষ্টি পর্যায় | দুটি – সংশ্লেষ ও আত্তীকরণ। | পাঁচটি – খাদ্যগ্রহণ, পরিপাক, শোষণ, আত্তীকরণ ও বহিষ্করণ। |
| পুষ্টি উপাদান | পরিবেশ থেকে অজৈব যৌগ গৃহীত হয়। | পরিবেশ থেকে খাদ্য গৃহীত হয়। |
মৃতজীবী (Saprophyte) ও মিথোজীবী (Symbiont) জীবের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
মৃতজীবী (Saprophyte) ও মিথোজীবী (Symbiont) জীবের মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | মৃতজীবী জীব | মিথোজীবী জীব |
| খাদ্য উপাদানের উৎস | মৃত, পচা-গলা জৈববস্তু। | পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল দুটি ভিন্ন প্রজাতিভুক্ত জীব। |
| নির্ভরশীলতা | মৃত জৈববস্তু থেকে পুষ্টি পদার্থ সংগ্রহ করে এবং অন্য কারোর ওপর নির্ভর করে না। | সহাবস্থানে থাকা দুটি জীবই পুষ্টির জন্য পরস্পরকে সাহায্য করে, অর্থাৎ, উভয়েই উভয়ের ওপর নির্ভরশীল থাকে। |
| খাদ্য সংশ্লেষ | অক্ষম। | আংশিক সক্ষম। |
| উদাহরণ | ছত্রাক, মনোসিস্টিস প্রভৃতি। | লাইকেন, রাইজোবিয়াম ও শিম্বিগোত্রীয় উদ্ভিদের মূল এবং উইপোকা ও ট্রাইকোনিম্ফ। |
পরজীবী (Parasite) ও মিথোজীবীর (Symbiont) মধ্যে পার্থক্য লেখো।
পরজীবী (Parasite) ও মিথোজীবীর (Symbiont) মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | পরজীবী | মিথোজীবী |
| খাদ্যের উৎস | আশ্রয়দাতা বা পোষকদেহ থেকে সংগ্রহ করে। | পুষ্টির জন্য পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। |
| খাদ্যের প্রকৃতি | পোষকদেহ থেকে সরল ও তরল আকারে খাদ্য শোষণ করে। | সরল বা কঠিন, জটিল ও অদ্রবণীয় আকারে খাদ্য গৃহীত হয়। |
| নির্ভরশীলতা | পোষকের ক্ষতি হয়। | উভয়েই উপকৃত হয়। |
| উদ্ভিদ উদাহরণ | স্বর্ণলতা পরজীবী উদ্ভিদ অন্য পোষক উদ্ভিদকে পেঁচিয়ে থাকে এবং পুষ্টিরস শোষণ করে বেঁচে থাকে। ফলে পোষক উদ্ভিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। র্যাফ্লেসিয়া যে উদ্ভিদের উপর জন্মায় তা থেকে মূলের দ্বারা পুষ্টিরস শোষণ করে। | শৈবাল ও ছত্রাকের পারস্পরিক সহযোগীতায় মিথোজীবী রূপে লাইকেন গড়ে ওঠে। এক্ষেত্রে শৈবাল সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায়। খাদ্য তৈরি করে এবং ছত্রাক জীবদেহ গঠন করে ও শৈবালকে খনিজ পদার্থ ও জল সরবরাহ করে। |
| প্রাণী উদাহরণ | উকুন, গোলকৃমি প্রভৃতি প্রাণী মানুষের শরীরে বাসা বাঁধে এবং পোষক দেহ থেকে পুষ্টিরস শোষণ করে পুষ্টি সংগ্রহ করে ও পোষক দেহের ক্ষতিসাধন করে। | 1. উইপোকা ও ট্রাইকোনিম্ফ -এর মিথোজীবী সম্পর্ক দেখা যায়। উইপোকা যে সেলুলোজ সমৃদ্ধ খাবার খায় তা হজম করতে সাহায্য করে ট্রাইকোনিম্ফ -এর দেহ মধ্যস্থ উৎসেচক। এর ফলে উভয়ই পুষ্টি সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। 2. মানুষের দেহে ই.কোলাই ব্যাকটেরিয়ার মিথোজীবী সম্পর্ক দেখা যায়। মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রে ই.কোলাই ভিটামিন B₁₂ সংশ্লেষে সাহায্য করে এবং ব্যাকটেরিয়া পোষকদেহ থেকে পুষ্টিরস শোষণ করে। |
হোলোফাইটিক (Holophytic) ও হোলোজোয়িক (Holozoic) পুষ্টির মধ্যে পার্থক্য লেখো।
হোলোফাইটিক (Holophytic) ও হোলোজোয়িক (Holozoic) পুষ্টির মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | হোলোফাইটিক পুষ্টি | হোলোজোয়িক পুষ্টি |
| গৃহীত পরিপোষক | প্রধানত সরল, তরল এবং অজৈব যৌগ। | প্রধানত জটিল, কঠিন ও জৈবযৌগ। |
| সংঘটনস্থল | সবুজ উদ্ভিদদেহ। | প্রাণীদেহ। |
| পুষ্টির ধাপ | দুটি সংশ্লেষ ও আত্তীকরণ। | পাঁচটি, যথা – খাদ্যগ্রহণ, পরিপাক, শোষণ, আত্তীকরণ ও অপাচ্য খাদ্যের বহিষ্করণ। |
পরিপাক (Digestion) ও বিপাকের (Metabolism) মধ্যে পার্থক্য লেখো।
পরিপাক (Digestion) ও বিপাকের (Metabolism) মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | পরিপাক | বিপাক |
| সংজ্ঞা | যে প্রক্রিয়ায় কঠিন, জটিল ও অদ্রবণীয় খাদ্যবস্তু বিশ্লিষ্ট হয়ে সরল ও শোষণোপযোগী খাদ্যবস্তুতে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক বলে। | জীবের স্বাভাবিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য প্রোটোপ্লাজমে যে সমস্ত গঠনমূলক ও ভাঙনমূলক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাদের মিলিতভাবে বিপাক বলে। |
| প্রকারভেদ | দু ধরনের পরিপাক ঘটে। যথা – অন্তঃকোশীয় পরিপাক ও বহিঃকোশীয় পরিপাক। | দু ধরনের বিপাক ঘটে। যথা – উপচিতি ও অপচিতি বিপাক। |
| সংঘটন স্থান | প্রাণীদেহে মুখবিবর, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক ক্রিয়া ঘটে। | কোশের প্রোটোপ্লাজমে বিপাক ক্রিয়া ঘটে। |
বহিঃকোশীয় পরিপাক (Extracellular digestion) ও অন্তঃকোশীয় পরিপাকের (Intracellular digestion) মধ্যে পার্থক্য লেখো।
বহিঃকোশীয় পরিপাক (Extracellular digestion) ও অন্তঃকোশীয় পরিপাকের (Intracellular digestion) মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | বহিঃকোশীয় পরিপাক | অন্তঃকোশীয় পরিপাক |
| পদ্ধতি | দেহকোশের বাইরে যে পরিপাকক্রিয়া ঘটে, তাকে বহিঃকোশীয় পরিপাক বলে। | দেহকোশের অভ্যন্তরে যে পরিপাকক্রিয়া ঘটে, তাকে অন্তঃকোশীয় পরিপাক বলে। |
| প্রকৃত স্থান | বহুকোশী প্রাণীর পৌষ্টিকনালির মধ্যে সংঘটিত হয়। | এককোশী প্রাণীদের দেহে সংঘটিত হয়। |
| উৎসেচক ক্রিয়া | পৌষ্টিকগ্রন্থি নিঃসৃত উৎসেচক পরিপাকক্রিয়ায় সাহায্য করে। | কোশস্থ খাদ্যগহ্বর নিঃসৃত উৎসেচক পরিপাকক্রিয়ায় সাহায্য করে। |
| উদাহরণ | হাইড্রা, কেঁচো, ব্যাং, মানুষ প্রভৃতির দেহে ঘটে। | অ্যামিবা, শ্বেত রক্তকণিকাতে ঘটে। |
উপচিতি বিপাক (Anabolism) ও অপচিতি বিপাকের (Catabolism) মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উপচিতি বিপাক (Anabolism) ও অপচিতি বিপাকের (Catabolism) মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | উপচিতি বিপাক | অপচিতি বিপাক |
| প্রকৃতি | গঠনমূলক বা সংশ্লেষমূলক। | ভাঙনমূলক বা ধ্বংসাত্মক। |
| প্রোটোপ্লাজমীয় অবস্থা | শুষ্ক ওজন বৃদ্ধি পায়। | শুষ্ক ওজন হ্রাস পায়। |
| পদ্ধতি | সরল খাদ্য উপাদান জটিল জৈব যৌগে পরিণত হয়। | জটিল বা সরল জৈব উপাদান অপেক্ষাকৃত সরলতর জৈব বা অজৈব উপাদানে বিশ্লিষ্ট হয়। |
| উদাহরণ | সালোকসংশ্লেষ, পুষ্টি প্রভৃতি। | শ্বসন, রেচন প্রভৃতি। |
অ্যামাইলোলাইটিক (Amylolytic), প্রোটিওলাইটিক (Proteolytic) ও লাইপোলাইটিক (Lipolytic) উৎসেচকের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করো।
অ্যামাইলোলাইটিক (Amylolytic), প্রোটিওলাইটিক (Proteolytic) ও লাইপোলাইটিক (Lipolytic) উৎসেচকের মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | অ্যামাইলোলাইটিক উৎসেচক | প্রোটিওলাইটিক উৎসেচক | লাইপোলাইটিক উৎসেচক |
| সাবস্ট্রেট | শর্করা জাতীয় খাদ্য। | প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। | ফ্যাট জাতীয় খাদ্য। |
| ক্ষরণ স্থান | লালাগ্রন্থি, অগ্ন্যাশয় ও আন্ত্রিকগ্রন্থি। | পাকগ্রন্থি, অগ্ন্যাশয়গ্রন্থি ও আন্ত্রিকগ্রন্থি। | পাকগ্রন্থি, অগ্ন্যাশয়গ্রন্থি ও আন্ত্রিকগ্রন্থি। |
| বিক্রিয়া শেষে উৎপন্ন পদার্থ | সরল শর্করা (গ্লুকোজ) উৎপন্ন করে। | অ্যামিনো অ্যাসিড উৎপন্ন করে। | ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল উৎপন্ন করে। |
| উদাহরণ | টায়ালিন, মলটেজ, সুক্রেজ প্রভৃতি। | পেপসিন, ট্রিপসিন, ইরেপসিন, রেনিন প্রভৃতি। | লাইপেজ। |
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় ‘জৈবনিক প্রক্রিয়া’ -এর অন্তর্গত ‘পুষ্টি’ অংশের পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন