অষ্টম শ্রেণি বাংলা – আষাঢ়ের কোন ভেজা পথে – বিষয়সংক্ষেপ

Souvick

এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ পাঠের অন্তর্গত ‘আষাঢ়ের কোন ভেজা পথে’-এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করব। এখানে লেখকের পরিচিতি, গানের উৎস, পাঠপ্রসঙ্গ, সারসংক্ষেপ, নামকরণ এবং এর প্রধান বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই আর্টিকেলটি আপনাদের ‘আষাঢ়ের কোন ভেজা পথে’ গানটি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেবে এবং এটি ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এছাড়া, অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে লেখক ও সারসংক্ষেপ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসতে পারে, তাই এই তথ্যগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আষাঢ়ের কোন ভেজা পথে - অষ্টম শ্রেণী - বাংলা - লেখক পরিচিতি

লেখক পরিচিতি

বিজয় সরকার একজন কবিয়ালরূপে বাংলা সংগীতজগতে বিখ্যাত। তিনি ছিলেন একাধারে বাউল গায়ক, সুরকার এবং গীতিকার। তিনি জন্মগ্রহণ করেন 1903 খ্রিস্টাব্দের 16 ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার ডুমদি গ্রামে। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল বিজয় অধিকারী। তাঁর পিতার নাম ছিল নবকুমার বৈরাগী এবং মাতার নাম হিমালয়কুমারী বৈরাগী। তিনি তাবড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাঠগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীকালে খাজনা সংগ্রাহকের কাজে যোগদান করেন। একইসঙ্গে তিনি মঞ্চে লোকগায়করূপে অংশগ্রহণ করতে থাকেন। 1925 খ্রিস্টাব্দে তিনি কবিয়াল মনোহর সরকার এবং রাজেন্দ্রনাথ সরকারের সঙ্গে যুক্ত হন। প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন একজন ভাটিয়ালি কবি ও গায়ক এবং তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর কিছু বিখ্যাত সংগীত হলো— ‘তুমি জানো না রে প্রিয় তুমি মোর জীবনের সাধনা’, ‘এই পৃথিবী যেমন আছে তেমন ঠিক রবে’। কবিয়াল বিজয় সরকার 1985 খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

পাঠপ্রসঙ্গ

বাংলাদেশের প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো শ্রাবণ। আষাঢ়ের ভেজা পথেই শ্রাবণের আগমন ঘটে, আকাশে দেখা দেয় জলভরা মেঘের বিস্তার। প্রায়শই শ্রাবণের বারিধারা পল্লিকে ভাসিয়ে দেয়। তখন সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে ওঠে দুঃসহ। অতি কষ্টে যত্ন করে গড়ে তোলা বাসগৃহ ভাসিয়ে দেয় শ্রাবণের বন্যা। ফলে মানবমনে বেদনা সৃষ্টি হয়। পাঠ্যের ‘আষাঢ়ের কোন ভেজা পথে’ গানটিতে গীতিকার বিজয় সরকার সেই প্রসঙ্গই তুলে ধরেছেন।

বিষয়সংক্ষেপ

আষাঢ়ের ভেজা পথ ধরেই শ্রাবণের আগমন ঘটেছে। তবে এই শ্রাবণ কবির হৃদয়কে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে; ভেঙে দিয়েছে কবির সাধের ঘরবাড়ি। চূর্ণি নদীর ঘূর্ণিপাকে যেখানে চর জেগে উঠেছিল, সেই চরেই কবি তাঁর বসতবাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু সেই ঘর দীর্ঘস্থায়ী হলো না। দুরন্ত শ্রাবণ ডেকে আনে প্লাবন, আর তাতেই ভেসে গেল কবির সাধের খেলাঘর। কবির ভিটেতে জলপরিকন্যা উদাস নয়নে শ্রাবণের বন্যার দিকে তাকিয়ে থাকে। ভিটের চিহ্ন বহন করতে দাঁড়িয়ে আছে কেবল একখানি হিজল গাছ। কবি অশ্রুজলে ভাসেন, কিন্তু জলপরির চোখে যেন কোনো জলবিন্দু নেই। জলের ছিটাতে মাঠের আগুন নিভে যায় ঠিকই, কিন্তু রাবণের চিতাকে কিছুতেই নেভানো যায় না। এই শ্রাবণ কবির বুকের ভেতরে এক দুঃসহ দহনজ্বালা ধরিয়ে দিয়েছে। শ্রাবণ তো শীতল করে, কিন্তু এই শ্রাবণ বুকে আগুন ধরিয়েছে। একটি বছর পর শ্রাবণ ফিরে এসেছে, তবে কবির যেন আর ফেরার আশা নেই। কারণ, শ্রাবণের বন্যা তাঁর সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এমনভাবেই বিধাতা কবিকে গৃহহারা করেছেন।


এই আর্টিকেলে আমরা অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের ষষ্ঠ পাঠের অন্তর্গত ‘আষাঢ়ের কোন ভেজা পথে’-এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছি।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। যদি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে, তবে আমাদের টেলিগ্রামে যোগাযোগ করুন; আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। এছাড়া, লেখাটি প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধু বা সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Please Share This Article

Related Posts

'নিজের আনন্দের এ হিসাবে তুমিও একজন দেশ আবিষ্কারক।' — উক্তিটির তাৎপর্য নিজের ভাষায় লেখো।

‘নিজের আনন্দের এ হিসাবে তুমিও একজন দেশ আবিষ্কারক।’ — উক্তিটির তাৎপর্য নিজের ভাষায় লেখো।

'কাহাকে সে কী করিয়া বুঝাইবে সে কী আনন্দ!' - 'সে' কে? কখন তার এমন অনুভূতি হত?

‘কাহাকে সে কী করিয়া বুঝাইবে সে কী আনন্দ!’—’সে’ কে? কখন তার এমন অনুভূতি হত?

'বইখানাতে যাঁহাদের গল্প আছে সে ওইরকম হইতে চায়।'—কোন্ বইয়ের কথা বলা হয়েছে? অপু কীরকম হতে চায়?

‘বইখানাতে যাঁহাদের গল্প আছে সে ওইরকম হইতে চায়।’—কোন্ বইয়ের কথা বলা হয়েছে? অপু কীরকম হতে চায়?

About The Author

Souvick

Tags

Leave a Comment

SolutionWbbse

"SolutionWbbse" শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন অধ্যয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গাইডলাইন, এবং বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সাহায্য প্রদান করা হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল বিষয়ের শিক্ষণীয় উপকরণ সহজেই সকল শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

Editor Picks

‘নিজের আনন্দের এ হিসাবে তুমিও একজন দেশ আবিষ্কারক।’ — উক্তিটির তাৎপর্য নিজের ভাষায় লেখো।

‘কাহাকে সে কী করিয়া বুঝাইবে সে কী আনন্দ!’—’সে’ কে? কখন তার এমন অনুভূতি হত?

‘বইখানাতে যাঁহাদের গল্প আছে সে ওইরকম হইতে চায়।’—কোন্ বইয়ের কথা বলা হয়েছে? অপু কীরকম হতে চায়?

‘ব্যাপারটা কী দেখিতে সকলে ছুটিয়া গেলেন।’—কারা ব্যাপার দেখতে ছুটে এসেছিল? তারা কী ব্যাপার দেখতে পেল?

‘এই তো বেশ ছিল তাহারা,’ – এরূপ মনোভাবটি কার? তার মনে কোন্ অবস্থায় এমন ভাবনার উদয় হয়েছিল?