এখনই আমাদের Telegram Community গ্রুপে যোগ দিন। এখানে WBBSE বোর্ডের পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যা শেয়ার করতে পারেন এবং একে অপরের সাহায্য করতে পারবেন। এছাড়া, কোনও সমস্যা হলে আমাদের শিক্ষকরা তা সমাধান করে দেবেন।

Telegram Logo Join Our Telegram Community

আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে ‘সোমপ্রকাশ’ সাময়িকপত্রের ভূমিকা

এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে ‘সোমপ্রকাশ’ সাময়িকপত্রের ভূমিকা উল্লেখ করো। নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাস পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই “আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে ‘সোমপ্রকাশ’ সাময়িকপত্রের ভূমিকা উল্লেখ করো।“ প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় “ইতিহাসের ধারণা“ -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে 'সোমপ্রকাশ' সাময়িকপত্রের ভূমিকা উল্লেখ করো।
Contents Show

আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে ‘সোমপ্রকাশ’ সাময়িকপত্রের ভূমিকা উল্লেখ করো।

বঙ্গীয় জাতীয় জাগরণ ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে ‘সোমপ্রকাশ’ একটি উল্লেখযোগ্য নাম।

  • প্রকাশ – 1858 খ্রিস্টাব্দে দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক ‘সোমপ্রকাশ’।
  • ঐতিহাসিক গুরুত্ব – উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ‘সোমপ্রকাশ’ ছিল শিক্ষিত, উদারপন্থী, বাঙালি মধ্যবিত্তের অন্যতম প্রধান মুখপত্র। পত্রিকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এর মার্জিত রুচি, প্রাঞ্জল ভাষা ও নির্ভীক সমালোচনা। দিনের পর দিন এই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে সমাজ, শিক্ষা, অর্থনীতি ও রাজনীতি সংক্রান্ত নির্ভীক বক্তব্য। বিধবা বিবাহ, বহুবিবাহ, শিক্ষাবিস্তার, বিজ্ঞানচর্চা, কৃষকদের দুরাবস্থা প্রভৃতি সম্পর্কে নানাবিধ প্রতিবেদন এতে নিয়মিত প্রকাশিত হত। অত্যাচারি নীলকর ও দমন-পীড়ন মূলক নীলচাষের বিরুদ্ধে সংগ্রামীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল সোমপ্রকাশ। এককথায়, ‘সোমপ্রকাশ’ ছিল বঙ্গীয় জাতীয় জাগরণের এক নির্ভরযোগ্য দলিল।
  • নিষেধাজ্ঞা – ‘সোমপ্রকাশ’ পত্রিকায় স্বাদেশিকতার নিরন্তর প্রচার ও ব্রিটিশের চণ্ডনীতির কঠোর সমালোচনা করা হতে থাকলে লর্ড লিটন 1878 খ্রিস্টাব্দে ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট জারি করে এই পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দেন।
  • পুনঃপ্রকাশ – পরবর্তীতে লর্ড রিপন 1880 খ্রিস্টাব্দে এই দমনমূলক আইন প্রত্যাহার করে নিলে ‘সোমপ্রকাশ’ পুনঃপ্রকাশিত হতে শুরু করে।
  • মন্তব্য – নিরপেক্ষতা ও স্বৈরাচার বিরোধিতার এক মূর্ত প্রতীক ‘সোমপ্রকাশ’। মহেন্দ্রনাথ বিদ্যানিধি লিখেছেন – ‘যাহার আবির্ভাবে ও প্রভাবে সংবাদপত্র মহলে হুলস্থূল পড়ে, তাহাই সোমপ্রকাশ।’

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

সোমপ্রকাশ পত্রিকা কবে এবং কে সম্পাদনা করেন?

সোমপ্রকাশ পত্রিকা 1858 খ্রিস্টাব্দে দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।

সোমপ্রকাশ পত্রিকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?

সোমপ্রকাশ উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে শিক্ষিত, উদারপন্থী বাঙালি মধ্যবিত্তের মুখপত্র ছিল। এটি সমাজ, শিক্ষা, অর্থনীতি ও রাজনীতি সংক্রান্ত নির্ভীক বক্তব্য প্রকাশের জন্য বিখ্যাত ছিল। বিধবা বিবাহ, বহুবিবাহ, কৃষকদের দুরবস্থা, নীলচাষের বিরুদ্ধে সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেছিল।

সোমপ্রকাশ পত্রিকা কী কারণে নিষিদ্ধ হয়?

ব্রিটিশ সরকারের চণ্ডনীতির কঠোর সমালোচনা এবং স্বাদেশিকতার প্রচারের কারণে 1878 খ্রিস্টাব্দে লর্ড লিটন ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট জারি করে সোমপ্রকাশের প্রকাশনা বন্ধ করে দেন।

সোমপ্রকাশ পত্রিকা পুনরায় কবে প্রকাশিত হয়?

1880 খ্রিস্টাব্দে লর্ড রিপন ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট প্রত্যাহার করলে সোমপ্রকাশ পুনরায় প্রকাশিত হতে শুরু করে।

সোমপ্রকাশ পত্রিকার বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

সোমপ্রকাশের বৈশিষ্ট্য ছিল এর মার্জিত রুচি, প্রাঞ্জল ভাষা ও নির্ভীক সমালোচনা। এটি সমাজ সংস্কার, শিক্ষাবিস্তার, বিজ্ঞানচর্চা ও নীলচাষের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল।

সোমপ্রকাশ পত্রিকা বঙ্গীয় জাতীয় জাগরণে কী ভূমিকা পালন করেছিল?

সোমপ্রকাশ বঙ্গীয় জাতীয় জাগরণের এক নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে কাজ করেছিল। এটি সমাজ সংস্কার, রাজনৈতিক সচেতনতা ও ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

সোমপ্রকাশ পত্রিকা সম্পর্কে মহেন্দ্রনাথ বিদ্যানিধির মন্তব্য কী?

মহেন্দ্রনাথ বিদ্যানিধি বলেছেন, “যাহার আবির্ভাবে ও প্রভাবে সংবাদপত্র মহলে হুলস্থূল পড়ে, তাহাই সোমপ্রকাশ।”

সোমপ্রকাশ পত্রিকা কী ধরনের বিষয়বস্তু প্রকাশ করত?

সোমপ্রকাশে সমাজ সংস্কার, শিক্ষাবিস্তার, বিজ্ঞানচর্চা, কৃষকদের দুরবস্থা, নীলচাষের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, বিধবা বিবাহ, বহুবিবাহ প্রভৃতি বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হত।

সোমপ্রকাশ পত্রিকা কেন বঙ্গীয় জাতীয় জাগরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

সোমপ্রকাশ বঙ্গীয় জাতীয় জাগরণের সময় সমাজ ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এটি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠন এবং সমাজ সংস্কারের জন্য নির্ভীকভাবে কাজ করেছিল।

সোমপ্রকাশ পত্রিকার ভাষা ও রুচি কেমন ছিল?

সোমপ্রকাশের ভাষা ছিল প্রাঞ্জল এবং এর রুচি মার্জিত। এটি নির্ভীক সমালোচনা ও যুক্তিনিষ্ঠ বক্তব্যের জন্য পরিচিত ছিল।


এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে ‘সোমপ্রকাশ’ সাময়িকপত্রের ভূমিকা উল্লেখ করো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “আধুনিক ভারত ইতিহাসের উপাদানরূপে ‘সোমপ্রকাশ’ সাময়িকপত্রের ভূমিকা উল্লেখ করো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় “ইতিহাসের ধারণা” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।

Share via:

মন্তব্য করুন