এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল বলতে কী বোঝো? বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামালের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করব। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের শিল্প” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল বলতে কী বোঝো?
বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল –
যে সকল কাঁচামালকে শিল্পজাত দ্রব্যে পরিণত করলে ওজনের কোনো তারতম্য ঘটে না তাদের বিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে। অর্থাৎ, কাঁচামালের ওজন ও তা থেকে উৎপন্ন শিল্পদ্রব্যের ওজন সমান থাকে। এক্ষেত্রে শিল্প প্রক্রিয়াকরণের ফলে কাঁচামালের ওজন হ্রাস পায় না। বিশুদ্ধ কাঁচামাল ভিত্তিক শিল্প গঠনের অন্যান্য সুযোগসুবিধা থাকলে কাঁচামাল উৎপাদক অঞ্চলে, বাজারে বা যে-কোনো স্থানে গড়ে ওঠে।
উদাহরণ – তুলা হল কার্পাস বয়নশিল্পের কাঁচামাল।
অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল –
যে সকল কাঁচামালকে শিল্পজাত দ্রব্যে পরিণত করলে তাদের ওজন হ্রাস পায়, সেইসব কাঁচামালকে অবিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে। অর্থাৎ অবিশুদ্ধ কাঁচামালের ওজন অপেক্ষা তা থেকে উৎপন্ন শিল্পজাত দ্রব্যের ওজন অনেক কম হয়।
উদাহরণ – লোহা, তামা, ইক্ষু -এর ভার হ্রাসশীল হওয়ায় অবিশুদ্ধ কাঁচামাল নির্ভর শিল্প কাঁচামাল উৎপাদন অঞ্চলে গড়ে ওঠে।
বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামালের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
অর্থনীতিবিদ আলফ্রেড ওয়েবারের বস্তুসূচকের হিসাব অনুযায়ী কাঁচামাল দুই প্রকারের হয়, বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল এবং অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল। নীচে এদের পার্থক্য উল্লেখ করা হল –
বিষয় | বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল | অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল |
সংজ্ঞা | যে সকল কাঁচামালকে শিল্পজাত দ্রব্যে রূপান্তরিত করলে ওজনের কোনো পরিবর্তন বা তারতম্য ঘটে না তাদের বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল বলে। | যে সকল কাঁচামালকে শিল্পজাত দ্রব্যে পরিবর্তন করলে, কাঁচামালের ওজন হ্রাস পায় তাদের অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল বলে। |
উদাহরণ | কার্পাস বয়নশিল্পের কার্পাস বা তুলা। | লৌহ-ইস্পাত শিল্পের লৌহ-আকরিক। |
অবস্থানগত প্রভাব | বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল নির্ভর শিল্পগুলি কাঁচামাল উৎসের নিকটে, বাজারে বা দূরে যে-কোনো জায়গায় গড়ে উঠতে পারে। এই কারণে এইসব শিল্পকে Foot Loose Industry বলে। | অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল নির্ভর শিল্পগুলি সাধারণত ভারী ও অধিক প্রয়োজন এমন কাঁচামালের উৎসের নিকট গড়ে ওঠে। |
পণ্যসূচক | 1 বা তার কম। | 1 -এর বেশি। |
সংখ্যা | বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামালের সংখ্যা কম এবং তার বেশির ভাগই কৃষিজাত পণ্য। | অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামালের সংখ্যা কম এবং তার বেশিরভাগই খনিজাত। |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল কী?
বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল হলো সেইসব কাঁচামাল যা শিল্প প্রক্রিয়াকরণের পরও ওজনের কোনো পরিবর্তন হয় না। অর্থাৎ, কাঁচামাল ও উৎপাদিত দ্রব্যের ওজন প্রায় সমান থাকে। উদাহরণ – তুলা (কার্পাস বয়নশিল্পে ব্যবহার করা হয়)।
অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল কী?
অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল হলো সেইসব কাঁচামাল যা শিল্প প্রক্রিয়াকরণের পর ওজন হ্রাস পায়। অর্থাৎ, প্রক্রিয়াকরণের পর উৎপাদিত দ্রব্যের ওজন কাঁচামালের তুলনায় অনেক কম হয়। উদাহরণ – লৌহ-আকরিক (লোহা-ইস্পাত শিল্পে ব্যবহার করা হয়)।
বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল নির্ভর শিল্পকে Foot Loose Industry বলা হয় কেন?
বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামালের ওজন প্রক্রিয়াকরণে অপরিবর্তিত থাকে বলে এই শিল্পগুলি কাঁচামাল উৎস, বাজার বা যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে গড়ে উঠতে পারে। তাই এদের Foot Loose Industry বলা হয়।
অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল নির্ভর শিল্প সাধারণত কোথায় গড়ে ওঠে?
অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল প্রক্রিয়াকরণে ওজন হ্রাস পায় বলে এই শিল্পগুলি সাধারণত কাঁচামালের উৎসের কাছেই গড়ে ওঠে, যাতে পরিবহন ব্যয় কমানো যায়।
বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামালের পণ্যসূচক (Material Index) কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামালের পণ্যসূচক –
1. বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামালের পণ্যসূচক = 1 বা তার কম (কারণ কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্যের ওজন সমান বা কম)।
2. অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামালের পণ্যসূচক = 1 -এর বেশি (কারণ কাঁচামালের ওজন উৎপাদিত পণ্যের চেয়ে বেশি)।
বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামালের উদাহরণ দাও।
বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামালের উদাহরণ –
1. বিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল – তুলা (বস্ত্র শিল্প), উল (কাপড় শিল্প)।
2. অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল – লৌহ-আকরিক (ইস্পাত শিল্প), ইক্ষু (চিনি শিল্প)।
এই আর্টিকেলে আমরা মাধ্যমিক ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন — “বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামাল বলতে কী বোঝো? বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ শ্রেণির কাঁচামালের মধ্যে পার্থক্য লেখো।” — নিয়ে আলোচনা করেছি। এই প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায় “ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ” -এর “ভারতের শিল্প” অংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি প্রায়ই আসে, তাই এটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য উপকারী হয়েছে। আপনাদের কোনো প্রশ্ন বা অসুবিধা থাকলে, আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া, নিচে আমাদের এই পোস্টটি আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন, যাদের এটি প্রয়োজন হতে পারে। ধন্যবাদ।
মন্তব্য করুন