এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বার্খান ও ইয়ার্দাং কাকে বলে? বার্খান ও ইয়ার্দাং -এর পার্থক্য লেখো।” নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “বার্খান ও ইয়ার্দাং কাকে বলে? বার্খান ও ইয়ার্দাং -এর পার্থক্য লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – বায়ুর বিভিন্ন কাজ ও তাদের দ্বারা সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়।

বার্খান ও ইয়ার্দাং কাকে বলে?
বার্খান –
অর্থ –
Barkhan শব্দটি তুর্কি শব্দ Barken থেকে এসেছে, যার অর্থ বালির পাহাড়।
সংজ্ঞা –
বায়ুর প্রবাহ পথের সঙ্গে আড়াআড়িভাবে গড়ে ওঠা অর্ধচন্দ্রাকৃতির বালিয়াড়িকে বার্খান বলে।
বৈশিষ্ট্য –
- বার্খানের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সাধারণত সমান হয়।
- বার্খান সাধারণত ছোটো আকারের হয় (যেমন – উচ্চতামাত্র 2-30 মিটার এবং প্রস্থ 20-70 মিটার হয়)।
- বার্খানের বায়ুমুখী উত্তল ঢাল উত্তাল ও মৃদু এবং বিপরীতদিকের অবতলঢাল অপেক্ষাকৃত খাড়া হয়।
- বার্খানের দুই প্রান্তে অর্ধচন্দ্রাকারে দুটি শিং -এর মতো শিরা অবস্থান করে।
- খাড়া ও মৃদু ঢালু তল ছাড়া বার্খানগুলিকে আরবে জিবার বলে।
- একাধিক বার্খানের মিলিত রূপ হল অ্যাকলে।
উদাহরণ – পৃথিবীর সকল মরূভূমিতেই বার্খান দেখা যায়।
ইয়াদাং –
সংজ্ঞা –
মরূভূমি বা মরূপ্রায় অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা উলম্বভাবে অবস্থান করলে অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও কঠিন শিলাস্তর পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে টিলার আকারে দাঁড়িয়ে থাকে, এদের ইয়াদাং বলে।
বৈশিষ্ট্য –
- ইয়াদাং এর উচ্চতা 6 মিটার, প্রস্ত 36 মিটার, বিস্তার 70-400 মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- এদের মাথাগুলি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সূচালো হলে তাকে নিডিল বলে।
- শিলাস্তর বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে বিন্যাস্ত হওয়া দরকার।
উদাহরণ – চিলির আটাকামা ও সৌদি আরবের মরূভূমিতে ইয়াদাং বেশি দেখা যায়।
বার্খান ও ইয়ার্দাং -এর পার্থক্য লেখো।
বার্খান ও ইয়ার্দাং -এর পার্থক্য –
| বিষয় | বার্খান | ইয়ার্দাং |
| প্রকৃতি | বায়ুর সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ হল বার্খান। | বায়ুর ক্ষয়জাত ভূমিরূপ হল ইয়ার্দাং। |
| বায়ুর কাজ | বায়ুর সঞ্চয়কার্যের প্রক্রিয়াগুলি বার্খান গঠনে সাহায্য করে। | বায়ুর অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় ইয়ার্দাং গঠিত হয়। |
| আকৃতি | আধখানা চাঁদ বা অর্ধচন্দ্রাকৃতি বালিয়াড়ি হল বার্খান। এর দুপাশে শিং -এর মতো শিরা থাকে। | ইয়ার্দাং স্বল্প উচ্চতাবিশিষ্ট, টিলার মতো বা বিচিত্র আকৃতির শৈলশিরার মতো দেখতে হয়। |
| উপাদান | বালির স্তূপ দ্বারা বার্খান গঠিত হয়। | কঠিন শিলা দ্বারা ইয়ার্দাং গঠিত হয়। |
| উচ্চতা | বার্খান বালিয়াড়ির উচ্চতা 30 মিটার পর্যন্ত হয়। | ইয়ার্দাং -এর উচ্চতা 6-15 মিটার পর্যন্ত হয়। |
| গঠনের কারণ | বায়ুর গতিপথে আড়া-আড়িভাবে বালি সঞ্চিত হয়ে বার্খান গঠন করে। | বায়ুর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা উল্লম্বভাবে অবস্থান করলে বায়ুর ক্ষয়কাজের ফলে কোমল শিলা ক্ষয় পেয়ে ইয়ার্দাং গঠন করে। |
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন “বার্খান ও ইয়ার্দাং কাকে বলে? বার্খান ও ইয়ার্দাং -এর পার্থক্য লেখো।” নিয়ে আলোচনা করেছি। এই “বার্খান ও ইয়ার্দাং কাকে বলে? বার্খান ও ইয়ার্দাং -এর পার্থক্য লেখো।” প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের প্রথম অধ্যায় “বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তার দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ – বায়ুর বিভিন্ন কাজ ও তাদের দ্বারা সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ” -এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এবং চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই দেখা যায়। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।





Leave a Comment