এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের সপ্তম পাঠের অন্তর্গত ‘হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

‘একক প্রচেষ্টায় এরূপ বিরাট কাজের দৃষ্টান্ত বিরল।’ – কোন্ কাজের কথা বলা হয়েছে? একে ‘বিরাট কাজ’ বলার কারণ কী?
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সুবৃহৎ বাংলা অভিধান ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’-এর কথা এখানে বলা হয়েছে।
অভিধান রচনা অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য এবং সময়সাধ্য কাজ। বিশেষত হরিচরণের আলোচ্য অভিধানটি সেকালে 105 খণ্ডে মুদ্রিত হয়ে প্রকাশ পেয়েছিল। পরবর্তীকালে ‘সাহিত্য আকাদেমি’ থেকে দুটি খণ্ডে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। শুধুমাত্র পরিমাণগত বাহুল্যে নয়, গুণগত উৎকর্ষের দিক থেকেও এ গ্রন্থ মহান। নানা বিদ্যার একত্র সমাবেশে এই অভিধান রচনা তাই ‘বিরাট কাজ’ বলে চিহ্নিত হয়েছে।
‘হরিচরণবাবুকে দেখে তাঁর সম্পর্কিত শ্লোকটি আমার মনে পড়ে যেত’-শ্লোকটি কার লেখা? শ্লোকটি উদ্ধৃত করো।
শ্লোকটি রচনা করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
শ্লোকটি হল –
‘কোথা গো ডুব মেরে রয়েছ তলে
হরিচরণ! কোন্ গরতে?
বুঝেছি! শব্দ-অবধি-জলে
মুঠাচ্ছ খুব অরথে!
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় নামক পাঠ্যে গিবনের প্রসঙ্গ কেন ব্যবহৃত হয়েছে?
1776-1788 খ্রিস্টাব্দ – এই দীর্ঘ বারো বছর ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড গিবন ব্যস্ত ছিলেন ছ-টি খণ্ডে সুবৃহৎ গবেষণা কার্য ‘দি ডিক্লাইন অ্যান্ড ইল অফ দি রোমান এম্পায়ার’ গ্রন্থ রচনায়। গ্রন্থ সমাপ্ত করে গিবনের মনে হয়েছিল সব কাজ ফুরিয়ে গেছে, কিছুই যেন আর করার নেই। আর হরিচরণ 1312 থেকে 1252 বঙ্গাব্দ – এই দীর্ঘ চল্লিশ বছর ব্যস্ত ছিলেন অভিধান প্রণয়ন ও মুদ্রণের কাজে। তবুও মুদ্রণকার্য সমাপ্তির পর হরিচরণের মনে এক গভীর প্রশান্তি বিরাজমান ছিল। রবীন্দ্রনাথের বাসনা চরিতার্থ করতে পেরে তিনি তৃপ্ত হয়েছিলেন। দুই দেশের দুই মহাত্মার দীর্ঘ পরিশ্রমলব্ধ ফসলের মাহাত্ম্যের কথা তুলনা করতে গিয়ে পাঠ্যে গিবনের প্রসঙ্গ এসেছে।
অভিধান কার্য মুদ্রিত হওয়ার পরে হরিচরণের কোন্ কোন্ বিষয়ে আক্ষেপ ছিল?
1946 খ্রিস্টাব্দে ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’ -এর মুদ্রণকার্য সমাপ্ত হয়। তার আগেই পরলোকগমন করেন অভিধানের আর্থিক পৃষ্ঠপোষক মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী। তিনি মারা যান 1930 খ্রিস্টাব্দে। অর্থাৎ মুদ্রণকার্য আরম্ভ হওয়ার গৌরব তিনি দেখে যেতে পারেননি। হরিচরণের দুঃখ ছিল মণীন্দ্রচন্দ্রের হাতে তিনি একখণ্ডও মুদ্রিত অভিধান তুলে দিতে পারেননি। রবীন্দ্রনাথ মারা গেলেন 1941 খ্রিস্টাব্দে। প্রেরণাদাতা বিশ্বকবি মুদ্রণকার্যের পরিসমাপ্তি দেখে যেতে পারেননি। শেষ খণ্ডটি হরিচরণ তাঁর হাতে তুলে দিতে পারলেন না। এই দুই আক্ষেপ হরিচরণকে বিষাদাচ্ছন্ন করেছিল।
এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের অষ্টম পাঠের অন্তর্গত ‘হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়’-এর কিছু ‘সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করলাম। এই প্রশ্নোত্তরগুলো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদ্যালয়ের বাংলা পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।
আশা করি, এই আর্টিকেলটি তোমাদের উপকারে এসেছে। যদি তোমাদের কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে টেলিগ্রামে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো। তোমাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। ধন্যবাদ।





Leave a Comment