অষ্টম শ্রেণি বাংলা – বনভোজনের ব্যাপার – অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের দ্বিতীয় পাঠের অন্তর্গত ‘বনভোজনের ব্যাপার’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

বনভোজনের ব্যাপার-অষ্টম শ্রেণী-বাংলা-অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
Contents Show

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো

1. ‘বনভোজনের ব্যাপার’ গল্পটির লেখক হলেন – (প্রেমেন্দ্র মিত্র / বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় / নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়)।

উত্তর – নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়।

2. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের আসল নাম ছিল – (তারাশঙ্কর / তারকনাথ / সুনন্দ)।

উত্তর – তারকনাথ।

3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় যে ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন তা হল – (সুনন্দ / পরশুরাম / বিরূপাক্ষ)।

উত্তর – সুনন্দ।

4. বনভোজনে পোলাও, ডিমের ডালনা, রুই মাছের কালিয়া, মাংসের কোর্মা হওয়ার কথা বলেছে – (টেনিদা / হাবুল সেন / ক্যাবলা)।

উত্তর – হাবুল সেন।

5. ‘পশ্চিমে কুঁদরুর তরকারি দিয়ে ঠেকুয়া খায়।’ কথাটি বলেছিল – (প্যালা / ক্যাবলা / হাবুল সেন)।

উত্তর – ক্যাবলা।

6. ‘ট্যাক-খালির জমিদার সব—তোদের নিয়ে ভদ্দরলোকে পিকনিক করে!’ কথাটি বলেছিল – (টেনিদা / হাবুল সেন / প্যালা)।

উত্তর – টেনিদা।

7. রাজহাঁসের ডিম আনার দায়িত্ব নিয়েছিল – (টেনিদা / ক্যাবলা / প্যালা)।

উত্তর – প্যালা।

8. ‘দু-আনার পাঁঠার ঘুগনি আর ডজনখানেক ফুলুরি সাবড়ে তবে মুখ খুলল।’ – কথাটি বলা হয়েছে – (ঘণ্টা-র / মন্টা-র / ভন্টা-র) প্রসঙ্গে।

উত্তর – ভন্টা-র প্রসঙ্গে।

9. ‘এনেছিস রাজহাঁসের ডিম?’ কথাটা বলেছিল – (হাবুল সেন / প্যালা / টেনিদা)।

উত্তর – টেনিদা।

10. ‘ডিমের ডালনার বারোটা বেজে গেল।’ – কথাটি বলেছিল – (টেনিদা / ক্যাবলা / হাবুল সেন)।

উত্তর – ক্যাবলা।

11. ‘এদিক-ওদিক তাকিয়ে টপ করে সেটা তুলে নিয়ে মুখে পুরে দিলাম।’ – বক্তা মুখে পুরে দেয় – (রসগোল্লা / লেডিকেনি / আমের আচার)।

উত্তর – আমের আচার।

12. ‘মাছের কালিয়ার তিনটে বেজে গেল।’ – কথাটি বলেছিল – (ক্যাবলা / টেনিদা / হাবুল সেন)।

উত্তর – ক্যাবলা।

13. খিচুড়ির লিস্ট থেকে নাম কাটা যায় – (টেনিদার / ক্যাবলার / প্যালার)।

উত্তর – প্যালার।


শূন্যস্থান পূরণ করো

1. তার চেয়ে বল-না ___, ___ আর ___ ঝোল!

উত্তর – হিঞ্চে সেদ্ধ, গাঁদাল আর শিঙি মাছের।

2. হাবুল সেন বললেন, আহা-হা ___ কেন?

উত্তর – চৈইত্যা যাইত্যাছ।

3. জুতসই লাগলে স্রেফ ___ উড়ে যাবে।

উত্তর – গালপাট্টা।

4. ভন্টা ঠোঁট বেঁকিয়ে বললে, নিজেরা ___ সাঁটাবেন আর আমার বেলায় ___!

উত্তর – পোলাও-মাংস, আইসক্রিম।

5. ___ টানে হাঁসের ___ থেকে হাত ছাড়িয়ে ___ দৌড় লাগালাম।

উত্তর – হ্যাঁচকা, ঠোঁট, চোঁচা।

6. ওই ___ ঘুগনি আর ___ শোধ তুলে ছাড়ব।

উত্তর – পাঁঠার, ফুলুরির।

7. ক্যাবলা আবার ___ করলে, ___ আচারের ___ বেজে গেল।

উত্তর – ঘোষণা, আমের, একটা।

8. ___ সাদা রসগোল্লাগুলো পাশের ___ খানায় গিয়ে পড়ে একেবারে ___ আচার।

উত্তর – ধবধবে, কাদাভরা, নেবুর।

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের কোন্ বিখ্যাত চরিত্রের সৃষ্টিকর্তা?

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যে ‘টেনিদা’ চরিত্রের সৃষ্টিকর্তা।

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় -এর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম লেখো।

তাঁর লেখা দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হল – ‘উপনিবেশ’ (তিনটি খণ্ড) ও ‘শিলালিপি’।

বনভোজনের উদ্যোগ কাদের মধ্যে দেখা গিয়েছিল?

প্রখ্যাত লেখক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বনভোজনের ব্যাপার’ গল্পে হাবুল সেন, টেনিদা, প্যালা ও ক্যাবলাকে বনভোজনের উদ্যোগ নিতে দেখা গিয়েছিল।

বনভোজনের জায়গা কোথায় ঠিক হয়েছিল?

শ্যামবাজার ইস্টিশান থেকে মার্টিন রেলে চড়ে বাগুইআটি ছাড়িয়ে আরো চারটে ইস্টিশান দূরে ক্যাবলার মামার একটা বাগানবাড়িতে বনভোজনের জায়গা ঠিক হয়েছিল।

বনভোজনের জায়গায় কীভাবে যাওয়া যাবে?

বনভোজনের উদ্যোগ নেওয়ার পর টেনিদার নেতৃত্বে হাবুল সেন, প্যালা ও ক্যাবলা শ্যামবাজার ইস্টিশান থেকে মার্টিন রেলে চড়ে যাত্রা শুরু করে। পিঁ করে বাঁশি বাজিয়ে গাড়ি ছাড়ে। তারপর ধ্বস-ধ্বস, ভোঁস-ভোঁস করে এর রান্নাঘর, ওর ভাঁড়ার ঘরের পাশ দিয়ে গাড়ি চলতে শুরু করে। বাগুইআটি ছাড়িয়ে চারটে ইস্টিশান দূরে সুপুরি ও নারকেল গাছসমৃদ্ধ পানাপুকুর বিশিষ্ট একটি বাগানবাড়িতে গিয়ে তারা পৌঁছোয়।

রাজহাঁসের ডিম আনার দায়িত্ব কে নিয়েছিল?

টেনিদার নেতৃত্বে হাবুল সেন, ক্যাবলা ও প্যালা মিলে যে বনভোজনের উদ্যোগ নেয়, তাতে প্যালা রাজহাঁসের ডিম আনার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বনভোজনের বেশিরভাগ সামগ্রী কারা সাবাড় করেছিল?

গল্পের পরিণতিতে দেখা যায়, কয়েকটা বানর বনভোজনের জন্য রেখে দেওয়া বেশিরভাগ সামগ্রী অর্থাৎ চাল-ডাল-আলু সাবাড় করেছিল।

কোন খাবারের কারণে বনভোজন ফলভোজনে পরিণত হল?

বনভোজনে গিয়ে নানা সমস্যার পর খিচুড়ি রান্নার দায়িত্ব পড়ে টেনিদার উপর। পরে সবাই ফিরে এসে দেখে টেনিদা একটা নারকেল গাছে হেলান দিয়ে ঘুমোচ্ছে আর কয়েকটা বানর চাল-ডাল মুখে পুরছে, এমনকি আলুগুলো সাবাড় করছে। ক্যাবলা, প্যালা ও হাবুল সেনের চিৎকারে বানরেরা চাল-ডাল-আলুর পুঁটলি নিয়ে কাঁঠাল গাছের মাথায় উঠে গেলে রান্নার দফারফা হয়। ক্ষুধার্ত সবাই তখন পাকা জলপাই খেয়ে ক্ষুধানিবৃত্তির ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয়। এইভাবে বনভোজন ফলভোজনে পরিণত হয়।

‘উস-উস শব্দে নোলার জল টানল টেনিদা….’ – টেনিদার এমন আচরণের কারণ কী?

হাবুল সেনের মুখে বনভোজনে পোলাও, ডিমের ডালনা, রুই মাছের কালিয়া, মাংসের কোর্মা ইত্যাদি খাবারের কথা শুনে টেনিদা লোভে নোলার জল টানল।

বনভোজনের আলোচনায় কে কে ছিল?

বনভোজনের আলোচনায় ছিল হাবুল সেন, প্যালা, ক্যাবলা ও সর্বাধিনায়ক টেনিদা।

টেনিদা তিড়িং করে লাফিয়ে উঠে কী বলেছিল?

টেনিদা তিড়িং করে লাফিয়ে উঠে বলেছিল – ‘কাঁচা লঙ্কা আর ছোলার ছাতু আরও ভালো লাগে না? তবে তাই খা-গে যা। তোদের মতো উল্লুকের সঙ্গে পিকনিকের আলোচনাও ঝকমারি।’

বনভোজনের প্রথম লিস্টে খাওয়ার কী কী পরিকল্পনা হয়?

বনভোজনের প্রথম লিস্টে খাওয়ার আয়োজন ছিল – বিরিয়ানি পোলাও, কোর্মা, কোপ্তা, কাবাব (দু-রকম) ও মাছের চপ।

বেশ ডাঁটের মাথায় কে কী বলেছিল?

বেশ ডাঁটের মাথায় প্যালা বলেছিল – ‘দূর-দূর। হাঁসের ডিম খায় ভদ্দরলোক! খেতে হলে রাজহাঁসের ডিম। রীতিমতো রাজকীয় খাওয়া!’

কে কীসের পর মুখ খুলেছিল?

ভন্টা দু-আনার পাঁঠার ঘুগনি আর ডজন খানেক ফুলুরি সাবাড় করে তবে মুখ খুলেছিল।

রাজহাঁসের বাক্সে কে হাত ঢোকায় এবং তার পরিণতি কী হয়?

রাজহাঁসের বাক্সে প্যালা হাত ঢোকায়। রাজহাঁস খটাং করে হাত কামড়ে ধরে। সে কী কামড়! হাঁই-মাই করে প্যালা চেঁচিয়ে ওঠে।

পরদিন সকালে শ্যামবাজার ইস্টিশানে পৌঁছে কী দেখা যায়?

পরদিন সকালে শ্যামবাজার ইস্টিশানে পৌঁছে প্যালা দেখতে পায়—টেনিদা, ক্যাবলা আর হাবুল মার্টিনের রেলগাড়িতে চেপে বসে আছে। সঙ্গে একরাশ হাঁড়ি-কলশি, চালের পুঁটলি ও তেলের ভাঁড়।

“পৌঁছোবার আগেই যে সাফ হয়ে যাবে?” – বক্তা কে? উত্তরে টেনিদা কী বলেছিল?

উদ্ধৃতাংশের বক্তা ক্যাবলা। উত্তরে টেনিদা বলে, ‘সাফ হবে কেন, দুটো-একটা চেখে দেখব শুধু। আমার বাবা ট্রেনে চাপলেই খিদে পায়। এই এক ঘণ্টা ধরে শুধু শুধু বসে থাকতে পারব না। বের কর হাঁড়ি-চটপট।’

‘ডিমের ডালনার বারোটা বেজে গেল।’ – বক্তা কে? এ কথা বলার কারণ কী?

উদ্ধৃতাংশের বক্তা ক্যাবলা। বনভোজনে যাওয়ার সময় ট্রেন থেকে কাঁচারাস্তায় নেমে একখানা রামআছাড় খায় হাবুল। সারা গায়ে কাদা মেখে সে উঠে দাঁড়ায়। হাতের ডিমের পুঁটলিটা তখন কুঁকড়ে এতটুকু—হলদে রস গড়াচ্ছে তা থেকে। ডিমগুলো সব ভেঙে গেছে জেনে বক্তা এ কথা বলেছিল।

‘মাছের কালিয়ার তিনটে বেজে গেল।’ – কে, কেন এমন ঘোষণা করেছিল?

ক্যাবলা আদালতের পেয়াদার মতো উচ্চকণ্ঠে উদ্ধৃত কথাটি ঘোষণা করে। প্যালা কাঁচা তেলে মাছ ঢেলে দেওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে কড়াই-ভরতি ফেনা। অতগুলো মাছ তালগোল পাকিয়ে যায় একসঙ্গে। এ মাছের কালিয়া নয়, একেবারে হালুয়া হয়ে যাওয়ায় ক্যাবলা উদ্ধৃত কথাটা মজা করে বলেছিল।

‘সেই মুহূর্তেই হাবুল সেনের আবিষ্কার।’ – হাবুল সেন কী আবিষ্কার করেছিল?

হাবুল সেন সেই মুহূর্তেই কলম্বাসের মতো আবিষ্কার করে যে, বাগানের একটা জলপাই গাছে জলপাই পেকে আছে, যা খিদের সময় অমৃততুল্য।

‘চোখের পলকে বানরগুলো কাঁঠাল গাছের মাথায়।’ – বানরগুলো গাছের মাথায় উঠে কী করে?

বনভোজনের জন্যে আনা চাল-ডাল-আলুর পুঁটলি নিয়ে কয়েকটা বানর কাঁঠাল গাছের মাথায় উঠে যায়। টেনিদা, ক্যাবলা, প্যালা ও হাবুলদের দেখিয়ে দেখিয়ে তরিবত করে খেতে থাকে—সেইসঙ্গে বিচ্ছিরি ভেংচি দেখায়।

‘টেনিদা আর বলতে দিলে না!’ – টেনিদা কাকে কী বলতে দেয় নি? নিজে কী বলেছিল?

বনভোজনের খাদ্যতালিকায় কী কী থাকলে ভালো হয় সে বিষয়ে বলতে গিয়ে প্যালা যখন বলেছিল আলুভাজা, শুক্তো, বাটিচচ্চড়ি, কুমড়োর ছক্কা; তখন মাঝপথেই টেনিদা তাকে থামিয়ে দিয়ে আর বলতে দেয় নি। টেনিদা তাকে বিদ্রুপ করে বলেছিল তার চেয়ে হিঞ্চে সেদ্ধ, গাঁদাল আর শিঙিমাছের ঝোল বলতে এবং সে প্যালাকে আরও বলেছিল যে প্যালা যেহেতু পালাজ্বরে ভোগে আর বাসক পাতার রস খায়, সেহেতু তার বুদ্ধির দৌড় ওইরকমই হওয়া স্বাভাবিক।

‘আমি বলতে যাচ্ছিলাম’ – বক্তা কী বলা স্থির করে? সে কথাটি বলতে পারল না কেন?

এখানে ‘আমি’ অর্থাৎ প্যালা স্থির করেছিল যে, সে টেনিদাকে বলবে বনভোজনের চাঁদা হিসেবে টেনিদা দিয়েছে ছ-আনা, অথচ বাকি দশ টাকা দিয়েছে তারা তিনজনে। টেনিদার অপছন্দের কথা হলে বক্তাকে টেনিদার গাঁট্টা খেতে হত, যাতে গালপাট্টা উড়ে যেতে পারে। এই গাঁট্টা খাওয়ার ভয়েই সে আর কথাটা বলতে পারেনি।

রাজহাঁসের ডিম জোগাড়ের পরিকল্পনা কীভাবে হয়?

প্যালাদের পাড়াতেই ভন্টাদের বাড়ি এবং তাদের বাড়িতে গোটাকয়েক রাজহাঁস ছিল। অতএব রাজহাঁসের ডিম সংগ্রহ করার জন্য প্যালা ভন্টার শরণাপন্ন হলে ভন্টা দুই আনার পাঁঠার ঘুগনি আর ডজন খানেক ফুলুরি খেয়ে অবশেষে বলে যে, প্যালা যদি রাজহাঁসের বাক্স থেকে নিজের হাতে ডিম বার করে নিতে পারে, তবে সে ডিম দিতে সম্মত আছে।

“ওই পাঁঠার ঘুগনি, আর ফুলুরির শোধ তুলে ছাড়ব।” – বক্তা এ কথা কেন বলেছিল?

প্যালা ভন্টাদের বাড়িতে এসে রাজহাঁসের কাঠের বাক্সে হাত ঢুকিয়ে ডিম নিতে গেলে রাজহাঁসের কামড়ে তার হাত রক্তাক্ত হয়। প্যালাকে রাজহাঁসের ডিম দেওয়ার নামে ভন্টা প্যালার কাছ থেকে পাঁঠার ঘুগনি আর ফুলুরি খেয়েছিল। কিন্তু রাজহাঁসের কামড় খেয়ে ডিম নিতে না পেরে প্যালা ভন্টার উপর রেগে গিয়ে এই কথা বলেছিল।

‘মন খারাপ করে আমি বসে রইলাম।’ – বক্তার মন খারাপের কারণ কী? বক্তা মন খারাপ করে মনে মনে কী ভাবে?

বক্তার অর্থাৎ প্যালার মন খারাপের কারণ হল যে, সে ডিমের ডালনা খেতে ভীষণ ভালোবাসে, অথচ টেনিদা তাকে ডিমের ডালনা খাওয়া থেকে বাদ দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ডালনার এক টুকরো আলু এমনকি সামান্য ঝোলটুকুও সে পাবে না বলে ঘোষণা করায় তার মন খারাপ হয়েছে। প্যালা মনে মনে শুধু ভেবেছে তাকে বাদ দিয়ে যারা ডিমের ডালনা খাবে, সে তাদের খাওয়ায় এমন নজর দেবে যে তাদের বদহজম হয়ে যাবে।

‘রসগোল্লার শোকে বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতে চারজনে পথ চলতে লাগলাম আমরা।’ – রসগোল্লার জন্য শোক কেন?

বনভোজনের পথে যাওয়ার সময় ট্রেন থেকে নেমেই টেনিদা রসগোল্লার হাঁড়িটা দখল করে নিজের হাতে নিয়ে হাঁটতে গিয়ে কাদায় পা পিছলে পড়ে যেতেই হাঁড়ি থেকে রসগোল্লাগুলো ছিটকে কাদাভরা খানায় ছড়িয়ে যায়। এর আগে বনভোজনের জন্য আনা লেডিকেনিগুলো টেনিদা একাই সাবাড় করেছে বলে প্যালারা খুব আশা করেছিল যে, রসগোল্লা খাওয়ার আনন্দটুকু অন্তত তারা পাবে। কিন্তু স্পঞ্জ রসগোল্লাগুলো এই কাদায় নষ্ট হওয়ায় তাদের শোক হয়েছিল।

‘ক্যাবলা আদালতের পেয়াদার মতো ঘোষণা করল।’ – কী ঘোষণা করেছিল? এ কথা বলার কারণ কী?

ক্যাবলা আদালতের পেয়াদার মতো ঘোষণা করেছিল যে, মাছের কালিয়ার তিনটে বেজে গেছে, অর্থাৎ মাছের কালিয়া নামক রান্নার পদটি একেবারেই খারাপ হয়ে গেছে। প্যালা কাঁচা তেলে মাছ ছাড়তেই সমস্ত মাছ ঘেঁটে তালগোল পাকিয়ে গিয়েছিল, যা দিয়ে আর কালিয়া রান্না করা সম্ভব ছিল না। সেই অবস্থা দেখেই ক্যাবলা ওই কথা বলেছিল।

‘লাফিয়ে উঠে টেনিদা বাগানের দিকে ছুটল।’ – টেনিদা লাফিয়ে উঠে বাগানের দিকে ছুটল কেন?

বনভোজনের সমস্ত চাল-ডাল-আলু বাঁদরেরা খেয়ে ফেলছিল বলে আর রান্না করার মতো কিছুই ছিল না। তখন প্যালা টেনিদাকে সামনের বাগানের গাছে জলপাই পেকে রয়েছে এই খবরটা দিতেই ক্ষুধার্ত টেনিদা আপাতত পাকা জলপাই খেয়েই খিদে মেটানোর জন্য বাগানের দিকে ছুটেছিল।


ব্যাকরণ অংশ

নীচের শব্দগুলির সন্ধি বিচ্ছেদ করো

No.সন্ধিবদ্ধ পদসন্ধি বিচ্ছেদ
1মোগলাইমোগল + আই
2রান্নারাঁধ্ + না
3বৃষ্টিবৃষ্ + তি
4পরীক্ষাপরি + ঈক্ষা
5আবিষ্কারআবিঃ + কার

নীচের শব্দগুলির ধ্বনিতাত্ত্বিক বিচার করো

No.প্রদত্ত শব্দধ্বনিতাত্ত্বিক
1বিচ্ছিরি‘বিশ্রী’ শব্দটি উচ্চারণে ‘বিচ্ছিরি’ ব্যবহার হয়। বিশ্রী > বিচ্ছিরি।
2প্ল্যান-ট্যানপদাধিকারবাচক শব্দদ্বৈত হয়েছে। ইংরেজি শব্দ প্ল্যান কিন্তু ট্যান শব্দের কোনো অর্থ নেই। উচ্চারণে এমন শব্দের ব্যবহার প্রচুর দেখা যায়।
3লিস্টি‘লিস্ট’ শব্দ থেকে ‘লিস্টি’ কথাটি ব্যবহৃত, এটি স্বরসংগতির ফলে হয়েছে। লিস্ট > লিস্টি।
4ভদ্দর‘ভদ্র’ শব্দ থেকে উচ্চারণে ‘ভদ্দর’ শব্দটি ব্যবহৃত। ভদ্র > ভদ্দর।
5ইস্টুপিডআসল শব্দটি ‘স্টুপিড’, কিন্তু আদি ধ্বন্যাগমের ফলে হয়েছে ‘ইস্টুপিড’। স্টুপিড > ইস্টুপিড।

ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো

প্রদত্ত শব্দব্যাসবাক্যসমাসের শ্রেণি
বনভোজনবনে ভোজনঅধিকরণ তৎপুরুষ।
দলপতিদলের পতিসম্বন্ধ তৎপুরুষ।
বেরসিকনয় রসিকনা-তৎপুরুষ বা নঞ্ তৎপুরুষ।
দ্রাক্ষাফলদ্রাক্ষা নামক ফলমধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
রেলগাড়িরেলপথে চলাচলের গাড়িমধ্যপদলোপী কর্মধারয়।

নীচের বাক্যগুলি প্রত্যেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যযুক্ত। বৈশিষ্ট্যগুলি খুঁজে নিয়ে লেখো।

আর সে গ্যাঁট্টা, ঠাট্টার জিনিস নয়—জুতসই লাগলে স্রেফ গালপাট্টা উড়ে যাবে।

উত্তর – ‘গ্যাঁট্টা’, ‘ঠাট্টার’, ‘পাট্টা’—শব্দ তিনটিতে অতিরিক্ত একটি ‘ট’ ধ্বনির আগমন ঘটেছে উচ্চারণে।

দ্রাক্ষাফল অতিশয় খাট্টা।

উত্তর – ‘খাট্টা’ শব্দের অর্থ টক বা অম্ল। এখানে ‘খাটা’ বা ‘টক’ শব্দের সঙ্গে উচ্চারণে আর-একটি ‘ট’ ধ্বনির আগমন ঘটেছে।

আহা—হা চৈইত্যা যাইত্যাছ কেন?

উত্তর – ‘চৈইত্যা যাইত্যাছ’ শব্দগুচ্ছটি বঙ্গালী উপভাষায় ব্যবহৃত। অপিনিহিতিজনিত কারণে এমন উচ্চারণ হয়। রাঢ়ী উপভাষায় শব্দদুটির উচ্চারণ হবে ‘চটে যাচ্ছ’।

এক চড়ে গালের বোম্বা উড়িয়ে দেব।

উত্তর – ইংরেজি শব্দ ‘bomb’ থেকে ‘বোম্বা’ কথাটি এসেছে। ‘বোমা’ অর্থে বারুদপূর্ণ গোলক। এখানে ফোলা গাল বা গালের ফোলা অংশ উড়িয়ে দেওয়া অর্থে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।

নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো

লাফিয়ে উঠে টেনিদা বাগানের দিকে ছুটল। (জটিল বাক্যে)

উত্তর – যখনই টেনিদা লাফিয়ে উঠল, তখনই বাগানের দিকে ছুটল।

চোখের পলকে বানরগুলো গাছের মাথায়। (জটিল বাক্যে)

উত্তর – যখন চোখের পলক পড়ল, তখন বানরগুলো গাছের মাথায়।

দুপুরবেলায় আসিস। বাবা-মেজদা অফিসে যাওয়ার পরে। (একটি সরল বাক্যে)

উত্তর – বাবা-মেজদা অফিসে যাওয়ার পর দুপুরবেলা আসিস।

ইচ্ছে হয় নিজে বের করে নাও। (জটিল বাক্যে)

উত্তর – যদি ইচ্ছে হয়, তবে নিজে বের করে নাও।

টেনিদা আর বলতে দিলে না। গাঁক গাঁক করে চেঁচিয়ে উঠল। (একটি সরল বাক্যে)

উত্তর – টেনিদা আর বলতে না দিয়ে গাঁক গাঁক করে চেঁচিয়ে উঠল।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের দ্বিতীয় পাঠের অন্তর্গত ‘বনভোজনের ব্যাপার’-এর কিছু ‘অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর

ভারতীয় সংবিধান-গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার-অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

অষ্টম শ্রেণি ইতিহাস – ভারতীয় সংবিধান: গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

X-লিংকড জিন ও লিঙ্গ সংযোজিত উত্তরাধিকার – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

বর্ণান্ধতা কী? বর্ণান্ধতাকে ডাইক্রোমেসি বলা হয় কেন? | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

থ্যালাসেমিয়া কী? এটি কত প্রকার (α ও β থ্যালাসেমিয়া) | Madhyamik Life Science

হিমোফিলিয়া কত প্রকার ও কী কী? হিমোফিলিয়া A, B ও C রোগের কারণ এবং লক্ষণ

হিমোফিলিয়া রোগের ক্ষেত্রে মহিলাদের চেয়ে পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হয় কেন?