এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের তৃতীয় পাঠের অন্তর্গত ‘পথচলতি’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

স্টেশনে পৌঁছে লেখক কী দেখেছিলেন?
স্টেশনে পৌঁছে লেখক দেখেছিলেন যে, ট্রেনটি সময়মতো এলেও মধ্যম শ্রেণি এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে অসম্ভব ভিড়। তাই লেখক এ-কামরা, সে-কামরা করে শেষে হন্যে হয়ে একটি তৃতীয় শ্রেণির ফাঁকা বগির কাছে এসেও থমকে দাঁড়ালেন। কেননা বগির দরজা আগলে থাকা কয়েকজন দোহারা চেহারার কাবুলিওয়ালার হুংকারে আশপাশের সকলেই তখন তটস্থ, এমনকি পুলিশও বেপাত্তা।
দু-চারটি ফারসি কথা বলতে পারার ক্ষমতা লেখককে কীরকম সাহস দিয়েছিল?
দু-চারটি ফারসি কথা বলতে পারার ক্ষমতা লেখককে এতটাই সাহস জুগিয়েছিল যে, ওইরকম জবরদস্ত চেহারার কাবুলিওয়ালাদের সঙ্গে লড়তে অসীম সাহস এবং দস্তুরমতো হিম্মত দেখিয়েছিলেন তিনি। কয়েকটি মাত্র বাক্য ফারসিতে বলেই তিনি ওদের হতভম্ব করে দিয়েছিলেন। অসীম সাহসে ভর করে ট্রেনের আধখোলা দরজার হাতল ধরে টেনে খুলে ভিতরে ঢুকতে গিয়ে বাধা পেলেও ওই সাহসের জোরেই অবশেষে ঢুকেছেন এবং দস্তুরমতো ওদের সঙ্গেই জায়গা করে নিয়েছেন সম্মানের সঙ্গে।
‘আলেম’ শব্দের মানে কী? লেখককে কারা, কেন ‘এক মস্ত আলেম’ ভেবেছিলেন?
‘আলেম’ শব্দের অর্থ হল সর্বজ্ঞ। পশতুভাষী আফগানিস্তানের পাঠানরা লেখককে এক মস্ত আলেম ভেবেছিলেন। কেননা তখন আফগানিস্তানের শিক্ষিত, উচ্চ ও ভদ্রসমাজের সরকারি ভাষা ছিল ফারসি। পাঠানদের মাতৃভাষা অতি সাধারণ পশতুর সম্মান তখন ছিল না। তাই লেখককে অনবরত ফারসি ভাষায় কথা বলতে দেখে এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব লক্ষ করে পশতুভাষী পাঠানরা লেখককে ভেবেছিলেন এক মস্ত আলেম।
আগা সাহেব সম্বন্ধে যা জানা গেল, সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: বৃদ্ধ পাঠান আগা সাহেব বাংলাদেশের লোক, আর বরিশালের পটুয়াখালি বন্দরে তাঁর ব্যাবসা গড়ে উঠেছে। তাঁর ব্যাবসা হল শীতের বস্ত্র আর হিং বিক্রি করা এবং চাষিদের টাকা ধার দেওয়া। কলকাতার ভাষা তাঁর আয়ত্ত না হলেও বরিশালের ‘বরিশাইল্যা’ ভাষাটি তিনি তাঁর মাতৃভাষা পশতুর মতোই স্বচ্ছন্দে বলতে পারেন। ভোরে উঠে তিনি মালা জপ করেন। সৌজন্যবোধ তাঁর প্রবল বলেই সকালে লেখককে ‘সুখসৌপ্তিক’ প্রশ্ন করেছিলেন।
লেখকের সামনের বেঞ্চির দুই পাঠান সহযাত্রী নিজেদের মধ্যে যে আলোচনা করছিলেন তা নিজের ভাষায় লেখো। লেখক কীভাবে সেই কথার অর্থ বুঝতে পারলেন?
লেখকের সামনের বেঞ্চে দুই পাঠান সহযাত্রী নিজেদের ভাষায় লেখকের সম্পর্কেই বলছিলেন যে, তিনি ভীষণ বিদ্বান এবং বুদ্ধিমান। ইংরেজদের লেখা সমস্ত বই পড়েন, ফারসি পড়েন, এমনকি তাদের খাস দেহাতি কথাগুলোও বুঝতে পারেন এবং তাদের সম্বন্ধে কত খবর জানেন। লেখক পশতু ভাষা না জানলেও সে ভাষার ভিতরে যেসব ফারসি এবং আরবি শব্দ আছে, তার কিছুটা লেখক জানতেন এবং উর্দুটাও একটু জানতেন। তাই তিনি কিছু শব্দ এবং একটু বুদ্ধি কাজে লাগিয়েই ওদের ভাষা বুঝতে পেরেছিলেন।
কাবুলিওয়ালা – টীকা লেখো।
কথক ট্রেনের কোথাও জায়গা না পেয়ে তৃতীয় শ্রেণির বগিটি ফাঁকা দেখে সেখানে গিয়ে দেখেন সে-বগিটি কয়েকজন কাবুলিওয়ালার দখলে। এই প্রসঙ্গে ‘কাবুলি’ কথাটা এসেছে। কাবুলদেশীয় লোক বা কাবুলের লোক হল কাবুলি। ‘কাবুলি’ থেকেই এসেছে ‘কাবুলিওয়ালা’।
পশতু – টীকা লেখো।
কাবুলিওয়ালা পাঠানদের মাতৃভাষার তখন যে কোনো সম্মান ছিল না, সেই প্রসঙ্গে ‘পশতু’ কথাটি এসেছে। আফগানিস্তানে পশতুনরা পশতু ভাষায় কথা বলে। এটাই তাদের প্রথম ভাষা (First Language)। এরা আফগানিস্তানে ও পাকিস্তানে বাস করে। কান্দাহারের দুরানিরাও পশতু ভাষায় কথা বলে। এরা সুন্নি মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত।
ফারসি – টীকা লেখো।
ট্রেনযাত্রাকালে লেখক আফগানিস্তানের ভাষার আভিজাত্য প্রসঙ্গে ফারসি ভাষার উল্লেখ করেছেন। ফারসি ভাষাকে পারসিক ভাষাও বলা হয়ে থাকে। এটি পারস্যের প্রাচীন জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে উদ্ভূত। ফারসি হল মধ্য এশিয়ায় প্রচলিত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের ইরানীয় শাখার অন্তর্ভুক্ত একটি ভাষা।
আফগানিস্তান – টীকা লেখো।
‘আফগানিস্তান’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ফারসি ভাষা প্রসঙ্গে। দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার একটি রাষ্ট্র হল আফগানিস্তান। শব্দটির অর্থ আফগান জাতির দেশ। দেশটির বৃহত্তম শহর ও রাজধানী হল কাবুল। আফগানিস্তানে বসবাসরত সবচেয়ে বড়ো জনগোষ্ঠী হল পশতু জাতি। তবে বর্তমানে আফগান বলতে শুধু পশতু নয়, জাতিনির্বিশেষে রাষ্ট্রটির সব নাগরিককেই বোঝায়। এর অধিকাংশ অঞ্চল সুউচ্চ পর্বতময় এলাকা।
বরিশাল – টীকা লেখো।
পাঠান বৃদ্ধ আগা সাহেবের ডেরা বাংলাদেশের পটুয়াখালি প্রসঙ্গে বরিশালের কথা স্বাভাবিকভাবেই এসেছে। বরিশাল জেলাটি 1797 খ্রিস্টাব্দে তৈরি হয়। কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত শহরটির পুরোনো নাম চন্দ্রদ্বীপ। বরিশাল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নদীবন্দর। একে ‘বাংলার ভেনিস’ বলা হয়। আগে এখানে বড়ো বড়ো শাল গাছ জন্মাত। বড়ো + শাল = বরিশাল। এভাবেই উৎপত্তি বরিশালের।
গজল – টীকা লেখো।
খুশ-হাল খাঁ খট্টকের গজলের প্রসঙ্গে ‘গজল’ কথাটি এসেছে। আরব থেকে গজলের উৎপত্তি হলেও ফারসি ভাষাতেই এটি ভীষণভাবে বিকাশ লাভ করে। পরবর্তীকালে উর্দু ভাষায় এটি জনপ্রিয়তা পায়। আরবি, ফারসি, পশতু, উর্দু ছাড়াও হিন্দি, পাঞ্জাবি, মারাঠি, বাংলা, এমনকি ইংরেজিতেও গজল লেখা হয়। গজল হালকা মেজাজের লঘু শাস্ত্রীয় সংগীত। আমির খসরু এ গানের স্রষ্টা। আমির খসরু, মির্জা গালিব, গোরখপুরী গজল লেখক হিসেবে নাম করেন। কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা গজল রচনার পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন।
উর্দু – টীকা লেখো।
লেখকের সামনের বেঞ্চে বসা দুই পাঠান সহযাত্রীর লেখকের সম্পর্কে আলোচনায় লেখকের বোধগম্যতা প্রসঙ্গে ‘উর্দু’ কথাটি এসেছে। পাকিস্তানের প্রায় এক কোটি লোক এবং ভারতের প্রায় পাঁচ কোটি লোকের মাতৃভাষা উর্দু। এ ছাড়া আফগানিস্তানে এবং পারস্যেও এ ভাষা প্রচলিত। ‘উর্দু’ শব্দটি তুর্কি ‘ওর্দু’ শব্দ থেকে এসেছে – যার অর্থ হল শিবির বা ক্যাম্প। ভারতের সর্বত্রই মুসলিমরা উর্দু ভাষা ব্যবহার করে।
নমাজ – টীকা লেখো।
‘পথচলতি’ গল্পের কথক পাঠানদের সঙ্গে ট্রেনে সারা রাত কাটিয়ে ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখেন ওদের মধ্যে কেউ কেউ নমাজ পড়ছে – এই প্রসঙ্গে নমাজের কথাটি এসেছে। ইসলাম ধর্মের প্রধান উপাসনা কর্ম, প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত (নির্দিষ্ট নমাজের নির্দিষ্ট সময়) নমাজ পড়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। ‘নমাজ’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে উদ্ভূত।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের তৃতীয় পাঠের অন্তর্গত ‘পথচলতি’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment