এই আর্টিকলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় ‘জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ’ -এর গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করব। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) -এর সিলেবাস অনুযায়ী আসন্ন ইউনিট টেস্ট বা স্কুল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি।

অ্যান্টিজেন (Antigen) ও অ্যান্টিবডির (Antibody) বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন -এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।
অ্যান্টিজেন (Antigen) ও অ্যান্টিবডির (Antibody) বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন -এর মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | অ্যান্টিজেন | অ্যান্টিবডি/ইমিউনোগ্লোবিউলিন |
| উৎস | প্রাণীদেহের বাইরে থেকে বিজাতীয় বস্তুরূপে দেহে প্রবেশ করে। | প্রাণীদেহের অভ্যন্তরে অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে উৎপন্ন হয়। |
| রাসায়নিক প্রকৃতি | প্রধানত প্রোটিন, এ ছাড়া গ্লাইকোপ্রোটিন বা লাইপোপ্রোটিনও হতে পারে। | গামা-গ্লোবিউলিন জাতীয় প্লাজমা প্রোটিন। |
| অবস্থান | কোষপর্দা বা দেহতরল। | রক্তরস। |
| কার্যকরী স্থান | অ্যান্টিজেন নির্ধারক স্থানটি হল এপিটোপ। | অ্যান্টিজেন বাইন্ডিং স্থানটি হল প্যারাটোপ। |
| গুরুত্ব | অ্যান্টিবডি উৎপাদন ঘটায়। | নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে প্রশমিত বা ধ্বংস করে। |
সহজাত অনাক্রম্যতা (Innate Immunity) ও অর্জিত অনাক্রম্যতার (Acquired immunity) মধ্যে পার্থক্য লেখো।
সহজাত অনাক্রম্যতা (Innate Immunity) ও অর্জিত অনাক্রম্যতার (Acquired immunity) মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | সহজাত অনাক্রম্যতা | অর্জিত অনাক্রম্যতা |
| সক্রিয়তা | জন্মলগ্ন থেকেই সক্রিয় থাকে। | জন্মের পর বিশেষ অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে সক্রিয় হয়। |
| বংশগতি | মাতৃদেহ থেকে ভ্রূণের দেহে সঞ্চারিত হয়। | মাতৃদেহ থেকে ভ্রূণের দেহে সঞ্চারিত হয় না। |
| কার্যকারিতা | নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের সাপেক্ষে কাজ করে না। | নির্দিষ্ট জীবাণু বা অ্যান্টিজেনের সাপেক্ষে কাজ করে। |
| টিকাকরণ | টিকাকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। | টিকাকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। |
| অবস্থান | সমস্ত জীবের মধ্যে উপস্থিত থাকে। | কেবলমাত্র চোয়ালযুক্ত (ন্যাথোস্টোমাটা) মেরুদণ্ডী প্রাণীদের দেহে উপস্থিত থাকে। |
সক্রিয় অনাক্রম্যতা (Active Immunity) ও নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতার (Passive Immunity) মধ্যে পার্থক্য লেখো।
সক্রিয় অনাক্রম্যতা (Active Immunity) ও নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতার (Passive Immunity) মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | সক্রিয় অনাক্রম্যতা | নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা |
| উৎস | রোগাক্রান্ত ব্যক্তির বা প্রাণীর দেহে, ব্যক্তি বা প্রাণীর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। | রোগাক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর দেহে ব্যক্তি বা প্রাণীর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় না। |
| সক্রিয়তা | অ্যান্টিজেন বা রোগজীবাণুর উপস্থিতিতে অ্যান্টিবডি উৎপাদন হতে সময় লাগে। এ কারণে সক্রিয়তা লাভে অল্প সময় লাগে। | অন্য প্রাণীর দেহে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি সিরামরূপে রোগাক্রান্ত ব্যক্তির বা প্রাণীর দেহে ইনজেকশন করা হয় বলে দ্রুত সক্রিয়তা লাভ করে। |
| পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া | থাকে না। | কখনো-কখনো থাকে। |
| স্থায়িত্ব | দীর্ঘস্থায়ী। | স্বল্পস্থায়ী। |
কোশনির্ভর (Cell mediated) ও রসনির্ভর (Humoral) অনাক্রম্যতার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
কোশনির্ভর (Cell mediated) ও রসনির্ভর (Humoral) অনাক্রম্যতার মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | কোশনির্ভর অনাক্রম্যতা | রসনির্ভর অনাক্রম্যতা |
| উৎস | T-লিম্ফোসাইট প্রদান করে। | B-লিম্ফোসাইট প্রদান করে। |
| প্রকৃতি | বিশেষ কয়েকপ্রকার অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে এই প্রকার অনাক্রম্যতা দেখা যায়। | সাধারণত সমস্ত প্রকার অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে এই প্রকার অনাক্রম্যতা দেখা যায়। |
| মাধ্যম | প্রধানত কোশের মাধ্যমে ও কিছুটা রক্তের মাধ্যমে ঘটে। | এইরূপ অনাক্রম্যতা দেহরস, রক্তরস, লসিকা, কলারসের মাধ্যমে ঘটে। |
| কার্যকরী অংশ | T-লিম্ফোসাইট, ম্যাক্রোফাজ কোশ প্রভৃতি। | অ্যান্টিবডি। |
B-কোশ (B-Cell) ও T-কোশের (T-Cell) মধ্যে পার্থক্য লেখো।
B-কোশ (B-Cell) ও T-কোশের (T-Cell) মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | B-কোশ/B-লিম্ফোসাইট | T-কোশ/T-লিম্ফোসাইট |
| উৎপত্তিস্থল | অস্থিমজ্জা থেকে উৎপন্ন হয় ও পরিণতি লাভ করে। | অস্থিমজ্জা থেকে উৎপন্ন হয় এবং থাইমাস গ্রন্থিতে বেড়ে ওঠে। |
| প্রকারভেদ | দুপ্রকার। যথা – প্লাজমা কোশ ও স্মৃতি কোশ। | তিনপ্রকার। যথা – ইফেক্টর-T, হেল্পার-T ও সাপ্রেসর T। |
| কাজ | অ্যান্টিবডি উৎপাদনের মাধ্যমে রসনির্ভর অনাক্রম্যতা দান করে। | রোগজীবাণু আগ্রাসনের মাধ্যমে কোশ নির্ভর অনাক্রম্যতা দান করে। |
অ্যান্টিসেপটিক (Anticeptic) ও ডিসইনফেকট্যান্টের (Disinfectant) মধ্যে পার্থক্য লেখো।
অ্যান্টিসেপটিক (Anticeptic) ও ডিসইনফেকট্যান্টের (Disinfectant) মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | অ্যান্টিসেপটিক (পচন নিবারক) | ডিসইনফেকট্যান্ট (জীবাণুনাশক) |
| প্রকৃতি | মৃদু জীবাণু ধ্বংসকারী রাসায়নিক পদার্থ। | তীব্র জীবাণু ধ্বংসকারী রাসায়নিক পদার্থ। |
| প্রয়োগস্থল | দেহের বাইরে ত্বকে প্রয়োগ করা যায়। | কোনো জীবাণু দুষ্ট স্থানে প্রয়োগ করা হয়। |
| ক্ষতিকারক | দেহের পক্ষে ক্ষতিকারক নয়। | দেহের পক্ষে ক্ষতিকারক। |
| উপাদান | আয়োডিন, বেনজোয়িক অ্যাসিড, বোরিক অ্যাসিড প্রভৃতি। | ফেনল, লাইজল, 40% ফরম্যালিন, DDT, BHC প্রভৃতি। |
জৈবসার (Organic manure) ও অণুজীবসারের (Biofertilizer) মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।
জৈবসার (Organic manure) ও অণুজীবসারের (Biofertilizer) মধ্যে পার্থক্য –
| বিষয় | জৈবসার বা অর্গ্যানিক ম্যানিওর | অণুজীবসার বা বায়োফার্টিলাইজার |
| উপাদান | জীবের মৃতদেহ ও জীবজাত পদার্থ এবং জীবের বর্জ্য পদার্থ। | মাটিতে পরিপোষক বৃদ্ধিকারী বিভিন্ন আণুবীক্ষণিক জীব। |
| প্রকারভেদ | তিনপ্রকার। যথা – সবুজ সার, খামারজাত সার ও কম্পোস্ট সার। | তিনপ্রকার। যথা – ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক। |
| উর্বরতা সৃষ্টি | মাটিতে বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। | মাটিতে প্রধানত নাইট্রোজেন, ফসফেট, এ ছাড়া Ca, Fe, Mg, Zn -এর পরিমাণও বাড়িয়ে দেয়। |
| গুরুত্ব | মাটিতে জল ও বায়ুচলাচল বাড়ায় এবং মাটিকে উর্বর করে তোলে। | মাটিতে পরিপোষকের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং অল্প পরিমাণ প্রয়োগ করলেই বংশবিস্তারের মাধ্যমে এরা সমস্ত জমিতে প্রচুর সংখ্যায় জন্মায় এবং মাটিকে উর্বর করে তোলে। |
| ক্ষতিকারক প্রভাব | বেশি পরিমাণে প্রয়োগ করলে অনেকসময় মাটির গঠনগত বৈশিষ্ট্য বদলে দেয়। | এদের কোনো ক্ষতিকারক প্রভাব নেই। |
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় ‘জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ’ -এর পার্থক্যধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নগুলো নবম শ্রেণীর পরীক্ষা এবং যারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।





মন্তব্য করুন