লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বিবর্তনে কীভাবে সাহায্য করে? | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান (Madhyamik Life Science) বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বিবর্তনে কীভাবে সাহায্য করে?” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় “অভিব্যক্তি ও অভিযোজন”-এর “অভিব্যক্তি” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Exam) এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বিবর্তনে কীভাবে সাহায্য করে?

লুপ্তপ্রায় বা নিষ্ক্রিয় অঙ্গ কাকে বলে?

জীবদেহের যেসব অঙ্গ এককালে পূর্বপুরুষের দেহে সক্রিয় ছিল, কিন্তু ক্রমবিবর্তনের ফলে বর্তমান প্রজন্মে কার্যক্ষমতা হারিয়ে অপেক্ষাকৃত ছোটো আকারের এবং কাজহীন বা কর্মহীন (workless) এবং অনুন্নত (undeveloped) অঙ্গে পরিণত হয়েছে, এদের লুপ্তপ্রায় বা নিষ্ক্রিয় অঙ্গ (Vestigial Organs) বলে। উন্নত শ্রেণির প্রাণীদের দেহে এই ধরনের অঙ্গের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়।

লুপ্তপ্রায় অঙ্গের কয়েকটি উদাহরণ –

  • প্রাণীদের ক্ষেত্রে – গিনিপিগ বা খরগোশের সক্রিয় অঙ্গ সিকাম মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাপেনডিক্স (Appendix) নামক নিষ্ক্রিয় অঙ্গে পরিণত হয়েছে। এছাড়া বানরের সক্রিয় অঙ্গ লেজ মানুষের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ কক্সিস (Coccyx)-এ পরিণত হয়েছে। মানুষের অন্যান্য লুপ্তপ্রায় অঙ্গের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানের পেশি (Ear muscles) এবং আক্কেল দাঁত (Wisdom teeth)
  • উদ্ভিদের ক্ষেত্রে – ভূনিম্নস্থ কাণ্ডের শল্কপত্র, কালকাসুন্দার স্ট্যামিনোড, নারকেলের পিস্টিলোড হল নিষ্ক্রিয় অঙ্গের উদাহরণ।
প্রাণী ও উদ্ভিদের লুপ্তপ্রায় বা নিষ্ক্রিয় অঙ্গের বিভিন্ন উদাহরণ

লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বিবর্তনে কীভাবে সাহায্য করে?

জীবদেহে লুপ্তপ্রায় নিষ্ক্রিয় অঙ্গের উপস্থিতি দেখে বলা যায় যে, সক্রিয় অঙ্গবিশিষ্ট জীব থেকে নিষ্ক্রিয় অঙ্গবিশিষ্ট জীবের উদ্ভব ঘটেছে। অর্থাৎ, লুপ্তপ্রায় অঙ্গযুক্ত জীব, ওই একই প্রকৃতির সক্রিয় অঙ্গযুক্ত পূর্বপুরুষ বা উদবংশীয় জীব থেকেই সৃষ্টি হয়েছে।

অভিব্যক্তি বা বিবর্তনকালে (Evolution) এক জীবগোষ্ঠী গঠনের সময় জীবদেহের যে অঙ্গগুলির কার্যকারিতা থাকে না, তা ক্রমশ ছোটো হতে হতে লুপ্ত হয় এবং জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যেরও পরিবর্তন হয়।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান বিষয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বিবর্তনে কীভাবে সাহায্য করে?” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় “অভিব্যক্তি ও অভিযোজন”-এর “অভিব্যক্তি” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন।

Please Share This Article

Related Posts

জীবাশ্মের সংজ্ঞা ও উদাহরণ দাও। জৈব বিবর্তনে 'জীবাশ্ম' -এর ভূমিকা লেখো।

জীবাশ্মের সংজ্ঞা ও উদাহরণ | জৈব বিবর্তনে জীবাশ্মের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

প্রতিটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের গঠনের মিল আছে এমন একটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করো। এর থেকে তুমি কোন্ সিদ্ধান্তে উপনীত হলে?

প্রতিটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের গঠনের মিল ও সিদ্ধান্ত

আধুনিক জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার সমর্থনে ডারউইন কী ব্যাখ্যা দেন জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার কারণ সম্পর্কিত ল্যামার্কের তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করো।

জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার কারণ – ডারউইন ও ল্যামার্কের তত্ত্ব | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

About The Author

Souvick

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

জীবাশ্মের সংজ্ঞা ও উদাহরণ | জৈব বিবর্তনে জীবাশ্মের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

প্রতিটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের গঠনের মিল ও সিদ্ধান্ত

জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার কারণ – ডারউইন ও ল্যামার্কের তত্ত্ব | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

নতুন প্রজাতির উৎপত্তিলাভে প্রকরণের ভূমিকা – মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান

ল্যামার্কবাদের সপক্ষে অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের উদাহরণ | মাধ্যমিক জীবনবিজ্ঞান